শতাধিক অভিবাসীর মরক্কো থেকে মেলিয়া তে প্রবেশের চেষ্টা। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস
শতাধিক অভিবাসীর মরক্কো থেকে মেলিয়া তে প্রবেশের চেষ্টা। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস

১১৯ জন অভিবাসীর একটি দল সোমবার ভোরের দিকে প্রতিবেশী মরক্কো থেকে স্পেনের মেলিয়া ছিটমহলে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চল থেকে আসা এই অভিবাসীদের পরবর্তীতে মেলিয়া শহরে অবস্থিত নির্ধারিত অভ্যর্থনা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্পেন কর্তৃপক্ষ এএফপিকে জানিয়েছে, সোমবার ১২ জুলাই ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল থেকে প্রায় ২০০ অভিবাসীর একটি দল মরক্কো থেকে মেলিয়াকে বিচ্ছিন্ন করা কাঁটাতারের ওঠার চেষ্টা করছিল।

স্পেনের সিভিল গার্ড এবং মরোক্কান পুলিশ তাদের থামাতে দ্রুত তৎপর হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে ১১৯ জন স্পেনের ছিটমহলে ঢুকে যেতে সফল হয়েছিল। 

এই অভিযানের সময় পাঁচজন সিভিল গার্ড সদস্য এবং একজন অভিবাসী আহত হয়েছেন।


ঢুকে পড়া ১১৯ জন অভিবাসীকে তাৎক্ষণিকভাবে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে (সিইটিআই) নিয়ে যাওয়া হয় এবং স্থাপিত একটি বিশেষ জোনে কোভিড -১৯ পরীক্ষা করানো হয়।  

আফ্রিকার সাথে ছিটমহল সেওটাকে যুক্ত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থল সীমানা হচ্ছে মেলিয়া, যেখানে প্রতিবেশী মরক্কো থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক অভিবাসী এই সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

নিয়মিত ছিটমহলে প্রবেশের চেষ্টা

১৫ জুন, প্রায় ১৫০ জন অভিবাসী স্প্যানিশ অঞ্চলে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ জানায়, আক্রমণটি হিংস্র ছিল, অভিবাসীরা লাঠি সজ্জিত হয়ে পুলিশের দিকে পাথর নিক্ষেপ করেছিল যেখানে প্রায় ২০ জন আহত হয়েছিল।

সিইএআর (স্প্যানিশ শরণার্থী সহায়তা কমিশন) এর একজন সদস্য ইনফোমাইগ্রেন্টসকে ব্যাখ্যা করেন, প্রায় প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক লোক ছিটমহলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। গড়ে প্রতিদিন ত্রিশ জন সীমান্ত পাড়ি দিতে চেষ্টা করলেও এই সংখ্যাটা বেশীরভাহ সময় ১০০ এর নীচে থাকে। 

উল্লেখ্য, মে মাসে সেওটা ছিল মাদ্রিদ এবং রাবাতের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। সাহারা পলিসারিও ফ্রন্টের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ব্রাহিম গালিকে মাদ্রিদের একটি হাসপাতালে ভর্তির প্রতিবাদে মরোক্কো প্রায় ১০,০০০ এরও বেশি অভিবাসীকে স্পেনে প্রবেশের সুযোগ করে দেয় বলে মরক্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল।

অবশেষে জুনের শেষ দিকে ব্রাহিম ঘালি আলজেরিয়ার উদ্দেশ্যে স্পেন ত্যাগ করলেও মাদ্রিদ ও রাবাতের মধ্যে এখনো উত্তেজনা বজায় রয়েছে।



এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন