হাঙ্গেরি সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত একজন সৈন্য। ছবিঃ Picture alliance
হাঙ্গেরি সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত একজন সৈন্য। ছবিঃ Picture alliance

এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে চতুর্থবারের মতো অভিবাসী বিরোধী নীতি গ্রহণ করার হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোর্ট অব জাস্টিস। করোনা মহামারীর অজুহাতে সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে “আশ্রয় অধিকার সীমাবদ্ধ” করার অভিযোগে দেশটির রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আদালতে এই অভিযোগ দায়ের করে ইউরোপীয় কমিশন।

হাঙ্গেরিকে আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোর্ট অব জাস্টিসের (সিজেইইউ) মুখোমুখি হতে হবে। ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার, দেশটির রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের অনুমোদন দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন।

কোভিড -১৯ মহামারী বিরোধী লড়াইয়ের অজুহাত দিয়ে হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আশ্রয় অধিকারকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে "সীমাবদ্ধ" করার অভিযোগ এনেছে ইউরোপীয় কমিশন।

এই পদক্ষেপটি বলকান দেশটির বিরুদ্ধে গত অক্টোবরে শুরু হওয়া আশ্রয় আইন লংঘনের অভিযোগেরই একটি অংশ। উল্লেখ্যে দেশটি ইউরোপের মধ্যে সবেচেয়ে কট্টর অভিবাসী বিরোধী নীতি গ্রহণ করেছে। ২০২০ সালের জুনে, ভিক্টর অরবানের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এখন থেকে হাঙ্গেরির মূল ভূখণ্ডে নয় বিদেশে থাকা কোন একটি হাঙ্গেরিয়ান দূতাবাসে আশ্রয়ের আবেদন জমা করতে হবে। আইনে বলা হয়, “হাঙ্গেরিতে কোন ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করার আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের দেশগুলির নাগরিকদের প্রথমে ইইউর বাইরে থাকা হাঙ্গেরির একটি দূতাবাসে আশ্রয়ের আবেদন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে আবেদন করতে হবে এবং পরবর্তীতে দূতাবাস আবেদন গ্রহণযোগ্য মনে করলে একটি বিশেষ প্রবেশের অনুমতি প্রদান করবে।"

তবে, ইউরোপীয় আইন অনুসারে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিকে অবশ্যই তাদের অঞ্চলে বা সীমান্তে থাকা তৃতীয় দেশের নাগরিক এবং রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন করার অধিকারের কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ দিতে হবে।

অপরদিকে ইউরোপীয় কমিশন মনে করে, ২০২০ সালের জুনে হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষের নেয়া নতুন পদক্ষেপটি "আশ্রয় পদ্ধতিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে অবৈধ বিধিনিষেধ"। ইউ কমিশন বিশ্বাস করে, “করোনা ভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ হিসেবে হাঙ্গেরির আইন অনুযায়ী এই ধরনের নিয়ম ন্যায়সঙ্গত নয়।”

হাঙ্গেরিকে একাধিকবার ভর্ৎসনা করেছে আদালত

গত বছর ইইউ কোর্ট অফ জাস্টিস হাঙ্গেরিকে বেশ কয়েকবার নিন্দা জানায়। দেশটি ইউরোপীয় আশ্রয় আইন লঙ্ঘন করেছে বলয়ে গত ডিসেম্বরে রায় দেয় সিজেইইউ। আদালতের বিবেচনায় বলা হয়, “বুদাপেস্ট ট্রানজিট জোনে আশ্রয় আবেদন উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা এবং এই অঞ্চলে প্রবেশের জন্য অনুমোদিত আবেদনকারীদের সংখ্যা সীমাবদ্ধ করে ‘আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রদানের সুযোগ পাওয়ার অধিকার’ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।" 

এর আগে ২০২০ সালের মে মাসে সিজেইইউ রায় দেয়, “সার্বিয়া সীমান্তের "ট্রানজিট জোনে" অবস্থিত শিবিরগুলিতে যথাযথ কারণ ছাড়াই আশ্রয়প্রার্থীদের আটকে রাখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এসব কাঠামো ছেড়ে যেতে বলা হয়।” এই সিদ্ধান্তের ফলে হাঙ্গেরি সরকার ২০১৫ সালে খোলা এসব বিতর্কিত শিবির বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল।

তার আগের মাসে, ২০১৫ সালে হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থীদের ইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত কোটা প্রত্যাখ্যান করার অভিযোগে পোল্যান্ড এবং চেক প্রজাতন্ত্রের সাথে হাঙ্গেরিকে সিজেইইউ প্রথমবারের মতো ভর্ৎসনা করেছিল।

এছাড়া হাঙ্গেরিকেও ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০২১ সালের মার্চ মাসে ভিক্টর অরবানের সরকারকে ইরানি ও আফগান আশ্রয়প্রার্থীদের পরিবারের সাথে "অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ" করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

এরকম অসংখ্য নিন্দা সত্ত্বেও, হাঙ্গেরি তাদের অভিবাসী বিরোধী নীতি অব্যাহত রেখেছে এবং সীমান্তে অভিবাসীদের অবৈধভাবে পুশব্যাক অব্যাহত রেখেছে।



এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন