প্যারিসের অদূরে অবস্থিত মেনিল আমোলে নামক ডিটেনশন সেন্টার বা সিআরএ। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস
প্যারিসের অদূরে অবস্থিত মেনিল আমোলে নামক ডিটেনশন সেন্টার বা সিআরএ। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস

বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে ইল-দ্য-ফ্রন্সঁ অঞ্চলের মেনিল-আমোলে ডিটেনশন সেন্টার বা সিআরএ থেকে পালিয়ে গেছে তিনজন অভিবাসনপ্রত্যাশী। আটককেন্দ্রটি প্যারিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘শার্ল-দ্য-গউল’ বিমানবন্দরের রানওয়ের খুব কাছেই অবস্থিত। উল্লেখ্য, এই সিআরএ’তে বেশ কয়েক মাস ধরে পরিস্থিতি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। লা সিমাদ জানিয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির অজুহাতে নেয়া পদক্ষেপগুলি সেখানে "নারকীয়" পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

২৮ জুলাই বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই রাতের মধ্যে, ইল দ্র ফ্রন্সঁ বিভাগের সেইন-এ-মার্ন ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন মেনিল-আমোলে নামক প্রশাসনিক ডিটেনশন সেন্টার (সিআরএ) এ আটক থাকা তিন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। মূলত আটক কেন্দ্র থেকে বিদ্রোহ করেই এই তিন বন্দী পালিয়ে গিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বিদ্রোহের সময় দুজন ব্যক্তি মাথায় আঘাত পায়, তাদের একজন ছাদ থেকে এবং অন্যজন দালানের অন্য একটি অংশ থেকে পড়ে যায়।

এ ব্যাপারে ইনফোমাইগ্রেন্টসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইল-দ্য-ফ্রন্সেঁ বিভাগের আটক ব্যবস্থার মারিওঁ বোফিস জানান, “৩ নং সিআরএতে তিন দিন ধরে বেশ কিছু বন্দি পালানোর জন্য দালানের ছাদে উঠার চেষ্টা করছিল এবং গতকাল [বুধবার] বিকেলে এক ব্যক্তি পালাতে সক্ষম হন।"

সিআরএ-টিতে আটক থাকা ২২ বছর বয়সী টিউনিসিয়ান তরুণ আহমেদ ইনফোমাইগ্রেন্টসকে একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, আটককৃতরা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পরিচালকের সাথে কথা বলার দাবিতে বারবার ভবনের ছাদে উঠার চেষ্টা করছিলেন। "আমাদের পরিবারের সদস্যরা আমাদের জন্য অতিথি কক্ষে খাবার ও নিত্যব্যবহার্য হাইজেনিক পণ্যও আনতে পারছে না। কেন? আমাদেরকে এখানে পশুর মতো রাখা হয়েছে।”

বুধবার সন্ধ্যায় ভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে কিছু লোক তখনও ছাদে উঠার চেষ্টা করছিল। এ ঘটনায় ২ নং কেন্দ্র ও অন্যান্য পুলিশ ব্রিগেড থেকে পুলিশী পাহারা বৃদ্ধির আহ্বান করা হয়েছিল।

মারিও বোফিস আরও যোগ করেন, "সে সময় সিআরএটির ২ নং কেন্দ্রেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল। সেখানে বন্দিরাও ছাদে ওঠার চেষ্টা করছিল এবং দু'জন পালাতে সক্ষম হয়েছিল।"

মারিও আরও ব্যাখ্যা করেন, “মেনিল-আমোলে নামক সিআরএটি ফ্রান্সের বৃহত্তম আটককেন্দ্র। এটি প্যারিসের রোয়াসি বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে কয়েকশ মিটার দূরে অবস্থিত। কোভিড -১৯ মহামারী শুরু হওয়ার পরে, কোন বিদেশীকে বহিষ্কারের আগে পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়। কোন বন্দি যদি টেস্ট দিতে অস্বীকার করে সেক্ষেত্রে তাকে ৯০ দিনের আটক শেষে আবার পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। কোন কারণে ফেরত পাঠানো সম্ভব না হলে প্রায়শই তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয় এবং কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় বন্দিদের আবার সিআরএ গ্রেফতার করে থাকে।"।

ফরাসি সিআরএগুলিতে আটক রাখার শর্তগুলি নিয়ে নিয়মিতভাবে অভিবাসীরা এবং অধিকার সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে নিন্দা জানিয়ে আসছে। উদাহরণস্বরূপ, জানুয়ারির শুরুতে মেনিল-আমোলেতে আটক থাকা তিনজন অভিবাসনপ্রত্যাশী এই কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল তাদেরকে নগ্ন করে অনুসন্ধান করা হয়েছে যেটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া বিভিন্ন সময় আটককেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন দাবিতে অনশন এবং আত্মহত্যার প্রচেষ্টার মত ঘটনাও উঠে আসে।

ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপ ইকোলোজি বা পরিবেশবাদী দলের সিনেটর এস্থের বেনবাসা এক হঠাৎ সফরে সিআরএ গিয়ে বিস্মিত হন। তিনি বিদেশীদের আটক রাখার সার্বিক ব্যবস্থাকে নিন্দা করে আটককেন্দ্রগুলি তুলে দেবার আহ্বান জানিয়েছিলেন।


এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন