ল্যান্ডমাইন সম্পর্কে অভিবাসীদের সতর্ক করা হচ্ছে | সূত্র: উইকিপিডিয়া
ল্যান্ডমাইন সম্পর্কে অভিবাসীদের সতর্ক করা হচ্ছে | সূত্র: উইকিপিডিয়া

‘বলকান রুট’-এ ল্যান্ডমাইন থাকাসহ ডুবে মরা, শোষণ এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিষয়ে অভিবাসীদের সতর্ক করেছে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম৷

তুরস্ক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপ হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-তে প্রবেশ করতে চায় অনেক অভিবাসী৷ বলকান রুট হিসেবে পরিচিত এই পথে নানা ধরনের ঝুঁকি রয়েছে৷ অনেকে মনে করেন, ঝুঁকি বলতে শুধু ইইউ সীমান্ত বন্ধ থাকা কিংবা সীমান্তরক্ষীদের হাতে নির্যাতন শিকার হওয়া বা মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র হারানো বোঝায়৷ 

তবে, আইওএম এবং ‘বসনিয়া এন্ড হারৎসোগোভিনা মাইন অ্যাকশন সেন্টার’ সম্প্রতি অভিবাসীদের সতর্ক করতে জানিয়েছে যে এই পথের নানা জায়গায় ল্যান্ডমাইন রয়েছে যা বিপদজনক৷ সেন্টারটির হিসেবে নব্বইয়ের দশকে যুদ্ধ চলাকালে সেই অঞ্চলে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন-এর মধ্যে এক লাখ ৮০ হাজার-এর মতো অবিস্ফোরিত মাইন এখনো নানা স্থানে রয়ে গেছে৷  

আইওএম-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের পর এক লাখ ৩০ হাজার মাইন সরানো হয়েছে৷ আর এই পথে মাইন বিস্ফোরণে মারা গেছেন ৬১৭ জন৷ চলতি বছরের মার্চে ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক শরণার্থী নিহত হন৷ সেই ঘটনায় চার অভিবাসী আহতও হন৷ 

গত মার্চে মাইন বিস্ফোরণে আহত এক ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে ক্রোয়েশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা | ছবি: পিকচার-অ্যালায়েন্স/ক্রোয়েশিয়া পুলিশ
গত মার্চে মাইন বিস্ফোরণে আহত এক ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে ক্রোয়েশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা | ছবি: পিকচার-অ্যালায়েন্স/ক্রোয়েশিয়া পুলিশ

ল্যান্ডমাইন নিষিদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালানো গোষ্ঠী আইসিবিএল গতবছর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে বসনিয়া এন্ড হারৎসোগোভিনা ল্যান্ডমাইন পোঁতা আছে এমন এলাকাগুলো এখনো পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেনি যদিও ২০১৮ সাল থেকে আইসিবিএল এই কাজের জন্য দেশটিকে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে৷  

বসনিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ায় এখনো একশ’ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকায় ল্যান্ডমাইন রয়ে গেছে যা পরিষ্কার করা হয়নি৷ তুরস্ক এবং সিরিয়া সীমান্তের অবস্থাও একই বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন৷  

আইসিবিএল-এর হিসেবে তুরস্কের সঙ্গে থাকা ইরান, আর্মেনিয়া এবং ইরাক সীমান্তেও ল্যান্ডমাইন পোঁতা রয়েছে৷ সিরিয়াতে ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর দেশটির সঙ্গে তুরস্ক সীমান্তে আরো নতুন ল্যান্ডমাইন পোঁতা হয়েছে৷ তুরস্ক নিয়ন্ত্রিত সাইপ্রাসেও ল্যান্ডমাইন রয়েছে৷ 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে গোটা বিশ্বে ল্যান্ডমাইন-এ মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫৫৪ জন৷ এরমধ্যে শুধু সিরিয়াতেই মাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ৷ এছাড়া কসভোতেও এভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে৷ তবে, নিহতরা অভিবাসী ছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ 

আইওএম সম্প্রতি বসনিয়ায় থাকা অভিবাসী এবং শরণার্থীদের মাইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়েছে৷ এই বিষয়ে সংস্থাটির প্রশিক্ষক রাজো জিভাক বলেন, ‘‘বসনিয়ায় ল্যান্ডমাইন থাকার কথা খুব কম অভিবাসীই জানেন৷ আর যারা জানেন তারা এটা জানেন না কীভাবে সেসব মাইন থেকে দূরে থাকা যায়৷’’

‘‘প্রত্যন্ত বা পরিত্যক্ত অঞ্চলে চলাচলের সময় বাড়তি সতর্ক থাকতে বলেছি আমরা,’’ যোগ করেন তিনি৷

 

অন্যান্য প্রতিবেদন