প্রতীকী ছবি | ছবি: আনসা
প্রতীকী ছবি | ছবি: আনসা

টিউনিশিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে চার শিশুসহ মোট ছয়জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে লক্ষণীয়ভাবে বাড়ছে নিজ উদ্যোগে ঝূকিপূর্ণ অভিবাসনের চেষ্টা বা 'সেলফ-স্মাগলিং' চর্চা।

টিউনিশিয়ার টোজেউর অঞ্চলের গভর্নর বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেন যে, আলজেরিয়ার সাথে সীমান্তবর্তী টিউনিশিয়ার মরুভূমিতে ছয়জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু৷ ধারণা করা হচ্ছে তারা পানির অভাবে মারা গেছেন৷ 

গভার্নার আয়মেন বেজাওউই জানান, যে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রত্যেকেই সাব-সাহারান আফ্রিকার মানুষ। টিউনিশিয়াসহ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে প্রবল উষ্ণ প্রবাহের কবলে। এই চরম আবহাওয়ায় পানির অভাবে মারা গেছেন এই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।

এই চরম আবহাওয়ার মাঝেও টিউনিশিয়া কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে বাড়ন্ত অভিবাসনের ঢলের কথা। তাদের মতে, আফ্রিকার দেশগুলি থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আরো বেশি করে চেষ্টা করছেন আলজেরিয়া হয়ে টিউনিশিয়া প্রবেশের। সেখান থেকে তাদের গন্তব্য থাকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপ।

কিন্তু অন্যদিকে গত কয়েক সপ্তাহে ভূমধ্যসাগর থেকে বহু মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। পাশাপাশি, নৌকাডুবির ফলে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী বিপন্ন অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন।

অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নিজেরাই বেড়িয়ে পড়ছেন অভিবাসনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে

টিউনিশিয়ার স্থানীয় তরুণদের মধ্যে ও সেখানকার অভিবাসনপ্রত্যাশী জনসংখ্যার মধ্যে লক্ষণীয়ভাবে বাড়ছে নিজ উদ্যোগে ইউরোপের উদ্দেশ্যে অবৈধপথে যাত্রার হার। সাধারণত অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশ করতে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা দালালদের সাহায্য নেন। দালালরা অর্থের বিনিময়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রার জন্য নৌকাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করে দেয়।

কিন্তু সাম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে, দালালদের বদলে নিজেরাই এমন উদ্যোগ নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এমন উদ্যোগের কথা ও ভিডিও ভাগ করে নিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

দালালদের সাহায্যে ইউরোপে পাড়ি দেবার বিপদ সম্বন্ধে এই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা অবগত। তারা জানেন যে, অর্থের লোভে কোনো দালাল প্রয়োজনের চেয়ে কম তেল ভরে থাকে নৌকায়। বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দালালরা টাকা বাঁচাতে একটি ডিঙিতে তার ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি সংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তুলে দেয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আর তাই নিজেরাই বেছে নিচ্ছে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের পথ৷ একারণেই হয়ত বাড়ছে টিউনিশিয়ায় আত্ম-পাচারের চল, কিন্তু তার ব্যপ্তি কতটুকু তা নিয়ে নিশ্চিত নন গবেষক বা সমাজকর্মীরা। যে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এই পন্থা অবলম্বন করেন, তারা গোপনীয়তা মেনে চলে যাতে করে কোনো দালাল বা কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা না পড়ে।

কিন্তু ভূমধ্যসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক পথে এই পন্থা কতটুকু নিরাপদ, তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট অস্পষ্টতা।

এসএস/আরআর (এপি, ডয়চে ভেলে)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন