২০২১ সালের ২১ শে এপ্রিল কোপেনহেগেনে  অভিবাসন নীতি সংকোচনের  প্রতিবাদে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভার ছবি। ছবি: এপি
২০২১ সালের ২১ শে এপ্রিল কোপেনহেগেনে অভিবাসন নীতি সংকোচনের প্রতিবাদে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভার ছবি। ছবি: এপি

ডেনমার্কের প্রায় ২০টি শহরে শতাধিক সিরিয়ান শরণার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৯ মে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। চলতি বছরের শুরুতে দেশটির সোশ্যাল ডেমোক্রেট সরকার সিরিয়ার দামেস্ক শহরকে নিরাপদ বিবেচনা করে শতাধিক সিরিয়ান শরণার্থীর রেসিডেন্ট পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

বুধবার (১৯ মে) কোপেনহেগেন শহরের টাউন হল চত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে অনেক পিতা তার সন্তানদের নিয়ে যোগ দেন আর শিক্ষার্থীরা এসেছিলেন তাদের বন্ধুদের সাথে নিয়ে। এছাড়া বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা অনেক পরিবারের সদস্যরাও যোগ দিয়েছিলেন বিক্ষোভে।

 কয়েক মাস ধরে যাচাই বাছায়ের পরে ড্যানিশ সরকার সিরিয়ার দামেস্ক এবং এর আশেপাশের অঞ্চলগুলোকে নিরাপদ তালিকায় যোগ করে। ড্যানিশ অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এর ফলশ্রুতিতে ২৪৮ জন সিরিয়ান শরণার্থীর বসবাসের অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ড্যানিশ সরকার। 

আরও পড়ুন > বিতর্কিত ‘‘ঘেটো’’ আইন আরও কঠোর করতে চায় ডেনমার্ক

‘সিরিয়া আমাদের জন্য নিরাপদ নয়’

প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণকারীদের একজন আব্দু আল আতা রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যশনাল (আরএফই) কে বলেন, “আমাকে বাশার আল আসাদের বাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়েছিল৷ পরে আমি সেখান থেকে পালিয়ে আসি”। 

তিনি আরো বলেন, “আমরা সবাই জানি বাশার আল আসাদ থাকা অবস্থায় সিরিয়া কখনোই একটি নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেনা। এসব বিবেচনায় না নিয়ে ড্যানিশ সরকার উল্টো আমার মা এবং আমার ১০ ও ১২ বছর বয়সি দুই মেয়ের বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এখন তাদেরকে আবার সিরিয়ায় মৃত্যুকুপে ফিরে যেতে হবে অথবা ডেনমার্কে ডিটেনশন সেন্টারে থাকতে হবে৷” 

রেসিডেন্ট পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত আসার পরে স্বেচ্ছায় সিরিয়া ফিরে যেতে তিন মাস সময় দেয়া হয়। তিন মাসের মধ্যে কেউ না গেলে অথবা কোপেনহেগেন ও দামেস্কের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে পাঠানো সম্ভব না হলে তাদেরকে ড্যানিশ সরকারের নির্ধারিত প্রশাসনিক ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হবে। 

‘লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত’

বলাবাহুল্য, ডেনমার্ক এবং ইউরোপে এই জাতীয় পদক্ষেপ নজিরবিহীন। প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণকারী অ্যালিসিয়া বলেন, “আমরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে লজ্জিত। সরকার আরও কঠিন আইন প্রণয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’’

  প্রতিবাদকারীরা জানান যে এসব সিদ্ধান্ত কখনো ড্যানিশ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা। 

আরও পড়ুন >> ডেনমার্কে কঠোর হচ্ছে অভিবাসীদের নাগরিকত্ব আবেদনের শর্ত

‘‘মূলত সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা ভোটের সময় দেয়া ‘ডেনমার্ক হবে শরণার্থী শূন্য’ প্রতিশ্রুতিটি পালনের চেষ্টা করছে । আমরা দেখতে পাচ্ছি তারা যেকোন মূল্যে এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে চেষ্টা করে যাচ্ছে," মনে করেন প্রতিবাদকারীরা৷  

অ্যালিসিয়া বলেন, “সিরিয়া সহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের ডেনামর্কের বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরের ব্যাপারে আমাদের দ্বিমত নেই। কিন্তু সিরিয়ায় ফেরত পাঠানোর তো প্রশ্নই আসে না। তাদেরকে যদি চলে যেতে হয়, সেক্ষেত্রে বহিষ্কার হওয়া শরণার্থীদের স্বাগত জানাতে ইউরোপের অন্য যেকোন একটি দেশ আমরা অবশ্যই খুঁজে পাবো৷" 


প্রতিবেদন: রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যশনাল (আরএফই)


এমএইউ/এআই


 

অন্যান্য প্রতিবেদন