লো রিফুজ সলিদের ব্রিয়ন্সঁ’ নামক এনজিওর সহায়তায় প্রাথমিক অভ্যর্থনা ও প্রশাসনিক সাহায্য পায় ‘পল’ নামের এই শরণার্থী । ছবিঃ মেহেদী শেবিল/ইনফোমাইগ্রেন্টস
লো রিফুজ সলিদের ব্রিয়ন্সঁ’ নামক এনজিওর সহায়তায় প্রাথমিক অভ্যর্থনা ও প্রশাসনিক সাহায্য পায় ‘পল’ নামের এই শরণার্থী । ছবিঃ মেহেদী শেবিল/ইনফোমাইগ্রেন্টস

বিপুল পরিমাণ অভিবাসী আসতে থাকায় সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রেফেকচুরকে চিঠি দিয়েছে ফ্রান্সের মানবিক সাহায্য সংস্থা ‘লো রিফুজ সলিদের ব্রিয়ন্সঁ, ‘তুস মাইগ্রেন্টসসহ’ কয়েকটি অভিবাসন সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও এনজিও।

‘পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই সমিল্লিত আবেদন’ শীর্ষক একটি যৌথ চিঠি স্থানীয় উত আল্পস প্রেফেকচুরের দায়িত্বরত মার্টিন ক্লাভেলের কাছে পাঠিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। চিঠিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছে লা সিমাদ, মেদসা সঁ ফ্রন্তিয়ের, সিকুর ক্যাথলিক কারিতাস, মেদসা দ্যু মোন্দসহ বেশকিছু সংস্থা। 

তুস মাইগ্রেন্টস জানিয়েছে, ‘‘জানুয়ারি থেকে প্রায় দুই হাজারের বেশি শরণার্থী আল্পস পর্বত হয়ে ব্রিয়ন্সঁ শহরে প্রবেশ করেছে। মে ও জুন মাসে যেটি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দুই মাসে প্রায় ৬০০ জন করে শরণার্থী প্রবেশ করেছে। বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে শরণার্থীদের ন্যূনতম একটি মানবিকভাবে অভ্যর্থনা ও থাকার ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’ প্রেফেকচুরকে দেয়া যৌথ বার্তায় বলে হয়েছে, “বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ১০ জন শরণার্থী প্রবেশ করছে কিন্তু সে অনুপাতে প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্নের সক্ষমতা বৃদ্ধির কোন প্রস্তুতি নেই।”

লো রিফিউজ সলিদ সম্প্রতি তাদের আগের জায়গা পরিবর্তন করে নতুন এবং বড় একটি জায়গায় এসেছে। যেখানে আগের চেয়ে বেশি এবং বৃহত্তর পরিসরে আশ্রয়প্রার্থীদের সেবা দেয়া সম্ভব। এরপরও বিপুল পরিমাণ নতুন আশ্রয়প্রার্থীদের চাপ সামাল দিতে স্বেচ্ছাসেবকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

লো রিফুজ সলিদের’র সাথে যৌথভাবে কাজ করা তুস মাইগ্রেন্টস এর পরিচালক স্টেফানি বেজোইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, ‘‘আমরা কখনও লড়াই থেকে সরে যাব না কিন্তু পরিস্থিতি আমাদেরকে বাধ্য করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রের কাছে সাহায্য চাইতে।’’ 

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলোর মতে, এই সমস্যার অবশ্যই সমাধান আছে। কারণ ব্রিয়ন্সঁ সিটি কাউন্সিলে ইতোমধ্যে জরুরি আবাসন ব্যবস্থা নামক একটি সেবা চালু রয়েছে যেটি সাধারণত প্রাকৃতিক দূর্যোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যেমন, আল্পস পর্বতমালা থেকে ব্যাপকহারে বরফ পড়লে পর্যটকদের সাময়িকভাবে শহরের জিমনেশিয়ামগুলোতে রাখা হয়। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকায় স্কুল, কলেজগুলো অস্থায়ীভাব ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, অভিবাসীদের প্রাথমিক আবাসনের উল্লেখযোগ্য কোন সংকট হবে না। কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রের একটি সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। 



 

অন্যান্য প্রতিবেদন