লিথুয়ানিয়ার একটি সীমান্ত চেকপয়েন্টে অভিবাসীরা। ছবিঃ রয়টার্স
লিথুয়ানিয়ার একটি সীমান্ত চেকপয়েন্টে অভিবাসীরা। ছবিঃ রয়টার্স

লিথুয়ানিয়ান সীমান্ত রক্ষীরা মঙ্গলবার জানিয়েছে, অভিবাসন সংকট মোকাবেলার লক্ষ্যে প্রতিবেশী বেলারুশ থেকে এই ইইউ-সদস্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে দেশটির এনজিওগুলো জানিয়েছে, এটি আশ্রয় অধিকার বিষয়ক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

লিথুয়ানিয়ান কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করছে, ইইউ নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নিতে রাশিয়া সমর্থিত বেলারুশিয়ান সরকার এই অভিবাসন প্রবাহকে সংগঠিত করেছে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধান রুস্তামাস লিউবাজেভাস বলেন, "কেউ অবৈধভাবে লিথুয়ানিয়া ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক সীমান্ত চেকপয়েন্টে পাঠানো হবে।" তিনি বলেন, “যারা আইন মেনে চলছেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 লিথুয়ানিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগলে বিলোটাইটের নেয়া সিদ্ধান্তটি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিবাসীদের সরকারী সীমান্ত ক্রসিং পয়েন্ট বা কূটনৈতিক মিশনগুলিতে সরানোর জন্য শক্তি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়া হয়, যেন তারা সেখানে আইনগতভাবে আশ্রয়ের অনুরোধ করতে পারে।

কিন্তু রুস্তামাস লিউবাজেভাস মঙ্গলবার সীমান্তরক্ষীদের নেওয়া পদক্ষেপগুলির সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে তারা শক্তি ব্যবহার করেনি।

লিথুয়ানিয়ান এনজিও ও অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, অভিবাসীদের ফিরিয়ে দেয়া সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। এনজিও ডাইভারসিটি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপের গবেষক আকভিল ক্রিসিউনাইট এএফপি’কে বলেন, "এটি নিরাপদ কোন দেশে আশ্রয় নেওয়ার মৌলিক অধিকারকে সীমাবদ্ধ করে। বেলারুশ নিরাপদ দেশ নয় এবং আমরা জানি যে সেখানে গুরুতরভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।”

বছরের শুরু থেকে, ২.8 মিলিয়ন অধিবাসীর দেশ লিথুয়ানিয়া প্রায় ৪,০০০ এরও বেশি অভিবাসীর প্রবেশ করেছে যাদের বেশিরভাগই ইরাকি নাগরিক। ২০২০ সালে যেখানে মাত্র ৮১ জন অভিবাসী প্রবেশ করেছিল।

লিথুয়ানিয়া বেলারুশের বিরোধী নেতাকার্মীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় দেশ হয়ে উঠলে গত বছর থেকে মিনস্ক এবং ভিলনিয়াসের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

বেলারুশিয়ান বিরোধী দলীয় নেতা স্বেতলানা টিখানোভস্কায়া দাবি করেছেন তিনি মিঃ লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে আগস্ট ২০২০ এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বৈধভাবে জয়ী হয়েছেন, বর্তমানে তিনি লিথুয়ানিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন।

এদিকে বিতর্কিত নির্বাচনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের দমন অভিযানের পর গত বছর বেলারুশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে ইইউ।


এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন