জার্মানিতে সন্ত্রাসবাদী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক অভিযুক্ত। ছবি সূত্রঃ পিকচার অ্যালায়েন্স
জার্মানিতে সন্ত্রাসবাদী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক অভিযুক্ত। ছবি সূত্রঃ পিকচার অ্যালায়েন্স

ইউরোপে নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে সন্ত্রাসবাদ ও কট্টরপন্থি কর্মকাণ্ড রুখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে থাকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ইনফোমাইগ্রেন্টস জানাচ্ছে কীভাবে এই ধরনের বিপদের বিরুদ্ধে লড়ছে ইইউ, জানুন কীভাবে চিহ্নিত করবেন সন্ত্রাসবাদ।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে নাগরিকদের মুক্তভাবে চলাফেরা করার স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি, গুরুত্ব দেওয়া হয় সকল নাগরিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে সমানভাবে বিকশিত হবার সুযোগ দিতে। কিন্তু রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে সন্ত্রাসের সাহায্য নেওয়া বা তাতে কট্টরপন্থি উপাদান থাকলে তা ইউরোপীয় নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে।

ইইউ বেশ কিছু বিশেষ নীতি প্রণয়ন করেছে যা এক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ইউরোপ যা করছে

ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলির সম্মিলিত দায়িত্ব সন্ত্রাসবাদ ঠেকানো। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আইন প্রাধান্য পেলেও ইইউ-সংস্থাগুলি নিজেদের মধ্যে তথ্য ভাগাভাগি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করে থাকবিশেষ নজর

কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর মনোযোগ রাখা হয়, যা হয়ত নির্দিষ্ট সংগঠন বা ব্যক্তির আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে। নজর রাখা হয় সেই সব প্রতিষ্ঠানের ওপর যাদেরকে সাইবার আক্রমণ বা হামলা করলে অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে সমাজ-রাজনীতির কাঠামো।

পারিপার্শ্বিক ও ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়নের দিকে, যাতে করে সব ধরনের আচমকা আক্রমণ সামলে ওঠার ক্ষমতা থাকে।২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার নতুন 'কাউন্টার টেরোরিজম এজেন্ডা' বা সন্ত্রাসবাদ রোধে বিষয়সূচি প্রকাশ করেছে। কীভাবে ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে ঠেকানো যায়, কীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীদের চিহ্নিত করে তাদের কট্টরপন্থী বেআইনি কাজ থেকে সরিয়ে আনা যায়, তা রয়েছে এই বিষয়সূচির মূলে।

চার ধাপের এই বিষয়সূচিতে রয়েছেঃ

অনুমান বা আন্টিসিপেট- কোন ব্যক্তিরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন, কোন প্রতিষ্ঠান আক্রমণের নিশানা, কারা হতে পারেন আক্রমণকারী, কীভাবে ঘটতে পারে আক্রমণ, এসব অনুমান করা ইউরোপের অন্যতম দায়িত্ব।

প্রতিরোধ বা প্রিভেন্ট- অনুমানের ভিত্তিতে এগিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ঠেকানো যেতে পারে বড়-ছোট সব ধরনের সন্ত্রাসবাদী আস্ফালন। পাশাপাশি, মৌলবাদী ও চরমপন্থি চিন্তাধারাকে বিপজ্জনক না হতে দেওয়াও প্রতিরোধমূলক কার্যকলাপের অন্যতম।

নিরাপত্তা বা প্রটেক্ট- প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দেবার পাশাপাশি সম্ভাব্য আক্রমণকারীকে আক্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে দূরে রাখা ইইউ'র নিরাপত্তা প্রদানের অংশ।

প্রতিক্রিয়া বা রেসপন্ড- কোনো আক্রমণের ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব জনগণের ওপর যথাসম্ভব কম করা, দোষীদের বিচার ও সাজা দেওয়া, আক্রমণের শিকার ব্যক্তিদের সাহায্য করা ইইউ'র দায়িত্ব।

এছাড়া, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কীভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করবে, তা ঠিক করতে মাথায় রাখা হয়, ২০১৭, ২০১৫ ও ২০০৫ সালে প্রণয়ন হওয়া নীতিমালাগুলিও।

এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এই লিংকে

২০১৭ সালে আইএস-এর পতাকা ও সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র যা জার্মানির গ্যোটিঙ্গেন শহর থেকে বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ছবি সূত্রঃ পিকচার অ্যালায়েন্স
২০১৭ সালে আইএস-এর পতাকা ও সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র যা জার্মানির গ্যোটিঙ্গেন শহর থেকে বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ছবি সূত্রঃ পিকচার অ্যালায়েন্স

যেভাবে নাগরিক সচেতন হবেন

নাগরিকদের মধ্যে সন্ত্রাসবাদী প্রবণতা কমাতে বেশ কিছু জনমুখী প্রকল্প গ্রহণ করেছে ইইউ। এরমধ্যে অন্যতম ইউরোপীয় ইউনিয়নের র‍্যাডিকালাইজেশন আওয়ারনেস নেটওয়ার্ক (র‍্যান) বা মৌলবাদ সচেতনতা নেটওয়ার্ক।

ইউরোপে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সক্রিয় সংগঠনগুলিকে সংযুক্ত করে এই নেটওয়ার্ক। পাশাপাশি, মানুষ কী ভাবছেন, কী চাইছেন, এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ করার দায়ও বর্তায় এই নেটওয়ার্কের ওপর। এছাড়া, এবিষয়ে কর্মরত গবেষক ও অধ্যাপকদের মতামতকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকে র‍্যানের কাজকর্ম।

বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এবিষয়ে সচেতনতা ছড়াতে রয়েছে বিশেষ র‍্যান ইয়ং এম্বাসেডর প্রকল্প। বর্তমানে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দশজন র‍্যান ইয়ং এম্বাসেডর রয়েছেন অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান, গ্রিস, ইটালি, স্পেন ও সুইডেনে।

রয়েছে একটি নির্দিষ্ট তরুণদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মও।

র‍্যানের কাজকর্ম ও আদর্শ বিষয়ে বিশদে জানতে ক্লিক করুন এই লিংকে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ঠেকানোর পাশাপাশি জোর দেয় সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নের উৎস চিহ্নিত করাতেও। কীভাবে তা করে থাকে ইইউ, তা জানতে চাপুন এই লিংকটি

সন্দেহজনক টাকার লেনদেন, নিয়মের বাইরে বড় অঙ্কের লেনদেনের ওপর নজর রাখতে বিশেষ ফিনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা এফআইইউ এর সাহায্য নিয়ে থাকে ইইউ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে এবিষয়ে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ইউরোপোল সংস্থাটি। তারা জানাচ্ছে যে এই মুহূর্তে ইউরোপে সবচেয়ে বড় বিপদের ঝুঁকিগুলো এইসব শাখায় ভাগ করা হয়েছে-

  • জিহাদপন্থি সন্ত্রাসবাদ,
  • জাতিভিত্তিক-জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসবাদ,
  • অতি বামপন্থি ও নৈরাজ্যবাদী সন্ত্রাসবাদ,
  • ডানপন্থি সন্ত্রাসবাদ, ও
  • একক ইস্যুভিত্তিক সন্ত্রাসবাদ।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে জিহাদপন্থি সন্ত্রাসবাদীদের থেকে।

কোন ধারায় ঝুঁকি ঠিক কতটা, তা জানুন এখানে

নাগরিকরা কীভাবে বুঝবেন কোন কাজ সন্ত্রাসবাদী হয়ে উঠছে, তা নিয়ে বিস্তারিত জানুন এই লিংকে

এসএস/কেএম (ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউরোপোল)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন