ডেনিশ সীমান্তে বাসে তল্লাশি চালাচ্ছে ডেনিশ পুলিশ৷ ছবি: রয়টার্স
ডেনিশ সীমান্তে বাসে তল্লাশি চালাচ্ছে ডেনিশ পুলিশ৷ ছবি: রয়টার্স

স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশ ডেনমার্ক ইউরোপের বাইরে শরণার্থী জন্য আশ্রয়কেন্দ্র চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

নতুন নিয়মে ডেনমার্কের সীমান্তে একজন আশ্রয়প্রার্থী আশ্রয়ের আবেদন করার পর তাকে ইউরোপের বাইরে তৃতীয় কোনো দেশের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে৷ যদি তার আবেদন গ্রহণ করা হয় তাহলে তখন তাকে তৃতীয় সেই দেশটিতেই বসবাসের সুযোগ দেয়া হবে৷ এ বিষয়ে একটি আইন বৃহস্পতিবার দেশটির সংসদে পাস হয়।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ডেনমার্কের এই আচরণকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার দায়িত্ব 'এড়িয়ে' যাওয়া বলেছে৷

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপো গ্রান্দি এক বিবৃতিতে বলেন, এই আইন কার্যকর হলে তা জোর করে আশ্রয় আবেদনকারীদেরকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাঠাবে, যা ডেনমার্কের ওপর বর্তানো শরণার্থী সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, ‘‘যেভাবে ডেনমার্ক আশ্রয় আবেদনের কাজ ও আবেদনকারীদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্বকে বাইরে ঠেলে দিয়ে দায় এড়াচ্ছে, তার তীব্র বিরোধিতা করছে ইউএনএইচসিআর।’’

ডেনিশ কর্তৃপক্ষের অভিবাসন ইস্যুতে কড়া অবস্থানকে চিরকালই সন্দেহের নজরে দেখে এসেছে ইউএনএইচসিআর। গ্রান্দি জানান যে, ডেনিশ কর্তৃপক্ষকে নানা ধরনের প্রকল্প ও বিকল্প পদক্ষেপের প্রস্তাবও দিয়েছে তারা৷

অভিবাসনে কড়া অবস্থ

অভিবাসন ইস্যুতে ডেনমার্কের অবস্থান ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ অনেকটাই কড়া। জাতিসংঘের নির্ধারিত কোটার চেয়ে বেশি শরণার্থী নিতে অনিচ্ছুক ডেনমার্ক। নতুন আইনের আওতায় ডেনমার্ক সীমান্তে এসে আশ্রয়ের আবেদনকারীকে পাঠানো হবে তৃতীয় কোনো দেশের আশ্রয়কেন্দ্রে। কিন্তু ডেনমার্কের সাথে এমন ব্যবস্থায় এখনও কোনো রাষ্ট্র রাজি হয়নি। কিন্তু ডেনিশ কর্তৃপক্ষের মত, এ বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে তারা৷

গ্রান্দি এ বিষয়ে বলেন, ‘‘ডেনমার্ক ইউএনএইচসিআরের গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘকালের সঙ্গী বলে আমরা তাদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাব। এভাবেই আমাদের একটি উপায় বের করতে হবে যা একদিকে ডেনিশ জনগণের আস্থা পাবে ও অন্যদিকে ডেনমার্কের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতাকেও মাথায় রাখবে।’’

এ বিষয়ে ইউএনইইচসিআরের নর্ডিক ও বাল্টিক রাষ্ট্রগুলির প্রতিনিধি হেনরিক নরডেনটফট বলেন, ‘‘অন্য দেশে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের পাঠানো মোটেই কোনো সমাধান নয়৷ এতে আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক অবস্থানের সাথে ডেনমার্কের অবস্থান সাংঘর্ষিক হবে৷’’

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল টুইটারে ডেনমার্কের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে৷

এসএস/আরআর (রয়টার্স)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন