অ্যাসপারাগাস নামক এক প্রকার সবজি ক্ষেতে কর্মরত শ্রমিকরা। ছবিঃPicture-alliance/dpa/A.Dedert
অ্যাসপারাগাস নামক এক প্রকার সবজি ক্ষেতে কর্মরত শ্রমিকরা। ছবিঃPicture-alliance/dpa/A.Dedert

ক্রিতি দ্বীপে পাকিস্তানি শ্রমিকদের ওপর বর্ণবাদী হামলা ও লাঞ্ছিত করার পেছনে জড়িত সন্দেহে ৭ গ্রিক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। হামলায় আহত ১৩ জনের মধ্যে দুজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

১৪ আগস্ট শনিবার, গ্রিক পুলিশ সূত্রে এএফপি জানিয়েছে, ক্রিতি দ্বীপের লাসিথি অঞ্চলে বসবাসকারী সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই গ্রিক নাগরিক এবং পুরুষ। উল্লেখ্য তারা ১১ আগস্ট বুধবার, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ১৩ জন অভিবাসী শ্রমিককে আক্রমণ করে লাঞ্ছিত করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এএফপি জানায়, ঘটনার দিন অভিযুক্ত পুরুষরা ইগিওস গার্গিওসে অঞ্চলে অভিবাসী শ্রমিকদের বাড়িতে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ধ্বংস করে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সময় "মারধর" করে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর পুলিশের কাছে প্রেরিত একটি ভিডিতে দেখা যায় মূলত সন্ধায় একটি পার্টি থেকে মদ্যপ অবস্থায় ফিরে অভিযুক্তরা এই হামলা চালিয়েছিল।  

গ্রিক পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সাতজনের বিরুদ্ধে হামলা, সম্পত্তির ক্ষতি, চুরি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আহতদের মধ্যে দুজন এখনও হাসপাতালে

হামলার পরে প্রশাসনের জরুরী পরিষেবার সাহায্যে বেশিরভাগ শ্রমিক নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে তারপর তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্রিতিলাইভের মতে, এটি একটি "মর্মান্তিক বর্ণবাদী আক্রমণ"। আহতদের মধ্যে দুইজন এখনও গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন।

ফরাসি দৈনিক লো মোন্দে ফিচার হওয়া গ্রিসের পাকিস্তানি সমাজের মুখপাত্র ও অভিবাসী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাভেদ আসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপের সূত্র উল্লেখ করে বলেন, ২০০৯ সাল থেকে গ্রিসে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য বর্ণবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, লাঠি এবং ছুরি হাতে নিয়ে একদল লোক থেসালোনিকির কাছে অবস্থিত ওরেওকাস্ট্রো নামক এলাকায় একটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের আশ্রয় কেন্দ্রে প্রবেশ করে চারজন বাসিন্দাকে আহত করেছিল।


এমএইউ/এসএস 


 

অন্যান্য প্রতিবেদন