উএনএইচসিআর এর শুভেচ্ছা দূত ও অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট।
উএনএইচসিআর এর শুভেচ্ছা দূত ও অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট।

অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট ইউএনএইচসিআর এর শুভেচ্ছা দূত৷ তিনি মনে করেন, করোনা মহামারি আমাদের আরো ভালো করে শরণার্থীদের অবস্থা বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে৷ বিশ্ব শরণার্থী দিবসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেন তিনি৷

কেট বলেন, মহামারির এই সময়ে আমরা যে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছি শরণার্থীদের অবস্থাও ঠিক তাই৷ তিনি বলেন, ‘‘করোনার সময় আমরা অনিশ্চয়তার জীবন কেমন সেটি বুঝতে পেরেছি। আর  বেশিরভাগ শরণার্থী এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে বছরের পর বছর পার করছে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘এখন সুযোগ এসেছে অনিশ্চয়তার সাথে কীভাবে লড়াই করতে হবে তা জানার৷ আর শরণার্থীদের থেকে এর চেয়ে ভালো দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে! বাবা, মা, চিকিৎসক, আইনজীবী এমন শরণার্থীরা যারা নিজেদের কোন ভুলের কারণে নয় সংঘাত বা অন্য পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়িয়েছেন এবং সেই অবস্থার মধ্যে ১৮/১৯ বছর ধরে আছেন, তাদের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করলে এবং গত ১৮ মাসে করোনা মহামারির মধ্যে আমাদের জীবনের তুলনা করলে বোঝা যাবে তারা কি অবস্থার মধ্যে রয়েছেন৷’’

যুদ্ধ, সংঘাতসহ নানা সামাজিক অস্থিরতার কারণে যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তাদের স্মরণে বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালন করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খেলাধুলায় শরণার্থীদের অন্তর্ভূক্তিকরণের আহ্বান জানিয়ে চলতি বছর পালিত হয়েছে  বিশ্ব শরণার্থী দিবস। 

’ইউএনএউচসিআর-এর গিলিয়ান ট্রিগস রয়টার্সকে জানান, সবচেয়ে দুঃখজনক হলো মহামারির এই সময়েও বিশ্বব্যাপী সংঘাত অব্যাহত আছে৷ তিনি বলেন, ‘‘যে দেশগুলো গৃহহীনদের আশ্রয় দিয়েছে তাদের সহায়তা করা দরকার যেনো তারা শরণার্থীদের শিক্ষা, কাজের সুযোগ, শিশুদের স্কুল এবং বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়ে স্বাস্থ্যসেবা ও ভ্যাকসিন দিতে পারে।’’

এদিকে বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষ্যে সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারিসহ যুদ্ধ, নিপীড়ন, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে এক বছরের ব্যবধানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২৯ লাখ বেড়েছে। আর গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। 

প্রতিবেদনের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে শরণার্থীর ৮ কোটি ২৪ লাখ৷ 

অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট বলেন, ‘‘শরণার্থীদের সংখ্যা কমছে না। শরণার্থীদের সংখ্যা এতো বেশি তাদের প্রতি মানবিক আচরণের কথা আমরা ভুলে যাচ্ছি।’’

ইউএনএইচসিআর এর শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ব্লানচেট লেবানন, জর্ডান ও বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন।  রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণও দিয়েছেন তিনি। 

ব্লানচেট মনে করেন শরণার্থীদের ব্যাপারে কাজ করার এটাই উপযুক্ত সময়৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ভাবতে হবে সবাই মিলে কীভাবে বিশ্বকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও মানবিক হিসেবে গড়ে তোলা যায়৷’’

আরআর/এপিবি (রয়টার্স)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন