২০২২ এবং ২০২৩ সালে ১৬০০ শরণার্থী নেবে সুইজারল্যান্ড।  ছবি: Creative Commons
২০২২ এবং ২০২৩ সালে ১৬০০ শরণার্থী নেবে সুইজারল্যান্ড। ছবি: Creative Commons

২০২২ এবং ২০২৩ সালে ১,৬০০ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকার। গত সপ্তাহে দেশটির সরকার এই প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দেয়। মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের কারণে দেশ ত্যাগে বাধ্য আশ্রয়প্রার্থীরা এক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে নিপীড়নের কারণে দেশ ত্যাগে বাধ্য নাগরিকদেরও বিবেচনায় রাখা হবে।

২০২২ এবং ২০২৩ সালে সুইজারল্যান্ড ১৬০০ শরণার্থী গ্রহণ করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বিত স্থানান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুধবার ১৯ মে সুইস সরকার এই ঘোষণা দেয়। তবে শরণার্থীদের মধ্যে মূলত মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতে ভুক্তভোগীদের আগে আশ্রয় দেয়া হবে। এর পাশাপাশি নিজের দেশে নির্যাতনের হাত থেকে পালিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থীদেরও পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত সমস্যা বিবেচনায় আশ্রয় দেয়া হবে ।

তবে আশ্রয় ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সুইস কর্তৃপক্ষ নির্বাচিত শরণার্থীদের সর্বোচ্চ পাচঁটি ভিন্ন দেশ থেকে গ্রহণ করার ইঙ্গিত দিয়েছে ।

১৬০০ শরণার্থী গ্রহণ করার সংখ্যাটি মূলত দেশটির বর্তমান অভিবাসন কোটার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সুইস সরকার জানিয়েছে, করোনা মহামারীর কারণে এই কর্মসূচির আওতায় নতুন করে শরণার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এটি পূরণ করতে সরকার আরো ৩০০ জন অতিরিক্ত শরণার্থী গ্রহণ করবে।


আরও পড়ুন >>>> সুইজারল্যান্ডে আশ্রয় কেন্দ্রে র্নিযাতনের শিকার শরণার্থীরা, অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন

মহামারীর কারণে অভিবাসীদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি গ্রিসে আসা ব্যাপক সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তর করতে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

২০১৯ সালে সাক্ষরিত মাল্টা চুক্তি অনুযায়ী ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, রোমানিয়া এবং ফিনল্যান্ড সহ প্রায় ১০টি দেশে অভিবাসীদের স্থানান্তর করা হবে। তবে ইউরোপে অভিবাসীদের বন্টনের এই প্রক্রিয়াকে দক্ষিণ ইউরোপে অবস্থিত দেশগুলো সমালোচনা করে আসছে। 

অভিবাসী আগমনের দিক থেকে প্রথম সারিতে আছে ইটালি, এ বছর ১লা জানুয়ারি থেকে ১১ ই মে এর মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ লাম্পেদুসা ও সিসিলি দ্বীপে প্রবেশ করেছে। যেটি গত বছরের একই সময়ের তিনগুণ এবং ২০১৯ সালের চেয়ে প্রায় দশগুণ বেশি। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সীমান্তে জরুরি ভিত্তিতে একটি নতুন এবং যুগোপযোগী আশ্রয় ব্যবস্থা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে রোম কর্তৃপক্ষ।


এমএইউ/এপিবি


 

অন্যান্য প্রতিবেদন