জোহরে ইসমায়েলি৷ ছবি: এ ক্রিজানোভিচ, ডয়চে ভেলে
জোহরে ইসমায়েলি৷ ছবি: এ ক্রিজানোভিচ, ডয়চে ভেলে

জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ক্যোরবার ফাউন্ডেশনের ‘ডেইজ অফ এক্সাইল’ অনুষ্ঠানে এবারের আমন্ত্রিত বক্তা ছিলেন আফগানিস্তানে জন্ম নেয়া মডেল ও উদ্যোক্তা জোহরে ইসমায়েলি৷

২৬ এপ্রিল ‘ডেইজ অফ এক্সাইল’ অনুষ্ঠানে এ বছরের ‘স্পিচ অফ এক্সাইল’ বা নির্বাসন বিষয়ে বক্তৃতা দেন তিনি৷ অনুষ্ঠানে যোগ দেন হামবুর্গের একাধিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বুদ্ধিজীবী মহলের একটি বড় অংশের প্রতিনিধিরা৷

বক্তৃতায় তিনি তুলে ধরেন দেশ ছাড়ার কাহিনি ও নতুন পাওয়া স্বাধীনতার সাথে তার পারিবারিক- সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বের কথা৷ পাশাপাশি, নির্বাসিত জীবনের সুযোগ, ক্ষতিসহ নানা দিক তুলে ধরেন সেখানে৷



নতুন করে শুরু

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে জোহরের জন্ম ও বেড়ে ওঠা৷ গৃহযুদ্ধ ও তালেবানের হাত থেকে বাঁচতে ১৩ বছর বয়েসে ১৯৯৮ সালে তাঁর পরিবারের সাথে জার্মানিতে আশ্রয় নেন তিনি৷

ছয়মাস ধরে পাঁচটি দেশ ঘুরে অবশেষে তারা জার্মানির বাভারিয়াতে এসে পৌঁছান, যেখানে তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন৷

মাত্র ১৭ বছর বয়েসে মডেল হিসাবে কাজ করা শুরু করে আফগানিস্তানের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশন মডেল হয়ে ওঠেন জোহরে৷

সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব

জোহরের জীবনের কাহিনি বলে তাঁর শিকড়ের সংস্কৃতির নানা দিকের সাথে নতুন জীবনের সংস্কৃতির মূল্যবোধ, আশা ও দৃষ্টিভঙ্গির দ্বন্দ্বের গল্পও৷ ২০১৭ সালে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জোহরে তুলে ধরেন এই দুই বিপরীতধর্মী সংস্কৃতির মাঝে থাকার দ্বন্দ্বের কথা৷ তিনি বলেন, নিজের সত্ত্বা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এই দ্বিমুখী সংস্কৃতির মাঝে থাকার প্রভাবের বিষয়টি৷

জোহরে বলেন যে ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময় বিদেশি হবার কারণে তাঁকে নানা ধরনের বৈষম্যের সম্মুখীন হতে হয়৷ অন্যদিকে, নিজের বাসা থেকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ের চাপ আসতে থাকে৷ পাশাপাশি, আসতে থাকে মডেলিঙের বিপক্ষে নানা মন্তব্যও৷ কিন্তু বর্ণবৈষম্য ও লিঙ্গবৈষম্যের মুখোমুখি হয়েও জোহরে চান একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে৷

জোহরের জীবনের কাহিনি তিনি আরো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন ২০১৪ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনী ‘মাইনে নয়ে ফ্রাইহাইট’ (আমার নতুন স্বাধীনতা) বইয়ে৷ নানা ধরনের সামাজিক ও শিক্ষামূলক উন্নয়নধর্মী কাজের সাথে যুক্ত ক্যোরবার ফাউন্ডেশনের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা বোঝাতে গিয়ে বলেন, ‘‘যে জায়গা এক সময় ছিল পর্দার আড়ালে, সেখানে আমি একটা বৈচিত্রময় ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখাতে চাইছি৷’’

নির্বাসিত জীবন

তাঁর বক্তৃতায় জোহরে শুধু তাঁর জীবনের নানা বৈষম্যের অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেননি, তুলে ধরেছেন নির্বাসিত জীবনে পাওয়া নানা সুযোগের কথাও৷ নির্বাসন, জোহরের মতে, শুধু একটি ভৌগোলিক অবস্থানগত বিষয় নয়৷ বরং নির্বাসনের অভিজ্ঞতার একটা বড় অংশ মানুষের দ্বারা সৃষ্ট পক্ষপাত, অত্যাচার, দারিদ্র্য, অবিচার ও আগ্রাসনের প্রবণতাও৷

কিন্তু এইসব ছাপিয়ে যায় মানুষের অদম্য স্বাধীনতা পাওয়ার হাহাকার, যা মানুষকে লড়তে, এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেয়৷ ইসমায়েলির মতে, নির্বাসন একরকমের সাহস যোগায়, যার সাহায্যে মানুষ স্বাধীনতার সন্ধান করে ও সফলও হয়৷

‘ডেইজ অফ এক্সাইল’ অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়াও আলোচিত হয় নির্বাসনের নানা অতীত ও বর্তমান৷ অনুষ্ঠানটির মূলে থাকে এক একজনের জীবনের গল্প ও সেই গল্পগুলির আদানপ্রদানের মাধ্যম হয়ে ওঠে এই অনুষ্ঠানটি৷ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নানা আলোচনা, প্রদর্শনী ও পাঠের কর্মশালায় যোগ দিতে পারেন অনলাইনে৷ এ বছরের অনুষ্ঠানটি ছিল এই আয়োজনের পঞ্চম সংস্করণ৷

এসএস/এপিবি

 

অন্যান্য প্রতিবেদন