সিসিলির কাতানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শরণার্থী শিক্ষার্থীরা । ছবি: আনসা
সিসিলির কাতানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শরণার্থী শিক্ষার্থীরা । ছবি: আনসা

১৯০,০০০ নিয়মিত অভিবাসীর সার্বিক উন্নয়নের সুবিধার্থে ইটালির সিসিলি কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটির প্রতিটি প্রদেশে একটি করে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে।

সিসিলিতে বসবাসরত বৈধ অভিবাসীদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল অঞ্চলটির কর্তৃপক্ষ। যেসব অভিবাসীদের বসবাসের বৈধ অনুমতি বা রেসিডেন্স পারমিট আছে তাদের জন্য প্রতিটি প্রদেশে একটি করে সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে সিসিলি দ্বীপ কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৪ মিলিয়ন ইউরো। প্রকল্পটি কৃষি শিল্পের ব্যাপক উন্নয়নের জন্য গঠিত আন্তঃআঞ্চলিক ‘সুপ্রেম’ তহবিলের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে।

সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হচ্ছে, সিসিলিতে বসবাসের জন্য যেসব অভিবাসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের জন্য সরকারী পরিষেবাগুলি সহজ করা। সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে অভিবাসীদের প্রশাসনিক, আবাসন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিষেবাগুলির বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হবে। 

সমাজে ইন্টিগ্রেশন অপরিহার্য


সিসিলি কর্তৃপক্ষের আঞ্চলিক সামাজিক বিষয়ক উপদেষ্টা আন্তোনিও স্ক্যাভোন স্থানীয় দৈনিক লা সিসিলিয়াকে বলেন, "নিয়মিত অভিবাসীরা আমাদের সামাজিক কাঠামো ও বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। উদাহরণস্বরুপ কৃষি ক্ষেত্রে অনেক অভিবাসী শ্রমিক ​​কর্মরত রয়েছেন। এই কারণেই তাদের ইন্টিগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং সামাজিক জীবনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য ৷" এছাড়া অভিবাসীদেরকে শ্রমবাজারে তাদের অবস্থান সংহত করার জন্য সাক্ষরতা এবং বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে যেন তাদেরকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে কারো উপর নির্ভরশীল হতে না হয় ।

এই পদক্ষেপের কারণে দ্বীপটিতে নিয়মিতভাবে বসবাসকারী ১৯০,০০০ অভিবাসীর জন্য প্রযোজ্য হবে যেটি সিসিলির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪% এর নীচে। অভিবাসীদের বেশিরভাগ রোমানিয়া, টিউনিশিয়া, মরক্কো, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা থেকে আগত। তারা পুরো দ্বীপে ছড়িয়ে থাকলেও মূলত পালেমোর, কাতানে এবং ট্রাপানি শহরে তাদের বড় একটি অংশ বসবাস করে থাকেন৷

যারা সিসিলি কে বেছে নিয়েছেন


২০১৩ সালের ১০ আগস্ট কাতানে উপকূলে ছয় অভিবাসী ডুবে মারা যাওয়ার পর থেকেই আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সিসিলি হয়ে উঠে ইউরোপের অন্যতম প্রবেশপথ।

পালেমোর পেড্রো আরুপে ইনস্টিটিউটের অধীনে মাইগ্রেশন অবজারভেটরির রিপোর্টের লেখক সেরেনেলা গ্রেকো স্থানীয় সিসিলিয়া টু দৈনিককে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “বেশিরভাগ অভিবাসী সিসিলিতে বৈধতা পাওয়ার পরে ইতালির উত্তরে এমিলিয়া-রোমগনা বা লম্বার্ডি শহরে বসবাসের উদ্দেশ্যে চলে যান। এ কারণে দেখা যাচ্ছে সিসিলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিবাসীদের ভর্তির হার খুবই কম। যদিও এই ব্যক্তিরা এবং তাদের দক্ষতা সার্বিকভাবে সিসিলি সমাজে ব্যাপক অবদান রাখতে পারত৷"

প্রতি বছর কয়েক হাজার অভিবাসী এখনও সিসিলিকে তাদের বসবাসের শহর হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। ২০১৮ সালে দ্বীপ কর্তৃপক্ষ ১৪,৮১৫ টি রেসিডেন্ট পারমিট বা বসবাসের অনুমতিপত্র অনুমোদন করেছে যা গত বছরের তুলনায় ১০% বেশি। পেড্রো আরুপে ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই বছরে ২,৪৩৩ জন বিদেশি ইটালীয় জাতীয়তা অর্জন করেছেন যাদের বেশিরভাগ মহিলা। সিসিলিতে আগতরা জীবিকা নির্বাহের জন্য মূলত কৃষি খাতকে বেছে নেন। কৃষি খাতে প্রতি বছর অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে যেমন ২০১৮ সালে ২৭ হাজার চাকুরি সৃষ্টি হয় যেটি ২০০৯ সালে আরো ৯ হাজার বৃদ্ধি পায়।



এমএইউ/এআই 


 

অন্যান্য প্রতিবেদন