চলতি বছর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে এসেছেন পাঁচ হাজার ৬০০ জনের বেশি৷
চলতি বছর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে এসেছেন পাঁচ হাজার ৬০০ জনের বেশি৷

কোন আশ্রয়প্রার্থী যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে তাদেরকে দেশটির অধীনে থাকা বিভিন্ন দ্বীপে স্থানান্তর করা হবে৷ এমন একটি আইন সংসদে তুলতে যাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার যাকে নিষ্ঠুর ও অমানবিক বলে অভিহিত করেছেন সমালোচকরা৷

আগামী সপ্তাহে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ন্যাশনালিটি অ্যান্ড বর্ডার্স বিল (জাতীয়তা ও সীমান্ত আইন) নামের নতুন একটি আইন তুলতে যাচ্ছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল৷ এই আইনের একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশটিতে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডের বাইরে একটি কেন্দ্র খোলা হবে৷ অনিয়মিত পথে কেউ যুক্তরাজ্যে আসলে তাকে পাঠানো হবে সেখানে৷ প্রস্তাবিত দ্বীপগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আটলান্টিক সমুদ্রের অ্যাসসেনশন, জিব্রাল্টার ও আইল অব ম্যান৷ 

চলতি বছর বিপুল সংখ্যক অভিবাসী অনিয়মিত পথে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে এসেছেন৷ এরিমধ্যে সংখ্যাটি পাঁচ হাজার ৬০০ জন ছাড়িয়েছে৷ এই স্রোত ঠেকাতে গত মার্চেই প্রাথমিক পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করে যুক্তরাজ্য সরকার৷ 

ডেনমার্কের সঙ্গে পরামর্শ

চলতি মাসের শুরুতে প্রায় একই ধরনের একটি আইন পাস করেছে ডেনমার্কও৷ তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটিতে আসা আশ্রয়াপ্রার্থীদের পাঠিয়ে দেওয়া হবে আফ্রিকাতে তৃতীয় কোন দেশে৷ এজন্য ডেনিশ সরকার রুয়ান্ডার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিও করেছে৷ এছাড়াও টিউনিসিয়া, ইথিওপিয়া, মিশর ও ইরিত্রিয়ার সঙ্গেও আলোচনা চলছে বলে খবর প্রকাশ করেছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম৷ পরিকল্পনা অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদনের প্রক্রিয়াটিও সম্পন্ন করবে যেই দেশে তাদেরকে পাঠানো হবে সেই দেশের কর্তৃপক্ষ৷ আশ্রয় আবেদন গৃহীত হলে ডেনমার্কে নয় বরং তাদের থাকতে হবে সেই দেশেই৷ অর্থাৎ, কাউকে যদি রুয়ান্ডায় পাঠানো হয় এবং তার আশ্রয় আবেদন গৃহীত হয় তাহলে সেই অভিবাসীকে রুয়ান্ডাতেই থাকতে হবে৷ 

যুক্তরাজ্যের সরকার তাদের প্রস্তাবিত আইন নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম টাইমস৷ আফ্রিকায় দুই দেশই যাতে একটি আবেদন প্রক্রিয়া কেন্দ্র ভাগাভাগি করতে পারে সেই সম্ভাবনা নিয়ে প্রীতি প্যাটেল আলাপ করেছেন ডেনিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ৷  

 টাইমস বলছে, নতুন আইনের মূল লক্ষ্য হল যারা ফ্রান্সের মতো ইউরোপের অন্যদেশগুলো থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন সেসব অভিবাসীকে নির্বাসনে পাঠানো৷ মূলত যেকোন উপায়ে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম ঠেকাতে বদ্ধ পরিকর দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্টমন্ত্রী৷ সূত্র বলছে, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা করতে চায় যার মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে যুক্তরাজ্যে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের কাছে আর আকর্ষণীয় থাকবে না৷ 

বিরোধিতা

ব্রিটিশ সরকারের পরিকল্পনাটি এনজিও ও অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রবল বিরোধিতায় পড়েছে৷ যুক্তরাজ্যের রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান এনভার সলোমোন একে ‘ঝুঁকিতে থাকার মানুষদের প্রতি নিষ্ঠুর ও নির্মম শত্রুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন৷ 

লিবার্টি নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা সমালোচনা করে বলেছে পরিকল্পনাটি অভিবাসীদের আরো বড় ধরনের মানবাধিকার ঝুঁকিতে ফেলবে৷  

বিরোধী দল লেবার পার্টিও প্রস্তাবিত আইন নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে বলেছে তারা এর বিপক্ষে ভোট দিবে৷ মিরর এর প্রতিবেদনে, লিবারেল ডেমোক্রেট দলের একজন মুখপাত্র প্রস্তাবটিকে ভয়াবহ ও অমানবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন৷  

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর মুখপাত্র ম্যাথিও সাল্টমার্শ বিবিসি রেডিওকে বলেছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্য মূলত সমস্যার ভার আরেকজনের কাঁধে চাপাচ্ছে৷ তার মতে আন্তর্জাতিক শরণার্থী ব্যবস্থাপনার বিষয়টি প্রত্যেকের সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল৷

তবে ব্রিটিশ সরকারের একটি সূত্র টাইমসকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, সমালোচনাকারীরা তাদের নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে আসতে এরিমধ্যে ব্যর্থ হয়েছেন৷ 

 

অন্যান্য প্রতিবেদন