ব্রিটিশ পুলিশের ফরেনসিক শাখা সেই ট্রাকটিকে পরীক্ষা করছেন যেখানে ৩৯ জন অভিবাসী শ্বাসকষ্ট এবং হাইপারথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। ছবি: AP - Alastair Grant
ব্রিটিশ পুলিশের ফরেনসিক শাখা সেই ট্রাকটিকে পরীক্ষা করছেন যেখানে ৩৯ জন অভিবাসী শ্বাসকষ্ট এবং হাইপারথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। ছবি: AP - Alastair Grant

২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে লরিতে ৩৯ জন ভিয়েতনামী অভিবাসীকে পাচারের সময় মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে ইটালির পুলিশ। ১২ জুন একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কথা জানায় ইটালি পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি স্টেফান দামিয়ান ড্রাগোস ২৮ বছর বয়সি রোমানিয়ার নাগরিক। ইটালির পুলিশের এক সংবাদ বিবৃতিতে জানানো হয়, ব্রিটিশ পুলিশের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মিলান পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসনের সাথে জড়িত একটি অপরাধী সংস্থার সাথে যোগসূত্র এবং বিভিন্ন সময়ে অবৈধপথে অভিবাসীদের পরিবহন করতে ট্রাক সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।

২০১৯ সালে নিহত ৩৯ জন ভিয়েতনামী অভিবাসী যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেছিলো। এদের মধ্রে দু’জনের বয়স ছিলো মাত্র ১৫ বছর৷ অভিবাসীরা লরির ভেতর কন্টেইনারে সংকীর্ণ জায়গায় তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং হাইপারথার্মিয়াতে মারা গিয়েছিলো।

২০১৯ সালের অক্টোবরে পূর্ব লন্ডনের একটি লরিতে খুঁজে পাওয়া যায় অভিবাসীদের প্রাণহীন দেহগুলো। এই ঘটনার পরে অবৈধ অভিবাসন এবং মানব পাচারের ঘটনা যুক্তরাজ্যে বেশ আলোচনায় উঠে আসে। অভিবাসীরা অবৈধভাবে প্রবেশের জন্য যে সবধরনের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত তা এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়।  

হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত 

মানবপাচারকারী সংগঠনটির কয়েকজন নেতার মধ্যে একজন ৪১ বছর বয়সি উত্তর আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা রোনান হুজেস। তিনি পেশায় একজন ট্রাক চালক। আরেকজন ৪৩ বছর বয়সি রোমানিয়ার নাগরিক গ্রেওরঘি নিকা। তাদের দুইজনকে গত বছরের জানুয়ারি মাসে মানবপাচার এবং অভিবাসী হত্যার দায়ে ২০ ও ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। 

লাশ উদ্ধার করার সময় ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন মরিস রবিনসন৷ তাকে ১৩ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২৪ বছর বয়সি ইমন হ্যারিসন যিনি ট্রাকটিকে চালিয়ে বেলজিয়ামের জিলবার্গ বন্দরে নিয়ে এসেছিলেন এবং তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি ভেতরে থাকা অভিবাসীদের সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।




এমএইউ/এপিবি- রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল (আরএফআই)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন