কালে শহরের নিকটবর্তী কোকেল অঞ্চলে  একটি শরণার্থী ক্যাম্প। সেখানে বসবাসরত নির্বাসিতদের এনজিও ও সংস্থাগুলো থেকে খাদ্য সুবিধা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।। ছবিঃ মেহেদি শেবিল/ইনফোমাইগ্রেন্টস
কালে শহরের নিকটবর্তী কোকেল অঞ্চলে একটি শরণার্থী ক্যাম্প। সেখানে বসবাসরত নির্বাসিতদের এনজিও ও সংস্থাগুলো থেকে খাদ্য সুবিধা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।। ছবিঃ মেহেদি শেবিল/ইনফোমাইগ্রেন্টস

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ফ্রান্সের কালে শহরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বিভিন্ন এনজিও এবং সংস্থাগুলোকে অভিবাসীদের খাদ্য বিতরণ নিষিদ্ধ করে ডিক্রি জারি করেছিল স্থানীয় প্রেফেকচুর কর্তৃপক্ষ। উক্ত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২৬ জুন বিক্ষোভ হয়েছে৷

এদিন ফ্রান্সের উত্তরে কালে শহরে প্রেফেকচুরের জারি করা ডিক্রির বিরুদ্ধে এবং অভিবাসীদের সমর্থনে বিভিন্ন এনজিও এবং সংস্থাগুলো একটি বিক্ষোভের আয়োজন করে। উল্লেখ্য ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কিছু এনজিও শহরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে অভিবাসীদের খাবার ও পানীয় বিতরণ করছিলো, যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এনজিওগুলো জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্তত ১৫০০ অভিবাসীকে খাবার এবং অন্যান্য সামগ্রী দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। 

প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম সংগঠন ‘ওভেরজ দে মিগ্র’ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, "আমরা প্রেফেকচুরের এই আদেশের নিন্দা জানাই, যেটি একজন ব্যক্তির মৌলিক অধিকার, যেমন খাবার ও পানীয় এগুলো থেকে বঞ্চিত করে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে কালে শহরের মূল কেন্দ্রস্থলের কোন এনজিও এবং সংস্থা খাবার বিতরণ করতে পারছে না। শহরে মূল পয়েন্টের প্রতিটি রাস্তায়, পার্কিং এবং ফুটপাতের জায়গা এই নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷’’

সংস্থাটির মতে, এই ডিক্রিটি সমাজের "ভ্রাতৃত্বের নীতিকে পদদলিত করছে" এবং এটা "অভিবাসীদের জন্য মানসিক নির্যাতনের সামিল। কারণ আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে অনেককে " খাবারের সন্ধানে তাদের থাকার জায়গা থেকে প্রতিদিন ৪ কিলোমিটারের বেশি দূরে যেতে হয়।"

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কালেতে খাদ্য বিতরণে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জারিকৃত ডিক্রিটি বাতিল করতে লিল শহরের প্রশাসনিক আদালতে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনি কাঠামো কাউন্সিল অফ স্টেট বা কনসেই দেতা পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়েছিলো অনেকগুলো সংগঠন। কিন্তু কোন সংগঠনই মামলায় জিততে পারেনি। 

এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে এবং লাগাতার অস্থায়ী শিবির সরিয়ে নেওয়ায় অভিবাসীদের কঠিন পরিস্থিতি্র মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সংস্থাগুলোর মতে, এসব ঘটনা ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার প্রচেষ্টা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।


এমএইউ/এপিবি (এএফপি)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন