অভিবাসনের কারণে অনেক অভিবাসী তার পরিবারের নিকটজনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/জুমা প্রেস/ লন্ডন নিউজ পিকচারস/পি হ্যাকেট
অভিবাসনের কারণে অনেক অভিবাসী তার পরিবারের নিকটজনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/জুমা প্রেস/ লন্ডন নিউজ পিকচারস/পি হ্যাকেট

ইউরোপে অভিবাসন ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসার প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকেরই রয়েছে কৌতুহল৷ এক্ষেত্রে সচরাচর যেসব প্রশ্ন মানুষ জানতে চান সেগুলো আমরা এই বিষয় নিয়ে কাজ করা জার্মানভিত্তিক আইনী সংস্থা শ্লুন অ্যান্ড এলসেভেন এর কাছে তুলে ধরেছি৷ আখেন, ডুসেলডর্ফ ও কোলনে রয়েছে তাদের কার্যালয়৷ চলুন জেনে নেই তারা কী জবাব দিচ্ছেন:

শ্লুন অ্যান্ড এলসেভেন এর রয়েছে আইনজীবীদের একটি আন্তর্জাতিক দল, যারা আরবি, জার্মান, ইংরেজি, পর্তুগিজ, রাশিয়ান, স্প্যানিশ ও তুর্কি ভাষায় পারদর্শী৷ বৈশ্বিক অভিবাসী আইন, জার্মান অভিবাসী আইন, বসবাসের অনুমতি, নাগরিত্ব আইনে তারা বিশেষজ্ঞ৷ এখানে তারা ইউরোপে কাজের ভিসা, ইইউ ব্লু কার্ড, স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিতদের বসবাসের অনুমতি, পারিবারিক পুনর্মিলন, শিক্ষা ভিসা, ব্যবসা ভিসা, বসবাসের অনুমতির মেয়াদ বৃদ্ধি, স্থায়ী বসবাস বা জার্মান নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন৷

বিস্তারিত জানতে শ্লুন অ্যান্ড এলসেভেন-এর ওয়েবসাইটেও যেতে পারেন৷

শিশু ও গর্ভবতী

শিশু বা নবজাতক থাকলে কি আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে?

কোনো ব্যক্তির একটি শিশুসন্তান থাকলে কেবল এই কারণেই আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা মোটেও বাড়ে না৷ পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে জেনেভা কনভেনশন অন রিফিউজিস বা শরণার্থী নিয়ে জেনেভা সম্মেলনে যে সংজ্ঞা উল্লেখ করা হয়েছে তার উপরে৷ এই সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি জন্মভূমি বা বাসভূমি ছেড়ে অন্য কোনো দেশে রাষ্ট্রহীন অবস্থায় যদি বসবাস করেন এবং জাতি, ধর্ম, রাজনৈতিক মত বা কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে যদি নিরাপত্তাহীনতা বা হামলার ঝুঁকিতে থাকেন তাহলে তিনি শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন৷

‘‘কিছু ক্ষেত্রে শরণার্থী হওয়ার যে শর্তগুলো রয়েছে শিশু থাকলে সেগুলো পূরণ হতে পারে৷ কাজেই এক্ষেত্রে শিশুটি শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হলে বাবা-মায়ের জন্যেও সম্ভাবনা বাড়ে৷ অবশ্য সেটি প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবেই পরীক্ষা করে দেখা হবে৷’’ -শ্লুন অ্যান্ড এলসেভেন এর আইনজীবী

আমি গর্ভবতী, এরপরও কি আমাকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য কর্মসংস্থান ও গর্ভাবস্থা বিষয়ক আইন দেখতে হবে৷ সেখানে বলা হয়েছে, গর্ভের ছয় সপ্তাহ থেকে মায়েদের কাজে রাখা উচিত না৷ সন্তান জন্মদানের আট সপ্তাহ পর্যন্ত কাজ থেকে তাদের বিরত রাখতে হবে৷ মা ও শিশু দুইজনের জন্যেই ঝুঁকি এড়াতে এই ব্যবস্থার কথা বলা আছে৷ আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ইউরোপ ত্যাগের নির্দেশের ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য হবে৷ কারো বসবাসের অনুমতির ইতি ঘটলে গর্ভবতী মা ও শিশুর ক্ষেত্রে সেটি মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণ হতে পারে, যেমনটা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে৷ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা, একাধিক সন্তান জন্মদান বা আগে সন্তান জন্মদানের সময়ে জটিলতা ছিল কি না, এমন সব ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সময়সীমা আরো বাড়তে পারে৷

আমি গর্ভবতী, এক্ষেত্রে জার্মানিতে সন্তান জন্ম দিলে কি আশ্রয়লাভ সহজ হবে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর, না৷

‘‘সন্তান জন্মদান যদি স্বাভাবিক হয় অথবা মায়ের বসবাসের অনুমতি সংক্রান্ত কাগজপত্র না থাকলে মা ও শিশু দুইজনকেই দেশ ত্যাগ করতে হবে৷’’ -শ্লুন অ্যান্ড এলসেভেন এর আইনজীবী

অবশ্য জন্মদানের পরপরই শিশুকে নিয়ে চলে যাওয়া সম্ভব নয়৷ অর্থাৎ, মা ও শিশু দুইজনই একটি নিরাপদ সময়সীমা পর্যন্ত থাকতে পারবেন৷ এই সময়ের আগে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিতে পারবে না৷ কিছু ক্ষেত্রে শিশুটি বসবাসের অনুমতি পেতে পারে৷ যেমন, মা বা বাবা কোনো একজনের যদি জার্মানিতে বসবাসের অনুমতি থাকে৷

তবে শিশুর কারণে সাধারণত আশ্রয় আবেদন গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে না৷

আমি আশ্রয় বা নাগরিকত্বের অনুমতি পেয়েছি৷ আমার সন্তানরা (কিংবা নির্ভরশীলরা) প্রাপ্তবয়স্ক৷ তারা কি আশ্রয় বা বসবাসের অনুমতি পাবে? নাকি যারা শুধু ১৮ বছরের নিচে তারাই পাবে? এক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশে কি একই নিয়ম?

পারিবারিক আশ্রয়ের ক্ষেত্রে বাবা-মার অবিবাহিত, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা আশ্রয় বা বসবাসের জন্য বিবেচিত হবেন৷ বাবা-মা যখন আশ্রয়ের আবেদন করবেন তখন জার্মানিতে থাকা তাদের সন্তানদের জন্যে আবেদন করতে পারবেন৷ যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত সন্তান পরবর্তীতে জার্মানি আসেন অথবা বাবা মায়ের আশ্রয় আবেদনের পর জন্ম নেন সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে তার জন্মের তথ্য জানাতে হবে৷ এরপর শিশুর আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করা হবে৷

‘‘বাবা-মা সন্তানের জন্য আশ্রয় আবেদনের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেন৷ ১৮ বছরের উপরের সন্তানদের ক্ষেত্রে তাদের নিজেদেরই আবেদন করতে হবে৷’’ -শ্লুন অ্যান্ড এলসেভেন এর আইনজীবী

যদি বাবা-মায়ের যেকোনো একজন জার্মান নাগরিক হন সেক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বসবাসের যথাযথ অনুমতির (ফ্যামিলি রিইউনিয়ন বা পারিবারিক পুনর্মিলনের) জন্য যেকোন সময়ে আবেদন করতে পারেন৷ যদি জার্মান নাগরিকের সন্তানের বয়স ১৮ এর উপরে হয় তাহলে তার নাগরিকত্বের আবেদনও পরীক্ষা করা হবে৷

আমার আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছে৷ কিন্ত আমার স্ত্রী গর্ভবতী এবং আমি বাবা হতে চলেছি৷ সেক্ষেত্রে কি আমার আশ্রয়াবস্থার পরিবর্তন বা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কি বাতিল হবে?

প্রথমত, যদি আপনার সঙ্গী জার্মান অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের নাগরিক হন, এই পরিস্থিতিতে আপনি পারিবারিক পুনর্মিলনের আবেদন জানাতে পারেন৷

দ্বিতীয়ত, আশ্রয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের আবেদন আলাদা করে পরীক্ষা করা হয়৷ যদি আপনি ও আপনার সঙ্গী দুইজনই আশ্রয়প্রার্থী বা শরণার্থী হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে পারিবারিক পুনর্মিলন সম্ভব কীনা দুইজনের ক্ষেত্রেই তা আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে৷

‘‘তৃতীয়ত, (বাবা হতে চলা) কোনো ব্যক্তি যদি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকেন আর তার স্ত্রী বা সঙ্গিনী যদি গর্ভবতী হন, সেক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি স্থগিত হতে পারে৷ জার্মান আইনে সন্তান জন্মদানের সময় পিতার উপস্থিতির গুরুত্বের স্বীকৃতি দেয়া আছে৷’’ -শ্লুন অ্যান্ড এলসেভেন এর আইনজীবী

চতুর্থত, এক্ষেত্রে বাবা কতটা অধিকার লাভ করবেন সেটি নির্ভর করবে শিশু জার্মান নাগরিক হবে কি না তার উপর৷ (যদি শিশুর বাবা-মার একজন জার্মান হয়ে থাকেন৷)

ছবি: ইউএনএইচসিআর (ছবিটি ইউএনএইচসিআর ও এজিআইএ এর একটি প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে তোলা)
ছবি: ইউএনএইচসিআর (ছবিটি ইউএনএইচসিআর ও এজিআইএ এর একটি প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে তোলা)

বিয়ে ও সম্পর্ক

আমি যদি কোনো ইউরোপীয় নাগরিককে বিয়ে করি সেক্ষেত্রে কি ইইউ-তে থাকার অধিকার পাব?

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোন দেশের নাগরিককে বিয়ে করার মাধ্যমে সাথে সাথেই সেখানে বসবাসের অনুমতি মিলবে না৷ তবে পারিবারিক পুনর্মিলন শর্তের অধীনে আপনি বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে পারেন৷

আমি একটি ইসলামিক দেশ থেকে এসেছি এবং আমার বিয়ে বহির্ভূত সন্তান আছে৷ আমার দেশে নারীদের ‘ব্যাভিচারের’ জন্য হত্যা করা হয়৷ একারণে কি আমি সেই নারীকে নিয়ে ইউরোপে এসে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারি? কিংবা সেই নারীর জীবন হুমকির মধ্যে আছে এমন কারণে কি তিনি ইউরোপে আমার সঙ্গে যোগ দিতে পারেন?

সাবসিডিয়ারি প্রোটেকশন বা সহায়ক সুরক্ষা নীতির আলোকে এধরনের পরিস্থিতিতে বসবাসের অনুমতি মিলতে পারে৷ কারণ, দেশে আপনার জীবন হুমকিতে রয়েছে৷ কিন্ত এই সিদ্ধান্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বিবেচিত হবে৷

আমি যদি কোন ব্রিটিশ নাগরিককে বিয়ে করি তাহলে কি আপনাআপনি ইইউ-তে বসবাসের অধিকার লাভ করব?

শরণার্থী বা সুরক্ষা সহায়তার অধীনে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে পারিবারিক পুনর্মিলনের বিষয়টি আরো কিছু শর্তের উপর নির্ভরশীল৷ ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পরীক্ষা করে দেখা হবে আপনি শর্তগুলো পূরণ করেছেন কিনা৷

‘‘বাগদত্ত বা বাগদত্তা হিসেবে পারিবারিক পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হওয়ার জন্য বিয়ের ইচ্ছা রয়েছে কীনা তা পরিস্কারভাবে প্রমাণ করতে হবো-শ্লুন অ্যান্ড এলসেভেন এর আইনজীবী৷’’

আমার বাগদত্তা রয়েছেন৷ আমি যদি আশ্রয় লাভ করি, সেক্ষেত্রে কি তাকেও এখানে আনতে পারব?

শরণার্থী বা সুরক্ষা সহায়তার অধীনে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে পারিবারিক পুনর্মিলনের বিষয়টি আরো কিছু শর্তের উপর নির্ভরশীল৷ ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পরীক্ষা করে দেখা হবে আপনি শর্তগুলো পূরণ করেছেন কিনা৷

বাগদত্তাকে পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য বিবেচিত হতে হলে বিয়ের ইচ্ছার বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে৷

আমার বাগদত্তার নৃগোষ্ঠী আমাকে হত্যা করতে চায়, এ কারণে যদি আমি দেশ ত্যাগ করি সেটি কি আশ্রয়ের জন্য বিবেচিত হবে? আমার কি বাগদত্তাসহ পালিয়ে আসা উচিত নাকি আমি আশ্রয় না পাওয়া পর্যন্ত দেশেই তার থাকা উচিত?

সাধারণত একজন ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত হলে আশ্রয় পান৷ যদি তিনি তার দেশে বিপদের মুখে পড়েন সেক্ষেত্রেও তাকে সুরক্ষা-সহায়তা দেয়া যায় কি না সেটি অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখা হবে৷

দেশে আপনার জীবন হুমকির মুখে এমন বাস্তবতায় আপনি রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন৷ কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতিটি আবেদনই আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে৷ যদি আপনি আপনার বাগদত্তাসহ পালিয়ে আসেন সেক্ষেত্রেও আপনার আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত আলাদাভাবেই নেয়া হবে৷

তৃতীয় কোনো দেশে বিয়ে হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে কি বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হবে?

জার্মানি বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করতে হলে আপনাকে সেই দেশে থাকতে হবে বা সেই দেশের নাগরিক হতে হবে৷ জার্মানিতে আবেদন করেও সেটি জার্মান আইনে প্রযোজ্য নাও হতে পারে৷ উদাহরণস্বরূপ, কেউ নাইজেরিয়ায় বিবাহ নিবন্ধন করলে তার বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে জার্মান আদালত নাইজেরিয়ার আইন বিবেচনা করতে পারে৷ তবে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে এটি আলাদাভাবে বিবেচিত হবে৷

স্ত্রী বা সন্তান তৃতীয় কোন দেশে অবস্থান করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে কি এর কোনো প্রভাব পড়বে?

পরিবার নিজ দেশে বা তৃতীয় কোন দেশে থাকলেও একজন শরণার্থী জার্মানি (অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য কোন দেশে) আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন৷ আশ্রয় প্রক্রিয়া সবসময়ই শরণার্থী ও তার আশ্রয় আবেদনের কারণের উপর নির্ভর করবে৷

এমন হতে পারে যে পরিবারের কেবল একজন রাজনৈতিকভাবে তার দেশে নির্যাতনের শিকার৷ যেমন, কারো বাবা নাইজেরিয়ায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এবং সেকারণে সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়ে ইউরোপের কোনো দেশে পালিয়ে এসেছেন৷

ফ্রাংকফুর্ট বিমানবন্দরে ওড়ার জন্য প্রস্তুত একটি বিমান৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/ডিপিএ/বি রয়েসলার
ফ্রাংকফুর্ট বিমানবন্দরে ওড়ার জন্য প্রস্তুত একটি বিমান৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/ডিপিএ/বি রয়েসলার

পারিবারিক পুনর্মিলন ও প্রত্যর্পণ

পারিবারিক পুনর্মিলনের আবেদনের জন্য কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে? ইউরোপের দেশভেদে কি এই নিয়ম আলাদা নাকি সবার জন্য একই? জার্মানিতে নিয়মটি কেমন? ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা একসাথ হওয়া কতটা কঠিন?

ইউরোপের দেশভেদে পারিবারিক পুনর্মিলন আইনের ভিন্নতা রয়েছে৷ কাজেই শর্তগুলোও আলাদা৷ জার্মানিতে পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য আপনি পরিবারের যার কাছে যাবেন তিনি জার্মান নাগরিক, বিদেশি নাগরিক অথবা জার্মানিতে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত কিনা তার উপরে নির্ভর করবে৷ পরিবারের যিনি জার্মানিতে থাকেন তার বসবাসের অনুমতির ধরনের উপরও শর্তগুলো নির্ভর করবে৷

জরুরিভিত্তিতে, কাজের অনুমতি সাপেক্ষে, নির্দিষ্ট কোনো অনুমতির ভিত্তিতে নাকি মানবিক প্রেক্ষাপটে জার্মানিতে বসবারত ব্যক্তি তার পরিবারের সদস্যদের আনতে চান তার উপর ভিত্তি করে শর্ত আলাদা হতে পারে৷ আবার শিশু ও স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে শর্তের ভিন্নতা রয়েছে৷

পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের নিয়ে আসা কতটা সহজ বা কঠিন?

‘‘শুধু পারিবারিক কারণে পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের আনা যথেষ্ট কঠিন৷ কারণ পারিবারিক পুনর্মিলন নিকট সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য৷ যেমন, স্বামী বা স্ত্রী, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান৷’’ -শ্লুন অ্যান্ড এলসেভেন এর আইনজীবী

অবশ্য ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রেও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে আসা সম্ভব৷ সেক্ষেত্রে অভিবাসনে অন্য যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে৷

আমাদের (পরিবার) চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, কিন্তু আমরা যেতে চাই না৷ আমাদের পাসপোর্ট নেই৷ সেক্ষেত্রে কি কর্তৃপক্ষ পাঠিয়ে দিতে পারবে?

আপনি যদি পাসপোর্টের অধিকারী না হোন সাধারণত আপনাকে বিতাড়িত করা হবে না৷ তবে নতুন পাসপোর্ট দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ আপনার দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে৷ মনে রাখা উচিত যে নতুন পাসপোর্ট গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সামিল না হওয়ার জন্য আপনাকে জরিমানাও করা হতে পারে৷

একাধিক বিয়ের মাধ্যমে কারো যদি একাধিক স্ত্রী থাকে সেক্ষেত্রে পারিবারিক পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় তিনি কাকে আনতে পারবেন? বৃহৎ পরিবার কি জার্মানি বা ইউরোপের অন্য সদস্য দেশে স্বীকৃতি দেয়া হয়?

কারো একজন বৈবাহিক সঙ্গী যদি এরইমধ্যে জার্মানিতে অবস্থান করেন, সেক্ষেত্রে (বহুবিবাহের) অন্য স্বামী বা স্ত্রী পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য বিবেচিত হবেন না৷

এসএস

 

অন্যান্য প্রতিবেদন