বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় শরণার্থী ক্যাম্পে খাবারের জন্য অপেক্ষমান  রোহিঙ্গা শিশুরা। ছবি: কে.এম. আজাদ।
বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় শরণার্থী ক্যাম্পে খাবারের জন্য অপেক্ষমান রোহিঙ্গা শিশুরা। ছবি: কে.এম. আজাদ।

বিশ্বব্যাপী শরণার্থীরা এমন দেশে অবস্থান করছে যে দেশগুলো নিজেরাই অপুষ্টিসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত৷ এমনটাই জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএউচসিআর এর মুখপাত্র ক্রিস মেলসের৷

ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, শরণার্থীদের শতকরা ৮৬ ভাগ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। 

এদিকে বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষ্যে সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারিসহ যুদ্ধ, সংঘাত, নিপীড়ন, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে এক বছরের ব্যবধানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২৯ লাখ বেড়েছে। আর গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। 

প্রতিবেদনের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি ২৪ লাখ৷ এ সংখ্যা ২০১৯ সালে ছিল ছিল ৭ কোটি ৯৫ লাখ। সে হিসেবে এক বছরে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা শতকরা চার ভাগ বেড়েছে৷

ক্রিস মেলসের ডয়চে ভেলেকে বলেন, শরণার্থীদের দুই তৃতীয়াংশই পাঁচটি দেশ থেকে আসছে। দেশগুলো হলো সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমার।

তিনি জানান, অধিকাংশ শরণার্থীই তাদের পাশ্বর্বতী দেশগুলোতে আশ্রয় নেয়। তারা সাধারণত যেখান থেকে এসেছে সেখানে ফেরত যাবার আশায় থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয় না।

প্রতিবেদনে বাস্তুচ্যুতের ঘটনায় শিশুদের বেশি ক্ষতি হওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে৷

জাতিসংঘ বলছে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দশ লাখ শিশু শরণার্থী শিবিরে জন্ম গ্রহণ করেছে৷ এছাড়া বাস্তুচ্যুতের শতকরা ৪২ ভাগ অপ্রাপ্তবয়স্ক৷  তাদের বেশিরভাগই দীর্ঘদিন শরণার্থী হয়ে থাকার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে৷

ক্রিস মেলসের ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অনেক শরণার্থী বিশেষ করে বাবা-মায়েরা আমাকে বলেছে যে, ‘আমাদের বিষয়টি ভুলে যান কারণ আমরা হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম৷ কিন্তু আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য কিছু করুন৷ শিক্ষার সুযোগ পেতে তাদের সাহায্য করুন৷ তাদের একটি সুযোগ দিন৷’’

আরআর/এপিবি (ডিডাব্লিও)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন