ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইওএমের সহায়তায় দেশে ফিরছেন বাংলাদেশিরা৷ ছবি: আইওএম
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইওএমের সহায়তায় দেশে ফিরছেন বাংলাদেশিরা৷ ছবি: আইওএম

আইওএম বা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন বাংলাদেশ সরকারের সাথে মিলে লিবিয়া থেকে ১৬০জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরতে সাহায্য করেছে৷ জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক এই সংস্থাটি সম্প্রতি একটি বিবৃতি দিয়ে এই তথ্য জানায়৷

আইওএম-এর ভলান্টারি হিউম্যানিটারিয়ান রিটার্ন (ভিএইচআর) বা স্বেচ্ছায় মানবতামূলক প্রত্যাবর্তন প্রকল্পের আওতায় মোট ১৬০ বাংলাদেশি নাগরিক লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন৷ এই কাজে আইওএমের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বাংলাদেশ সরকার৷

লিবিয়ার বেনগাজি থেকে ৪ মে বেরিয়ে একটি বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরদিন এসে পৌঁছায়৷ কোভিড সংক্রমণজনিত বিধিনিষেধের কড়াকড়ি ও সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবের ফলে এই বাংলাদেশি অভিবাসীরা সেখানে আটকা পড়েন৷ লিবিয়া কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই মানুষদের ঘরে ফিরতে সাহায্য করে৷

লিবিয়া ছাড়ার নিয়মিত ও নিরাপদ পন্থা

আইওএম-এর লিবিয়া কার্যালয়ের প্রধান ফেডেরিকো সোডা বলেন, ‘‘করোনা অতিমারি লিবিয়াতে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে তার প্রভাব এসে পড়েছে হাজার হাজার অভিবাসীদের জীবনে৷ চাকরি হারিয়েছেন অনেকে৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আইওএম-এর ভিএইচআর প্রকল্পই লিবিয়া থেকে নিরাপদে, সম্মানের সাথে নিয়মিত পথে অভিবাসীদের ঘরে ফেরানোর একমাত্র পন্থা৷’’

‘‘এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জটিল হবার কারণে তার বাস্তবায়ন শুধু আইওএম, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও বেনগাজিতে লিবিয়া কর্তৃপক্ষের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্ভব৷ এই সহযোগিতাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷’’ বলেন সোডা৷

দেশে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবার আগে, অভিবাসীদের মেডিকাল পরীক্ষা করা হয়৷ আইওএম তাদের এই যাত্রা সম্বন্ধে ও অন্যান্য নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শ দেয়৷

আইওএম জানিয়েছে যে তারা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা করিয়েছে ও তাদের পিপিই কিট দিয়েছে৷

মূলস্রোতে ফিরতে সহায়তা

ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশি সরকারের প্রতিনিধি ও আইওএম-কর্মীরা৷ অভিবাসীদের অর্থসাহায্য দেওয়া হয় বাকি যাত্রা সম্পন্ন করার জন্য৷

এছাড়াও, দেশে সার্বিকভাবে মূলস্রোতে ফিরতে আইওএম অভিবাসীদের একটি বিশেষ অর্থসাহায্য করবে৷ আইওএম বাংলাদেশের প্রধান জিওর্জি জিগাউরি বলেন, ‘‘যারা সম্মানের সাথে নিরাপদ পথে দেশে ফিরতে চান, তাদের মূলস্রোতে ফিরতে সাহায্য করা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷’’

‘‘তা করতে, আমরা বাংলাদেশ সরকারের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছি ও করব৷ এর জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ৷’’

২০১৯ সাল থেকে, দুই হাজার ৯০০ বাংলাদেশি এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন লিবিয়া থেকে৷ এই প্রকল্পটি ইইউ-আইওএম-এর অভিবাসী সুরক্ষা ও রি-ইন্টিগ্রেশন কার্যক্রমের অংশ৷

এসএস/কেএম (আনসা)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন