৩ আগট ২০২০ সালে ইতালির ল্যাম্পাডুসা বন্দরে আসা অভিবাসীদের একটি নৌকা । ছবি: আনসা
৩ আগট ২০২০ সালে ইতালির ল্যাম্পাডুসা বন্দরে আসা অভিবাসীদের একটি নৌকা । ছবি: আনসা

রোম এবং ইউরোপীয় কমিশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রথম দেশ হিসেবে ইটালি থেকে শরণার্থী নেয়ার কথা জানিয়েছে আয়ারল্যান্ড। সম্প্রতি ইটালি পৌঁছেছেন এমন দশজন আশ্রয়প্রার্থীকে স্বাগত জানানোর ঘোষণা দিয়েছে ডাবলিন।

সংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাটি নগণ্য হলেও বিষয়টিকে প্রতীকী হিসেবে ধরে নেয়া হচ্ছে ৷ রোম ও ইউরোপীয় কমিশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখন পর্যন্ত শুধু আয়ারল্যান্ডই ইটালি থেকে শরণার্থী নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে৷ 

ইউরোপীয় ইউনিয়নে আয়ারল্যান্ডের স্থায়ী প্রতিনিধির মুখপাত্র এএফপিকে জানান, ‘‘আমরা সংহতির উদাহরণ হিসাবে দশ অভিবাসীকে গ্রহণ করার মাধ্যমে ইটালিকে সহায়তা করছি৷’’

কয়েক সপ্তাহ আগে টিউনিসিয়া ও লিবিয়া থেকে ২২০০ এরও বেশি অভিবাসী কয়েকদিনের ব্যবধানে ইটালির দ্বীপ লাম্পেদুসায় পৌঁছান৷

তার মধ্যে কিছু অভিবাসীর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য গত সপ্তাহে ইইউ সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ইউরোপীয় কমিশনার উলভা ইউহানসন ও ইটালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুচানা ল্যামোরজেসে৷


‘আমরা সদস্য দেশগুলিকে সংহতি প্রদর্শনে উৎসাহ দিচ্ছি’


ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘আয়ারল্যান্ড ছাড়া আর কোনো দেশ এখন পর্যন্ত ইটালিতে আগত আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। সবার সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, এবং আমরা অভিবাসীদের বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরের চেষ্টার অংশ হিসেবে সদস্য দেশগুলিকে সংহতি প্রদর্শনে উৎসাহ দিচ্ছি৷’’

আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তরের জন্য পুনরায় একটি অস্থায়ী প্রক্রিয়া চালু করতে ফ্রান্স এবং জার্মানির সাথে আলোচনার কথা জানিয়েছেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি৷ ২০১২ সালে শরণার্থীর ভার ভাগাভাগি করে নেয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো মাল্টায় একমত হয়েছিল৷

ইটালি সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মে পর্যন্ত উত্তর আফ্রিকার উপকূল ছেড়ে প্রায় ১৩ হাজার ৩০০ মানুষ নৌকায় লাম্পেদুসা ও সিসিলিতে পৌঁছেছেন৷ যেটি ২০২০ সালের একই সময়ের চেয়ে তিনগুন এবং ২০১৯ সালের চেয়ে দশগুণ বেশি৷

পুলিশ ইউনিয়নের সদস্য ডোমেনিকো পিয়ানিস মে মাসের প্রথম দিকে বলেছিলেন, ‘‘লাম্পেদুসায় পরিস্থিতি আক্ষরিক অর্থেই ভয়াবহ৷’’ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় দুই হাজার ১০০ এরও বেশি অভিবাসী প্রবেশের পরে তিনি বলেন, ‘‘যদি আমাদেরকে আজকের মতো আর একদিন পার করতে হয় তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখা আর সম্ভব হবে না৷’’

ব্যস্ততম ও মারাত্মক পথ

আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা-আইওএম এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর পার হতে গিয়ে বছরের শুরু থেকে ইতোমধ্যে ৬৬৭ জন অভিবাসী নিহত হয়েছেন৷ মধ্য ভূমধ্যসাগরের ইটালি ও মাল্টা যাওয়ার রাস্তাটি সবচেয়ে ব্যস্তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে প্রায় ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেসব দেশে অভিবাসীরা পৌঁছাচ্ছেন (ইটালি, গ্রিস, স্পেন, মাল্টা) তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় কমিশন আশ্রয় ব্যবস্থার একটি সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছিল৷

সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে আসাটা বেশ কঠিন৷ কেননা এখন পর্যন্ত অস্থায়ী কিছু ব্যবস্থার অধীনেই বিভিন্ন সময়ে শরণার্থীদের বিভিন্ন দেশ গ্রহণ করেছে, যা পুরোটাই নির্ভর করে সদস্য দেশগুলোর আগ্রহের উপরে৷ 



এমএইউ/এফএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন