হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী  ভিক্টর অরবান। ২০১২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ছবি: পিকচার-অ্যালায়েন্স/ডিপিএ/টি. কোভাকস।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ২০১২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ছবি: পিকচার-অ্যালায়েন্স/ডিপিএ/টি. কোভাকস।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে আগামী দুই বছর সব ধরনের অভিবাসী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চান তিনি। তিনি বলেন ইইউ এর দেশগুলোতে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে বহু অভিবাসনপ্রত্যাশী৷

করোনা ভাইরাসের এই সময়ে অভিবাসন অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন এই সমালোচিত নেতা৷ ১১ই জুন রাষ্ট্রীয় বেতারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘দলে দলে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। এ কারণে ইউরোপের দেশগুলোতে দুই বছর অভিবাসন বন্ধ রাখা উচিত৷’’ তবে দুই বছেরর জন্য অভিবাসন বন্ধ রাখার বিষয়ে নিজের মতামতের বিস্তারিত জানাননি ডানপন্থি অরবান।

অভিবাসনবিরোধী মন্তব্যের জন্য বরাবরই সমালোচিত হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী অরবান৷ তিনি মনে করেন যার যেখানে জন্ম সেখানেই থাকা উচিত৷ কারণ এটা জন্মগত ব্যাপার এবং সৃষ্টিকর্তা চান বলেই সেখানে তার জন্ম হয়েছে৷ এর আগে অভিবাসীরা 'মুসলিম অনুপ্রবেশকারী' এবং সব 'সন্ত্রাসীরা মূলত অভিবাসী' এমন মন্তব্য করেছিলেন তিনি। 

গত ডিসম্বরে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস এক রায়ে হাঙ্গেরির অভিবাসন বিষয়ক আইনকে 'অবৈধ' বলে ঘোষণা দেয়। কারণ যেসব অভিবাসন প্রত্যাশী সাহায্য চাচ্ছে, তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সে ধরনের সহযোগিতার কোন উল্লেখ নেই৷ এছাড়া অভিবাসী ঠেকাতে ২০১৫ সালে সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয় হাঙ্গেরি। 


হাঙ্গেরির জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে একলাখ ৯৪ হাজার বিদেশি নাগরিক বৈধভাবে বাস করছে।  এর মধ্যে  ইউরোপের বিভিন্ন দেশের  ৫৭হাজার,  ইউক্রেনের ৩২ হাজার, চীনের  ১৮ হাজার এবং এশিয়ার  অন্যান্য দেশের ৩৫ হাজার নাগরিক আছেন। অরবানের নিষেধাজ্ঞা বহাল হলে তা বিভিন্ন বিদেশি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের উপরও প্রভাব ফেলবে৷

আরআর/এপিবি (ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন