ফাইল ফটো: বসনিয়ার লিপা শিবিরের সামনে অভিবাসীদের  ভিড় | ফটো: ইপিএ/ফাহিম দিমির
ফাইল ফটো: বসনিয়ার লিপা শিবিরের সামনে অভিবাসীদের ভিড় | ফটো: ইপিএ/ফাহিম দিমির

বসনিয়ার বিহাচ শহরের কাছের একটি পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেয়া আড়াইশ’র মতো অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আনুষ্ঠানিক লিপা শিবিরে সরিয়ে নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ৷ আনুষ্ঠানিক শিবিরগুলোতে অভিবাসীদের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় নানা সুযোগসুবিধা থাকে, যা অনানুষ্ঠানিক শিবিরে পাওয়া যায় না৷

প্রায় আড়াইশ’ অভিবাসনপ্রত্যাশী বুধবার ভোরে পুলিশের সহায়তায় একটি পরিত্যক্ত অবসরকালীন ভবন থেকে আনুষ্ঠানিক অভিবাসী শিবিরে পৌঁছেছেন৷ ইউরাঅ্যাক্টিভ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে এই তথ্য৷ 

সংবাদ সংস্থাটি লিখেছে যে, বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংবাদপত্র অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সরিয়ে নেয়ার এই সংবাদ প্রকাশ করেছে৷ বিহাচের বিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পরিত্যক্ত ভবনটি থেকে তাদের সরিয়ে নেয়ার পরপরই নগর কর্তৃপক্ষ সেটিকে পরিষ্কার করেছে এবং কেউ যাতে সেটিতে আর ঢুকতে না পারে এজন্য বেড়া দিয়ে দিয়েছে৷

বিহাচের মেয়র সুরাত ফাজলিক অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন৷ তবে তিনি জানিয়েছেন, এই কার্যক্রম আরো কয়েকদিন ধরে চলবে৷ ক্লিক্স নিউজ ওয়েবসাইটকে মেয়র বলেন, ‘‘শহরের আশেপাশে আরো কয়েকটি জায়গা রয়েছে, যেখানে অভিবাসীরা অবস্থান করছে৷ তাদের সবাইকে আশ্রয় দেয়ার মতো স্থান লিপা শিবিরে রয়েছে৷’’

বার্তাসংস্থা এপিও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে৷ একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অন্য দেশ থেকে আগত ব্যক্তিরা পরিত্যক্ত ভবনটির বাইরে নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে সারিবদ্ধভাবে বাসে উঠেছেন৷ সেসময় কাছেই পুলিশের পাহারা ছিল৷ 

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর হিসেব অনুযায়ী গত মার্চ অবধি বসনিয়ায় অবস্থানকারী শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৬,৭৩৪ জন৷ তবে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, শীতের প্রকোপ কমে যাওয়ায় পশ্চিম ইউরোপমুখী বলকান রুটে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা আবারো বাড়তে শুরু করেছে৷ সাধারণত গরমের সময় বসনিয়া থেকে ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত অতিক্রম করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা৷ 

বসনিয়াতে অবস্থান নেয়া অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীই দেশটিতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেন না৷ ইউএনএইচসিআর-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ অবধি মাত্র ১.০৬১ জন বসনিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করেছেন৷ সংস্থাটির হিসেব অনুযায়ী, ২০২০ সালে বসনিয়ার উপর দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল ১৬,০০০ জন৷

এআই/এসিবি

 

অন্যান্য প্রতিবেদন