ফাইল ফটো, রয়টার্স
ফাইল ফটো, রয়টার্স

অভিবাসন ইস্যুতে সবচেয়ে কঠোর নিয়ম নীতি চালু করা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্ক অন্যতম৷ ধনী এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশটি এবার ইউরোপের বাইরে আশ্রয়কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে যেখানে দেশটিতে বসবাসের জন্য আবেদন করা আশ্রয়প্রার্থীদের রাখা হবে৷

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন-এর অভিবাসনবিরোধী সামাজিক গণতন্ত্রী সরকারের নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে অভিবাসী বা শরণার্থীদের ডেনমার্কে যেতে পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করা৷

নতুন নিয়মে ডেনমার্কের সীমান্তে একজন আশ্রয়প্রার্থী আশ্রয়ের আবেদন করার পর তাকে ইউরোপের বাইরে তৃতীয় কোন দেশের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে৷ যদি তার আবেদন গ্রহণ করা হয় তাহলে তখন তাকে তৃতীয় সেই দেশটিতেই বসবাসের সুযোগ দেয়া হবে৷

ডেনমার্ক বিশ্বের অন্যতম সুখী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত৷ তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনবিরোধী কট্টর নিয়মনীতির কারণে শিরোনাম হয়েছে দেশটি৷ দেশটি কোন শরণার্থী রাখতে চায় না৷ সম্প্রতি দেশটি যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার কিছু অংশকে নিরাপদ ঘোষণা করে সিরিয়ার অনেক শরণার্থীর ডেনমার্কে থাকার অনুমতি বাতিল করেছে যাতে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হন৷ এছাড়া দেশটিতে থাকা ‘পশ্চিমা নন’ এমন মানুষদের কমাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযানও চালিয়েছে৷ 

ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের লক্ষ্য হচ্ছে দেশটিতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা চাওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় কোন দেশে আশ্রয় দেয়ার আইনি ভিত্তি তৈরি করা৷ ডেনমার্ক এই প্রক্রিয়ার খরচাপাতি দেবে, তবে আশ্রয়ের আবেদন যাচাই বাছাইয়ের খরচ বহন করবে তৃতীয় সেই দেশটি৷

যদি, এই প্রক্রিয়ায় কারো আবেদন বাতিল হয় তাহলে তিনি তখন যে দেশে থাকবেন, সেই দেশ থেকে তাকে চলে যেতে বলা হবে৷ 

কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ মার্টিন লিমবার্গ পিডারসন এই বিষয়ে বলেন, ‘‘এই প্রক্রিয়ায় যাদের আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে তারাও তৃতীয় দেশটি থেকে ডেনমার্কে ফিরে আসতে পারবেন না৷ তাদেরকে তৃতীয় সেই দেশেই (দেশটির নাম ঘোষণা করেনি ডেনমার্ক) থাকতে হবে যেখানে ডেনমার্কে আশ্রয়ের আবেদন করার পর পাঠানো হয়েছিল৷’’

যদিও এখন পর্যন্ত কোন দেশ ডেনমার্কের এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার জন্য সম্মত হয়নি, তবে দেশটির সরকার জানিয়েছে তারা পাঁচ থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করছে৷ সম্ভাব্য দেশগুলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ডেনমার্ক৷ 

ডেনিশ অভিবাসন মন্ত্রী মেটিয়াস টেসফায় এই বিষয়ে বলেন, ‘‘ডেনমার্কে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের তৃতীয় একটি দেশে পাঠানোর বিষয়টি আন্তর্জাতিক সনদ মেনেই করা হবে৷’’

ডেনিশ গণমাধ্যম ধারনা করছে মিশর, ইরিত্রিয়া এবং ইথিওপিয়া সম্ভাব্য তৃতীয় রাষ্ট্র হতে পারে৷ দেশটি রুয়ান্ডার সাথেও এই বিষয়ে আলোচনা করছে বলে জানা গেছে৷ অতীতে ইসরায়েলের সঙ্গেও এধরনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ডেনিশ গণমাধ্যম৷ 

ডেনমার্কের এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই নীতি আন্তর্জাতিক শরণার্থী সহযোগিতা নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়৷  

২০১৯ সালে মাত্র দুই হাজার ৭১৬ জন ডেনমার্কে আশ্রয়ের আবেদন করেছিল, যা ২০১৫ সালে ইউরোপে অভিবাসন সংকটের সময় করা আবেদনকারীদের তুলনায় আট ভাগের একভাগ৷

এআই/কেএম (এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন