ফ্রন্টেক্সের সদস্যরা ছবি সূত্র ডয়চে ভেলে
ফ্রন্টেক্সের সদস্যরা ছবি সূত্র ডয়চে ভেলে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা ফ্রন্টেক্স বাহিনী পাঠাচ্ছে লিথুয়ানিয়া-বেলারুশ সীমান্তে ৷ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল নেমেছে সেখানে।

লিথুয়ানিয়া-বেলারুশ সীমান্তে আগামী সপ্তাহ থেকে মোতায়েন থাকবে ফ্রন্টেক্সের ৬০জন সীমান্তরক্ষী। টহল দেওয়ায় সাহায্য করতে তাদের সাথে থাকবে হেলিকপ্টার ও বিশেষ গাড়ি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতে, বেলারুশ কর্তৃপক্ষের প্রশ্রয়ে লিথুয়ানিয়ার দিকে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা দলে দলে এসেছে।

ইউরোপের ক্রমাগত নিষেধাজ্ঞার উত্তরে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো বলেন যে, তিনি লিথুয়ানিয়ায় প্রবেশ করতে ইচ্ছুক কোনো অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটকাবেন না। এরপর থেকে লিথুয়ানিয়া কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বাইরে থেকে আকাশপথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে এসেছে বেলারুশ, যাদের পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সাধারণত সারা বছরে যত অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপে প্রবেশ করেন এই পথে, সেই সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ, অর্থাৎ এক হাজার ৪০০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ইতিমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে লিথুয়ানিয়ায় চলে এসেছেন।


দায় এড়াচ্ছে বেলারুশ

ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক ফাব্রিচে লেগেরি সাংবাদিকদের বলেন, এই শরণার্থী সংকটের দায় বেলারুশের, কারণ এভাবে বেলারুশ ইইউ ও লিথুয়ানিয়াকে চাপে রাখতে চায়।

২৯ জুলাই থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩০টি টহলদারি গাড়ি ও ৬০ জন সীমান্তরক্ষী পাঠাবে ফ্রন্টেক্স, জানান তিনি। লিথুয়ানিয়ার অনুরোধে সীমান্তে আসবে ফ্রন্টেক্স, কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে নানা ধরনের অপরাধের কেন্দ্র হয়ে উঠছে এই অঞ্চল, জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।

লিথুয়ানিয়ার দিকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বেশির ভাগই ইরাকের নাগরিক। বেলারুশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাগদাদ ও ইস্তাম্বুল থেকে সরাসরি বিমানে করে তাদের নিয়ে এসেছে দেশটির সরকার। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও বেলারুশের সংবাদ সংস্থা বেলটার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে লুকাশেঙ্কো বলেন, নানামুখী নিষেধাজ্ঞার চাপে বেলারুশ 'জর্জরিত' ও তাদের জন্য সীমান্ত রক্ষায় বিপুল অঙ্কের অর্থের জোগান দেওয়া কষ্টকর।

লিথুয়ানিয়া ও বেলারুশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। দুটি দেশের মধ্যবর্তী সীমান্তে সাড়ে পাঁচশ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের দেওয়াল তুলছে লিথুয়ানিয়া। আপাতত উচ্চমানের কাঁটাতারের খোঁজ চলায় বন্ধ আছে দেওয়াল তৈরির কাজ।

এসএস/এসিবি (রয়টার্স)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন