জাতিসংঘ প্রদত্ত তাঁবুতে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস/এ জাওয়াদ
জাতিসংঘ প্রদত্ত তাঁবুতে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস/এ জাওয়াদ

সম্প্রতি জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা ইউএনএইচসিআর একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে অতিমারিকালীন সময়ে ঠিক কী কী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন শরণার্থীরা, সেবিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালে শরণার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ। পাশাপাশি, করোনা অতিমারির ফলে শরণার্থীরা এবছর তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন মানসিক অবসাদ ও চরম অপুষ্টিতে, জানাচ্ছে জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর প্রকাশিত বার্ষিক বৈশ্বিক গণস্বাস্থ্য বিষয়ক পর্যালোচনার প্রতিবেদন।

এবছর, এই সংস্থাটির লক্ষ্য ছিল করোনা অতিমারির মধ্যে বিভিন্ন দেশ কীভাবে শরণার্থী ও অভিবাসীদের বিষয়গুলি তাদের মোকাবিলা নীতিতে রাখে। এছাড়া, জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক এই সংস্থাটি লেবানন ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলিকে করোনা পরীক্ষার কিট ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

ইউএনএইচসিআরের ডিভিশন অফ রেসিলিয়েন্স অ্যান্ড সলিউশনস বিভাগের প্রধান সাজ্জাদ মালিকের মতে, "আমরা পরীক্ষাগারে ভিড় কমাতে উদ্যোগী হয়েছি। পাশাপাশি, অভিবাসী গোষ্ঠীদের মধ্যে তথ্য পৌঁছাতে ব্যবস্থা নিয়েছি। বিশেষ করে, গর্ভবতী নারী ও সদ্যজাতদের চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা সব দিতে চেষ্টা করেছি। আমরা জানি যে শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য অতিমারির সাথে লড়া অনেকটাই কঠিন ছিল।"

গত বছরে এই সংস্থাটি মোট ৫০টি দেশে শরণার্থীদের আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করেছে।

রোগ ও তার নিরাময়

২০২০ সালে, ১৯টি দেশের ১৫৯টি শরণার্থী কেন্দ্রে জন্মগ্রহণ করে এক লাখ ১২ হাজার ১১৯টি শিশু। কিন্তু প্রতি বছরের মতো গত বছরেও, শিশুমৃত্যু ও জন্মদাত্রী মায়েদের মৃত্যুর হার জাতিসংঘের জন্য চিন্তার কারণ হয়েছে। যে ধরনের পরিবেশে মায়েরা সন্তান জন্ম দেন, তার উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করছে ইউএনএইচসিআর, জানাচ্ছে প্রতিবেদনটি।

২০১৯ সালেও বড় সমস্যা হয়েছিল মশাবাহী রোগ, যেমন ম্যালেরিয়া। নিঃশ্বাসের নানা ধরনের রোগ ও ম্যালেরিয়ার কারণে প্রাণ হারান মোট শরণার্থী মৃতের ২০ শতাংশ। তা রুখতে জাতিসংঘ বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে মশারি বিলি করার পাশাপাশি কীটনাশক ছড়ানোর কাজ করছে।

এছাড়া, করোনাকালীন সময়ে অপুষ্টি কমাতে শরণার্থীদের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে, নানা ধরনের পুষ্টিযুক্ত খাবার ও ওষুধ দিয়েছে। বিশেষ করে, যে শরণার্থীদের এইচআইভি সংক্রমণ বা যক্ষার মতো রোগ রয়েছে, তাদের পুষ্টির দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছে তারা।

মালিক বলেন, "আমাদের সব ধরনের সহায়তা প্রকল্প চালিয়ে যেতে অর্থায়ন প্রয়োজন, কারণ এখন আমরা অতিমারির দ্বিতীয় বছরে পৌঁছেছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে অন্যান্য, করোনাবহির্ভূত স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকে আমাদের নজর নেই। অন্য সব নাগরিকের মতো যাতে শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য লাভ করতে পারেন, সেদিকেই আমাদের কাজ এগোবে।"

সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে

এসএস/আরআর

 

অন্যান্য প্রতিবেদন