৬ জুলাই ২০২১,  লিথুয়ানিয়ার পাব্রাদে শহরে স্থাপিত আশ্রয় কেন্দ্রে তালাবদ্ধ অভিবাসীরা। ছবিঃ রয়টার্স
৬ জুলাই ২০২১, লিথুয়ানিয়ার পাব্রাদে শহরে স্থাপিত আশ্রয় কেন্দ্রে তালাবদ্ধ অভিবাসীরা। ছবিঃ রয়টার্স

এই আইনটি অভিবাসীদের লিথুয়ানিয়ায় আসা থেকে নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগনে বিলোটাইট বলেছেন, "নতুন অভিবাসীদের এখানে ভালভাবে অভ্যর্থনা করা হবে হবে না" । নতুন আইনে অভিবাসীদের আগমনের ছয় মাসের মধ্যে আটক কেন্দ্র থেকে মুক্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষত আইনের সাহায্যে নতুন আগত অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন চলাকালীন অস্থায় ফেরত পাঠানো যাবে।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) লিথুয়ানিয়ান সংসদে আশ্রয়প্রার্থীদের গনহারে আটকের অনুমোদন প্রদানের লক্ষ্যে একটি বিল গৃহীত হয়েছে। নতুন গৃহীত এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বেলারুশের সীমান্ত পার হয়ে আসার চেষ্টারত অভিবাসীদের নিরস্ত করা।

নতুন পাশ হওয়া আইনটি লিথুয়ানিয়া এবং আন্তর্জাতিক উভয় মানদণ্ডে অভিবাসীদের অধিকার হরণ করে এই অভিযোগে রেডক্রস এবং অন্যান্য বেসরকারী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে অভিযোগ সত্ত্বেও, বিলটি ১৪১ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৮৪ ভোটে গৃহীত হয়েছে।

"অসাংবিধানিক প্রস্তাব"

নতুন আইনে অভিবাসীদের লিথুয়ানিয়া প্রবেশের ছয় মাসের মধ্যে কোনও প্রকার মুক্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লিথুয়ানিয়ান ইংগ্রিদা সিমোনিটে বলেছেন, “এই আটক ব্যবস্থা অভিবাসীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পশ্চিমের এই অভিবাসন পথ থেকে বিরত রাখবে।”

আরও পড়ুন>>অভিবাসীদের ঢেউ থামাতে বেলারুশ সীমান্তে প্রাচীর তৈরি করছে লিথুয়ানিয়া

আইনটি ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের আপিলের অধিকারও সীমাবদ্ধ করে এবং তাদের আপিল বিবেচনার সময় ফেরত পাঠানো হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এটি অভিবাসীদের দেওয়া বেশিরভাগ অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে, যেমন একজন দোভাষী ও অনুবাদক পাওয়ার অধিকার এবং আশ্রয় পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

আইনটি ভোটাভুটির আগে, আইনজীবী ডেইনিয়াস জালিমাস যিনি জুন অবধি লিথুয়ানিয়ান সাংবিধানিক আদালতের প্রধান ছিলেন, রয়টার্সকে বলেছিলেনদ, "এই আইনের প্রস্তাবনাগুলি অসাংবিধানিক। কারণ প্রস্তাবনায় সীমান্ত পেরিয়ে আসা সমস্ত বিদেশীদের দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ হিসেবে সকল প্রকার সংবিধানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।”

"প্রকৃত আশ্রয় প্রার্থী নেই"

বিলটি প্রবর্তনের পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই আইনটি পাশের উদ্দেশ্য হচ্ছে "ইরাক এবং অন্যান্য জায়গা থেকে আসা ব্যক্তিদের কাছে এই বার্তা পাঠানো যে, এটি বাস্তব সম্মত কোন অভিবাসন পথ নয় এবং এখানে পরিস্থিতি ভাল হবে না।"

আগনে বিলোটাইট আরও যোগ করেন, সম্প্রতি আগত অভিবাসীরা "আসল আশ্রয়প্রার্থী নয়"। তারা মূলত বেলারুশের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর দ্বারা "লিথুয়ানিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত একটি অস্ত্র" হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। বেলারুশে চলমান বিক্ষোভের বিরুদ্ধে আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর চালানো সহিংস ক্র্যাকডাউনের প্রতিবাদে ব্রাসেলস কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের পর তিনি ইইউ’র বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন>>অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে লিথুয়ানিয়া

লিথুয়ানিয়ায় সাধারণত প্রতি বছর একশরও বেশি আশ্রয় প্রার্থী প্রবেশ করে থাকে। কিন্তু এবছর এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ১,৭০০ আশ্রয়প্রার্থী এসেছেন যাদের মধ্যে প্রায় ১,১০০ জন জুলাই মাসের শুরুতে ঢুকেছেন।



এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন