ভেলিকা ক্লাদুসার মিরাল ক্যাম্পের বাইরের দৃশ্য৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/ডাভোর মিডজিচ
ভেলিকা ক্লাদুসার মিরাল ক্যাম্পের বাইরের দৃশ্য৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/ডাভোর মিডজিচ

বসনিয়ায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে৷ এর মধ্যে শরণার্থী শিবিরগুলোতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ৷ আক্রান্ত অভিবাসী এবং শরণার্থীরা৷

যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই দেশে ছয় হাজারেরও বেশি অভিবাসী প্রতিবেশী দেশ ক্রোয়েশিয়া হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশগুলোতে যাওয়ার আশায় আটকা পড়েছেন৷ অনেকে আনুষ্ঠানিক আশ্রয়শিবিরগুলোতে জায়গা পেলেও অন্যরা ক্রোয়েশিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থায়ী তাঁবু এবং পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে রাত কাটান৷ গত বছর করোনা মহামারী আকার ধারণ করার পর বসনিয়ার শরণার্থী শিবিরগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু এবারের অবস্থা ভয়াবহ৷

এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহে একটি শরণার্থী শিবিরে ১৪৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে৷ অথচ গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত শরণার্থী শিবিরগুলোতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৬৫৷ এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি শিবির থেকে ৫০ জন অভিবাসী বেড়া টপকে পালিয়েছে৷ এরা সবাই কোয়ারান্টাইনে ছিলেন৷ এই ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার সমালোচনা করে বলেছেন, এটা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়৷ করোনা আক্রান্ত এতগুলো মানুষ শরণার্থী শিবিরের বাইরে ঘোরাফেরা করছে, যাদের মনিটর করা সম্ভব হচ্ছে না৷

ভেলিকা ক্লাদুসার মিরাল ক্যাম্পের বাইরের দৃশ্য৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/ডাভোর মিডজিচ
ভেলিকা ক্লাদুসার মিরাল ক্যাম্পের বাইরের দৃশ্য৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/ডাভোর মিডজিচ

বসনিয়ার জনসংখ্যা ৩৩ লাখ৷ এ পর্যন্ত সেখানে করোনায় মারা গেছে সাত হাজারেরও বেশি মানুষ৷ ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বসনিয়ার অবস্থা ভয়াবহ৷ ১৯৯২-৯৫ যুদ্ধের পর থেকে এখনো সেখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি৷


তবে, ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিল, যারা বসনিয়ার অভিবাসী ও শরণার্থীদের এই করোনার সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে, তারা বলছে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে৷ তারা বলছেন, নতুন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের আলাদা রাখা হচ্ছে এবং হাসপাতালে নেয়ার মত কারো অবস্থা ততটা খারাপ নয়৷ বসনিয়ায় টিকা দেয়া শুরু হয়েছে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক দেরিতে৷

 এপিবি/এসএস (এপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন