সার্বিয়ার মাজদান এর কাছাকাছি রোমানিয়া অভিমুখে হাঁটছে অভিবাসীরা। বলকান অঞ্চলের এসব রাস্তা ২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকে। ১১ই মে ২০২১ তারিখে তোলা ছবি।  ছবিঃ Picture Alliance/Michael Bunel
সার্বিয়ার মাজদান এর কাছাকাছি রোমানিয়া অভিমুখে হাঁটছে অভিবাসীরা। বলকান অঞ্চলের এসব রাস্তা ২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকে। ১১ই মে ২০২১ তারিখে তোলা ছবি। ছবিঃ Picture Alliance/Michael Bunel

রোমানিয়ার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রোববার দেশটির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মানবপাচারে জড়িত সংঘবদ্ধ একটি অপরাধী চক্রের ১৮ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

আটককৃতরা বলকান অঞ্চলে মানবপাচারের সাথে জড়িত বলে দাবি পুলিশের৷ অভিযানের সময় অবৈধভাবে রোমানিয়ান সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টারত প্রায় ৪৯০ অভিবাসনপ্রথ্যাশীও ধরা পড়ে বলে জানা গেছে৷ ।

অভিযানের সময় পুলিশ পাচারকারীরা থাকেন সন্দেহে ২২টি ঘরে তল্লাশি করে৷ সেসময় এ ১৮ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাছাড়া আটককৃতদের কাছ থেকে মানবপাচারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীসহ, পাচঁটি কার ও ২৬টি অন্যান্য পরিবহন, বেশকিছু মোবাইল ফোন এবং ২২ হাজার ইউরোর সমমানের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

মিশর, ইরাক, সিরিয় ও রোমানিয়া মানবপাচাকারদারীদের নিয়ে গঠিত এ চক্রটি ২০২০ সালে থেকে সক্রিয় বলে জানা গেছে৷ পুরো বলকান অঞ্চল জুড়ে বিভিন্ন দেশে তাদের শাখা আছে৷ সেখান থেকে তাদের প্রতিনিধিরা জর্ডান, ইরান, ইরাক এবং সিরিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের অভ্যর্থনা, বাসস্থান এবং পরিবহন পরিচালনাসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। 

অপরাধী চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিত হয়ে নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেমন মাদক পাচার, দলিল জালিয়াতি এবং ভূমি সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ছিল বলে দাবি পুলিশের। 

পুলিশ জানায়, রোমানিয়ায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি অপরাধ চক্র প্রথমে, বুলগেরিয়া এবং সার্বিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের বুখারেস্ট এবং পশ্চিম রোমানিয়ার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করে সীমান্ত পার হতে সুবিধা প্রদান করে থাকে। এরপর অভিবাসীদের চূড়ান্ত গন্তব্য জার্মানি যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাঙ্গেরিতে পাচার করা হয়। 

পাচারকারী চক্র এবং সীমান্ত পার হওয়ার উপর নির্ভর করে অভিবাসীরা জনপ্রতি ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত অর্থ প্রদান করছিল। উদাহরণস্বরূপ, রোমানিয়া থেকে জার্মানি পার হওয়ার জন্য ৪ থেকে ৫ হাজার ইউরো প্রদান করতে হয়। যেসকল অভিবাসীর সাথে ছোট বাচ্চা সহ পরিবার ছিল তাদেরকে অত্যন্ত নিম্ন ও করুণ অবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রায়শই টয়লেট বা পানির সংযোগ ছিল না। 

নির্বিঘ্নে পাচার কার্যক্রম চালাতে সন্দেহভাজনরা নিরাপদ কিছু বাসা ভাড়া নিয়েছিল। এছাড়া চক্রের সদস্যদের বাসস্থানও তারা ব্যবহার করেছিল যেগুলো বিশেষত রোমানিয়ার ক্যালারাশি কাউন্টি, ইয়ালোমিয়া কাউন্টি এবং তিমিসুয়ারা এলাকায় অবস্থিত। 

৬০ মিটার স্কয়ার আয়তনের একটি নিরাপদ বাড়িতে সন্দেহভাজনরা একই সময়ে প্রায় ১০০ জন লোককে লুকিয়ে রেখেছিল। যেখান থেকে অভিবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যথাযথ বায়ু চলাচল সুবিধা ছাড়াই পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত লরির মাধ্যমে স্থানান্তরিত করা হয়।

অভিযান পরিচালনার সময় ইউরোপোল তথ্য আদান -প্রদানকে সহজ করেছে এবং বিশ্লেষণধর্মী কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। ইউরোপোলের তাদের এক বিশ্লেষককে রোমানিয়ায় নিযুক্ত করেছে যাতে ইউরোপোলের তথ্যকেন্দ্রের সাথে অভিযান চলাকানীন বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা যায়।


এমএইউ/ আরআর (ইউরোপোল)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন