লিথুয়ানিয়ার ক্যাম্পে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা | ছবি: এপি/পিকচার অ্যালায়েন্স
লিথুয়ানিয়ার ক্যাম্পে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা | ছবি: এপি/পিকচার অ্যালায়েন্স

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যে স্রোত বেলারুশ থেকে লিথুয়ানিয়ায় প্রবেশ করেছে, তা মোকাবিলা করতে বিপুল অঙ্কের অর্থ সাহায্য করবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। সোমবার তা নিশ্চিত করেছে ইইউ কর্তৃপক্ষ।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার ইলভা ইয়োহানসন রোববার লিথুয়ানিয়ায় পৌঁছন। ওইদিনই সেখানে পৌঁছায় ২৮৭জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। এক দিনে একসাথে এত অভিবাসনপ্রত্যাশী এর আগে আসেনি সেখানে। স্বাভাবিকের চেয়ে সংখ্যাটি ছিল তিনগুণ। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বেশির ভাগই ইরাকের নাগরিক।

আচমকা এই অভিবাসন সংকটের জন্য লিথুয়ানিয়া ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দায়ী করছে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে। ইয়োহানসন বলেন, "লুকাশেঙ্কো সরকারের তরফে এটা এক ধরনের উসকানি। আমাদের বোঝাতে হবে যে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জমিতে যে কেউ চাইলেই ঢুকে পড়তে পারে না।"

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "এই অঞ্চলে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে হবে লিথুয়ানিয়া, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও শেঙ্গেনভুক্ত রাষ্ট্রগুলিকে। সে কারণেই, আমরা পুরো ইইউ'র পক্ষে বেলারুশের সাথে সীমান্ত সুরক্ষিত করতে লিথুয়ানিয়ার পাশে দাঁড়াবো।"

দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় লিথুয়ানিয়া

২০২০ সালে লিথুয়ানিয়ায় আসেন ৮১জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। এ বছর এখন পর্যন্ত লিথুয়ানিয়ায় এসেছেন তিন হাজার ৮৩২জন, যাদের দুই-তৃতীয়াংশই ইরাক থেকে আসা। ইরাকের রাজধানী বাগদাদ ও বেলারুশের রাজধানী মিনস্কের মধ্যে সাধারণত সপ্তাহে দুটি বিমান চলতো, তবে এখন সপ্তাহে চলছে চারটি। এছাড়া, বাসরা, ইরবিল ও সুলাইমানিয়াহ শহরের সাথেও বেলারুশ বিমান যোগাযোগ চালু করবে বলে জানাচ্ছে বার্তা সংস্থা এপি।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের তরফে যে সকল অভিযোগ লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে তোলা হয়, তার বদলা নিতেই এমনটা করছে বেলারুশ কর্তৃপক্ষ, ধারনা ইইউ'র।

লিথুয়ানিয়ার সীমান্তরক্ষীরা সোমবার জানায় যে, তাদের পক্ষে আর নতুন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষকে সীমান্ত কেন্দ্রগুলি থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সরিয়ে নেয়ার অনুরোধও জানায় তারা। সীমান্ত সুরক্ষা পরিষেবার পরিচালক রুস্তামাস লিউবাহেভাস বলেন, "আমরা এতদিন সামলেছি, কিন্তু এখন আর আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।"

ইয়োহানসন লিথুয়ানিয়াকে আশ্বস্ত করে বলেন, "আমি খুব শিগগিরই এখানে একটি পরিদর্শন দল পাঠাবো৷ তারা সুষ্ঠ সীমান্ত ব্যবস্থাপন পরিষেবার অর্থায়নের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। সাথে নজরদারি ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতেও কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা দেখবে এই দলটি।"

২০২২ সালের মধ্যে এই কাজে এগোতে বিশ থেকে ত্রিশ মিলিয়ন ইউরো লিথুয়ানিয়াকে দেবে ইইউ, জানান ইয়োহানসন। লিথুয়ানিয়া চায় বেলারুশের সাথে সীমান্তে দেওয়াল তুলতে, যা গড়তে প্রয়োজন হবে ১০০ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু ইউ নীতি অনুযায়ী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে দেওয়াল তোলা যায় না।

কিন্তু এই দেওয়াল তুলতে লিথুয়ানিয়া বদ্ধপরিকর। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইনগ্রিডা সিমোনাইটে বলেন, "একদিন আমরা অবশ্যই দেওয়াল তুলবো, তা সেটা ইউ'র অর্থায়নে হোক বা না হোক। সীমান্তকে সুরক্ষিত করতে হবেই।"

এসএস/এসিবি (এপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন