ইয়েমেনের মারিবে অভিবাসীরা৷ ছবি: EPA/Yahya Arhab
ইয়েমেনের মারিবে অভিবাসীরা৷ ছবি: EPA/Yahya Arhab

পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে৷ সংক্রমণ রোধে নেয়া পদক্ষেপের কারণে গত বছর ওই অঞ্চলের তিন লাখেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এর নতুন রিপোর্টে এমনটাই জানানো হয়েছে৷ ২০২০ সালে শরণার্থীদের ইয়েমেন হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সংখ্যা অনেক কমেছে৷

আইওএম এর বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা অতিমারির কারণে কড়াকড়ি আরোপ করায় তা পূর্ব আফ্রিকার তিন লাখেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী, শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের উপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে৷

করোনার কারণে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোর সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ মানুষের চলাফেলায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে৷ ফলে কাজের জন্য যেসব মানুষ সীমান্ত পার হয়ে অন্য দেশে যেতো তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং তাদের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে৷

জিবুতি, সোমালিয়া এবং ইয়েমেনে আটকে অনেক মানুষ

২০২০ সালে খুব কম মানুষই ইয়েমেন সীমান্ত অতিক্রম করেছে৷ ফলে পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অনেক শরণার্থী সংঘাতপূর্ণ ইয়েমেনে আটকে পড়েছে৷ 

জাতিসংঘের এই সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘‘জিবুতি, সোমালিয়া এবং ইয়েমেনে লাখো অভিবাসন প্রত্যাশী আটকে পড়েছে৷ এদের বেশিরভাগই ইথিওপিয়ার নাগরিক৷ ইয়েমেন হয়ে এদের অনেকেরই গন্তব্য ছিলো সৌদি আরব৷’’

২০১৯ সালে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোর অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ ইয়েমেন হয়ে অন্যান্য দেশে প্রবেশ করেছিলো৷ ২০২০ সালে সেই সংখ্যাটা কমে হয়েছে ৩৭ হাজার৷ 

আইওএম আরও জানিয়েছে, ইয়েমেনের ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে অনেক মানুষ জিবুতি আর সোমালিয়ায় ফিরে গেছে৷ তবে এখনও সেখানে ৩২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী আটকে আছে এবং এদের বেশিরভাগই খাবার, পানি , নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত৷ এছাড়া এসব মানুষের করোনা টিকা পাওয়া বা করোনা সংক্রান্ত অন্যান্য স্বাস্থ্যসুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই৷

৬৫ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু

আইওএম জানিয়েছে, পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে৷ ২০১৯ সালে যেখানে আফ্রিকার এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উদ্বাস্তুর সংখ্যা ছিলো ৬৩ লাখ, ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ লাখে৷ 

টিগ্রের সংঘাত এবং পঙ্গপালের আক্রমণের কারণে অনেক মানুষ গত বছর গৃহহীন হয়েছে৷ ২০১৯ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পঙ্গপালের ভয়াবহ আক্রমণ হয়েছিল এই অঞ্চলে৷ আর টিগ্রেতে সংঘাতের কারণে অন্তত ১০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে৷

এপিবি/এসএস (আনসা)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন