২৫ জুলাই, টিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সায়েদ সংসদ স্থগিত করে দেশটির নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নেন। ছবিঃ Slim Abid/picture-alliance
২৫ জুলাই, টিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সায়েদ সংসদ স্থগিত করে দেশটির নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নেন। ছবিঃ Slim Abid/picture-alliance

এক সপ্তাহ ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার পর টিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছেন, গণতন্ত্র বিরোধী এজেন্টরা দেশটির তরুণদের বিপজ্জনক অভিবাসনের জন্য অর্থ প্রদান করছে। তিনি অবশ্য মন্তব্যে কারো নাম নির্দিষ্ট করে বলেননি।

টিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সায়েদ দাবি করেছেন, অবৈধভাবে ইউরোপে যেতে দেশটির তরুণদের অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দশ বছর আগে টিউনিশিয়ার বিপ্লব পরবর্তী গণ অভিবাসন আন্দোলনের পুনরাবৃত্তি আশায় কিছু লোক এইভাবে দেশের অখণ্ডতা নষ্ট করতে চেষ্টা করছে।

রাষ্ট্রপতি দপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, "কিছু লোক আছে যারা টিউনিশিয়াকে আঘাত করে। আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করি কিভাবে তারা ১৫০০ যুবক এভাবে চলে যেতে পারে। তারা যুবকদের টাকা দেয় যাতে তারা চলে যায়। তারা দারিদ্রাতকে কাজে লাগিয়ে ২০১১ সালের মত একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায়। তারা টিউনিশিয়ার সাথে ইটালি, ইউরোপ এবং অন্যান্য দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।"

তবে তিনি তাঁর বক্তব্যে কারা উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রচেষ্টায় যুবকদের দেশান্তরে উৎসাহিত করার চক্রান্তের পেছনে কাজ করছে তা স্পষ্ট করে বলেননি।

এ বছর ইউরোপের মাটিতে পৌঁছানোর জন্য শত শত টিউনিশিয়ান তরুণ বিপজ্জনক নৌকা এবং ডিঙ্গিতে সমুদ্র অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল চলাকালীন মাসগুলিতে সমুদ্র পার হওয়ার প্রবণতা বেশী দেখা যায়।  

ভঙ্গুর গণতন্ত্র

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির পরে অনেক পর্যবেক্ষক টিউনিশিয়ার গণতন্ত্রের শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর রাষ্ট্রপতি কাইস সায়েদ প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেছেন, যা কার্যকরভাবে দেশটির সংসদীয় গণতন্ত্রকে স্থগিত করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা রাষ্ট্রপতি বেন আলীর শাসন আমলের ন্যায় এক ব্যক্তির শাসনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বিশাল অংশে আরব বসন্ত আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় বেন আলীকে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। আরব বসন্তের পরে গণতন্ত্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে টিউনিশিয়া একমাত্র দেশ।

সীমান্ত রক্ষীরা বেশ কয়েকটি নৌকাকে আটকে দেয়

সম্প্রতি টিউনিশিয়ান কোস্টগার্ড রবিবার ৩১ জন যুবককে উদ্ধার করেছে বলে জানানো হয়।

ভূমধ্যসাগরে নিয়োজিত ইউরোপের বেসরকারি সংস্থা এসওএস মেডিটেরানে জানায়, শনি ও রোববার জার্মানির উদ্ধারকারী জাহাজ সি ওয়াচ, রেসকিউশিপ এবং ফ্রান্সের বেসরকারি জাহাজ ওশান ভাইকিং ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া ও টিউনিশিয়ার সমুদ্র অঞ্চলে বেশ কয়েকটি অভিযানে এ সকল অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধার করে৷

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, উদ্ধারকারীদের মধ্যে রয়েছেন তিন মাস বয়েসি এক শিশু ও ২৮জন নারী৷

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, তারা ইউরোপ অভিমুখে ১১ টি যাত্রা প্রচেষ্টা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন।


এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন