স্পেনের ছিটমহল সেউটায়  এক মরোক্কান কিশোরের জানাজা হচ্ছে৷ ছবিটি ২২ শে মে’র৷ মরক্কো থেকে  স্পেনে আসতে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় তার৷  ছবি: এপি
স্পেনের ছিটমহল সেউটায় এক মরোক্কান কিশোরের জানাজা হচ্ছে৷ ছবিটি ২২ শে মে’র৷ মরক্কো থেকে স্পেনে আসতে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় তার৷ ছবি: এপি

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিভাগ ইইউ এর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে অবিলম্বে তা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে৷ বুধবার তারা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ভেতর দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করার সময় অভিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি এজন্য দায়ী বলে মনে করছেন তারা৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্তহীনতা এবং নীতির কারণে অনেক মানুষ ইউরেোপে পৌঁছাতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে৷ এজন্য লিবিয়া কর্তৃপক্ষকেও দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে৷ 

লিবিয়া এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শরণার্থী উদ্ধারের নীতিতে অবিলম্বে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিভাগ৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসীদের মৌলিক অধিকার, সম্মানের লঙ্ঘন হচ্ছে, এমনকি প্রাণও হারাতে হচ্ছে৷ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিভাগের প্রধান মিশেলে ব্যাশেলেট বলেছেন, ‘‘সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, ভূমধ্যসাগরে এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এত কষ্ট এবং জীবন বাঁচানো যেতো৷ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, কারণ উদ্ধারকর্মীরা অনেক দেরিতে পৌঁছেছে বা উদ্ধার করতেই যায়নি৷ আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তৃপক্ষের চেয়ে লিবিয়ার কোস্টগার্ড সবচেয়ে বেশি উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেছে৷ তারা অনেক মানুষকে লিবিয়া ফেরত নিয়ে গেছে, যা সেই মানুষগুলোর জন্য মোটেও নিরাপদ জায়গা নয়৷’’

ব্যাশেলেট ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অভিবাসীদের জন্য আরও বৈধ পথ তৈরি করা যায়৷ তিনি বলেছে, ‘‘জানি এটা খুব সহজ কাজ নয়৷ কিন্তু আমরা এভাবে লিবিয়া বা অন্য কোন দেশ থেকে অভিবাসীদের বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিতে পারি না, যেখানে তাদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে৷’’

তিনি ত্রিপোলি এবং ব্রাসেলসকে জরুরিভিত্তিতে এসএআর নীতি সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এসএআর অভিযানগুলো কমিয়ে দিয়েছে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্ধার কাজে বাধা দিচ্ছে৷ ২০২০ সালে অন্তত ১০ হাজার ৩৫২ জন অভিবাসীকে লিবিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছে সেদেশের কোস্টগার্ড৷ এর আগের বছর এই সংখ্যাটা ছিলো ৮ হাজার ৪০৩৷ লিবিয়ায় তাদের উপর হয়রানি ও নির্যাতনের যেসব ঘটনা ঘটে, তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল বলে প্রতিবেদনেনে উল্লেঞ করা হয়েছে৷

এপিবি/কেএম (এএফপি, ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন