আফগানিস্তান এখনও অস্থিতিশীল, প্রায় প্রতিদিন দেশজুড়ে সহিংস হামলা হচ্ছে। ছবিঃ Omar Sobhani/REUTERS
আফগানিস্তান এখনও অস্থিতিশীল, প্রায় প্রতিদিন দেশজুড়ে সহিংস হামলা হচ্ছে। ছবিঃ Omar Sobhani/REUTERS

আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির কারণে সুইডেন আফগানিস্তান নাগরিকদের ডিপোর্ট প্রক্রিয়া স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। গত সপ্তাহে ইউ দেশগুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ড সর্বপ্রথম বহিষ্কার কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল।

শুক্রবার (১ জুলাই), আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশটির নাগরিকদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা করেছিল সুইডেন। সুইডেনের অভিবাসন সংস্থা জানায়, "তালেবান দেশটির বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে নিরাপত্তার ব্যাপক অবনতি ঘটেছে।”

সংস্থাটির আইন বিষয়ক প্রধান কার্ল বেক্সেলিয়াস এক বিবৃতিতে বলেছেন, "ডিপোর্ট প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্তটি পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।"

এই স্থগিতাদেশ কয়েক হাজার আফগানকে প্রভাবিত করবে যাদের আশ্রয় আবেদন ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং দেশ ত্যাগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বেক্সেলিয়াস আরও বলেন, "সুইডেনে বহিষ্কার আদেশ পাওয়া প্রায় ৭,০০০ আফগান নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যে অর্ধেক সরাসরি নিষেধাজ্ঞার স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বেন, আর বাকি অর্ধেকের কাছে বর্তমানে অস্থায়ী আবাসনের অনুমতি রয়েছে।"

পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত স্থগিত বহিষ্কার প্রক্রিয়া

সুইডেনের মাইগ্রেশন এজেন্সি ডিপোর্ট প্রক্রিয়া স্থগিতের প্রভাব নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ প্রকাশ করেছে। নিচে পাঠকদের জন্য 

স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা পর্যন্ত সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি আফগানিস্তানে কোন ধরনের ডিপোর্ট বা বহিষ্কার সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে না ।

পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আফগানিস্তান অভিমুখে কোন সিদ্ধান্ত প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতিগুলির উন্নয়নের উপর নির্ভর করে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

যদি কোনও ব্যক্তির উপর আইনী কোন সিদ্ধান্ত থাকে তাদের বহিষ্কার আদেশ স্থগিতের জন্য আলাদা কোন আবেদন করতে হবে না। 

স্থগিত আদেশের আওতায় থাকা ব্যক্তিরা এলএমএ (সুইডিশ আশ্রয়প্রার্থী অভ্যর্থনা ব্যবস্থা) এর আওতায় সহায়তা পাবেন। যদি আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয় এবং অপসারণ বা বহিষ্কার আদেশ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়, সেক্ষেত্রে মাসের প্রথম সপ্তাহ পরে যৌক্তিক কারণ না থাকলে সহায়তার অধিকার বন্ধ হয়ে যাবে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে

জুলাইয়ের প্রথমদিকে, আফগানিস্তানের শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন মন্ত্রী জার্মানি, নরওয়ে, হল্যান্ড, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া এবং ইউকে (তালিকায় সুইডেনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল) থেকে নির্বাসন প্রক্রিয়া তিন মাসের জন স্থগিতাদেশ চেয়ে একটি চিঠি লিখেন। এই আহবানে সাড়া দিয়ে সুইডেন ছাড়াও ফিনল্যান্ড জোরপূর্বক ডিপোর্ট সাময়িক বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।  

কয়েক হাজার আফগান, বিশেষত অল্প বয়স্ক যুবক, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আশ্রয় প্রার্থনা করার জন্য ইরান হয়ে সুইডেনে আসছেন। যাদের মধ্যে একটি বড় সংখ্যাক আফগানদের বহিষ্কার করা হয়েছে। সুইডেনের অভিবাসন নীতি গবেষণা কমিটি দেলমির প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ইরাকি নাগরিকদের ছাড়িয়ে সুইডেন থেকে ডিপোর্ট হওয়া আশ্রয়পার্থীদের মধ্যে আফগানিস্তান এখন শীর্ষ দেশ। বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশে করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে বহিষ্কার আদেশ বন্ধ ছিল কিন্তু ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে সেটি আবার শুরু হয়েছিল।

মে থেকে, আফগানিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক সেনা প্রত্যাহার এবং তালেবানদের নতুন নতুন অঞ্চল দখল দেশটিতে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বলেছে, বিশেষত বদখশান, কুন্দুজ, বালখ, বাগদীন এবং তখার প্রদেশে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতস শরণার্থীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ফলে অনেক আফগান নাগরিকদের নতুন করে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ইরানে আশ্রয় আবেদন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু উক্ত দেশগুলিতে ইতিমধ্যে কয়েক মিলিয়ন শরণার্থী রয়েছে এবং নতুন শরণার্থী আগমন পরিচালনা দেশগুলো সক্ষম হবে না।

যদিও বেশিরভাগ আফগান শরণার্থী প্রতিবেশী দেশগুলি দ্বারা অভ্যর্থনা করা সত্ত্বেও ইটালির প্রধানমন্ত্রী মারিও ড্রাগি গত মাসে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “বিদেশি সেনা সরিয়ে নেওয়ার পরে ইউরোপকে আফগানিস্তান থেকে নতুন অভিবাসী আগমন প্রতিহত করতে হবে।” 

ইটালির প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, "এটি সম্ভাব্য যে আন্তজার্তিক বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সরে আসার কারণে দেশটি থেকে এখন বিপুল পরিমাণে অভিবাসন বাড়বে। তবে আমরা সবাই জানি সংখ্যাটা ব্যাপক হবে।"



এমএইউ/এসএস (এএফপি)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন