কয়েক লাখ কর্মচারীর অবসর গ্রহণের কারণে বিদেশি অভিবাসীদের আকৃষ্ট করতে চায় হোম কেয়ার সেক্টরে। ছবিঃ Getty Images
কয়েক লাখ কর্মচারীর অবসর গ্রহণের কারণে বিদেশি অভিবাসীদের আকৃষ্ট করতে চায় হোম কেয়ার সেক্টরে। ছবিঃ Getty Images

২০৩০ সালের মধ্যে ফ্রান্সে হোম কেয়ার সেক্টরে কাজ করা প্রায় ৭ লাখ মানুষ অবসরে যাবেন। লোকবলের সম্ভাব্য এই চাহিদা পূরণে গৃহস্থালী বা হোম কেয়ার সেক্টরের একক মালিকদের সংগঠন (এফইপিইএম) অভিবাসীদের উপর আস্থা করছেন। এ ব্যাপারে তাদেরকে সহায়তা করতে আগামী সেপ্টেম্বরে একটি আলাদা প্লাটফর্ম খোলা হবে।

অভিবাসন কে কর্মী সংকটের সমাধান হিসেবে দেখছে হোম কেয়ার সেক্টরের একক মালিকদের সংগঠন তথা সামাজিক-পেশাদার সংস্থা, ফেডারেশন অফ ইন্ডিভিজুয়াল এমপ্লয়ার্স (এফইপিইএম) ।

এ লক্ষ্যে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা এবং স্থানীয় সরকারের সহায়তায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের দক্ষিণে অবস্থিত মার্সেই শহরে ‘ইনক্লুসিভ মাইগ্রেশন ল্যাবরেটরি’ বা ‘অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্তি পরীক্ষাগার’ নামক একটি বিশেষ প্লাটফর্ম স্থাপন করা হবে।

গত ৮ ই জুলাই উপস্থাপিত এই কাঠামোটিতে বলা হয়, এই সেক্টরের বিভিন্ন পেশাকে সুসংহতকরণের জন্য বেশ কয়েকটি সহায়তা প্রোগ্রাম চালু করা হবে। যেমন: বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাহায্য করা, শিশুদের যত্ন বা বেবি সিটিং, গৃহস্থালী কাজে সহায়তা বা হোম কেয়ার, বাগানের কাজ বা মালি সহ এরকম বিভিন্ন পেশায় অভিবাসীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে সহায়তা করা হবে।  

একজন "বিদেশি ব্যক্তি" অর্থাৎ যিনি অন্য দেশের নাগরিক কিন্তু বৈধভাবে ফ্রান্সে বসবাস করেন এবং তার যেকোন একটি বৈধ প্রশাসনিক দলিল আছে যেমন, স্থায়ী বা অস্থায়ী রেসিডেন্ট কার্ড বা কার্ড দ্যু সিজ্যুর, বৈধ শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি, সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন প্রাপ্ত, পরিবার পুনর্মিলন ভিসায় আসা ইত্যাদির যেকোন একটি রয়েছে সেরকম ব্যক্তিদের এফইপিইএম এই সেক্টরে অন্তর্ভুক্তি করতে চাচ্ছে।

উল্লেখ্য এসব লোকেরা ইতিমধ্যে এই সেক্টরের মোট কর্মী বাহিনীর প্রায় ১৫% এর প্রতিনিধিত্ব করছেন। মূলত এরকম বৈধ অভিবাসীরাই বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

অনিবন্ধিত অভিবাসীদের নিয়োগ বন্ধ করুন

এফইপিইএম এর পরিচালক মারি বিয়াত্রিস বলেন, “এই প্রোগ্রামের আওতায় প্রথম পদক্ষেপ হবে "ভাষাগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা" করা যেটি এই সেক্টরে কর্মী নিয়োগের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ একটি শর্ত"। দ্বিতীয় পদক্ষেপ হবে, ভবিষ্যত কর্মচারীদের স্থায়ী আবাসনের সন্ধানে সহায়তা করা যেটি একজন চাকুরীপ্রার্থীর অবস্থানকে সুসংহত করতে সাহায্য করে। এই পোগ্রামের আওতায় আমরা বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির সাথে কর্মচারীদের যোগাযোগ স্থাপন করে দেয়ার কাজ করব যাতে তারা সহজে একটি থাকার জায়গা খুঁজে নিতে পারে। এছাড়া এফইপিইএম’র সামগ্রিক কর্মসূচিতে অভিবাসীদের নিজের দেশ থেকে অর্জিত দক্ষতাও গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট বিভাগের আওতায় এই প্রোগ্রামের সুবিধাভোগীদের সকল প্রকার প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করবে। মারি বিয়াত্রিস আরও যোগ করেন, "অনেক নিয়োগকারী অনিবন্ধিত বা কাগজহীন লোকদের নিয়োগ দেয় এ ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ অবগত। আমরা যতটা সম্ভব এই সমস্যাটিকে কাটিয়ে উঠতে কাজ করব এবং এজন্য প্রশাসনিকভাবে সমস্যার সমাধান করা জরুরি। যাতে করে কেউ অনিবন্ধিত কাউকে নিয়োগ দিতে না পারে৷’’

তিনি জানান, এই প্রোগ্রামের মধ্যে দিয়ে আমরা বিপুল পরিমাণ চাকুরীপ্রার্থীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হব বলে আশা করছি। কারণ বিগত বছরগুলোতে এই সেক্টরটি তরুণদের কাছে তেমন আকর্ষণীয় ছিল না। বেসরকারি নিয়োগকর্তাদের সংখ্যা স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও সামনের বছরগুলোতে বিপুল পরিমাণ জনবল ঘাটতি হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে এই সেক্টরে কর্মরত ১৪ লাখ লোকের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ মানুষ অবসরে যাবেন যার ফলে অনেক জনবল দরকার হবে বলে ধারণ করছে এফইপিইএম। 




এমএইউ/এপিবি 


 

অন্যান্য প্রতিবেদন