তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকর ১৪  আগস্ট সীমান্তে প্রাচীর তৈরীর কাজ পরিদর্শন করেন। ছবিঃ রয়টার্স
তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকর ১৪ আগস্ট সীমান্তে প্রাচীর তৈরীর কাজ পরিদর্শন করেন। ছবিঃ রয়টার্স

আফগানিস্তানের চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে দেশটি থেকে ব্যাপক হারে শরণার্থী প্রবেশের শঙ্কায় ইরানের সাথে তিন মিটার উঁচু এবং ২৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করতে চায় আঙ্কারা । পাশাপাশি তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এর্দোয়ান এ ব্যাপারে পাকিস্তানের সাথে ‘সহযোগিতা’ জোরদার করতে চান বলে জানিয়েছেন।

তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকেই দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ নির্বাসিত শরণার্থী আগমনের আশংকা করছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। তুরস্ক সরকার যতটা সম্ভব এই নতুন অভিবাসন স্রোতকে সামাল দিতে ইরান সীমান্তব্যতী ভ্যান প্রদেশে নির্মিাণাধীন তিন মিটার উঁচু কংক্রিটের দেয়ালের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

নির্মাণাধীন প্রাচীরটি প্রায় ২৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ইরানের সাথে তুর্কি সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত হবে। এই দেয়ালের মাধ্যমে সীমান্তের বড় একটি অংশকে সুরক্ষিত করা হবে যা মূলত আফগানিস্তান থেকে তুরস্কে প্রবেশের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 

সীমানা দেয়ালের পাশাপাশি কাঁটাতারের বেষ্টনী, রাডার ও সারিবদ্ধ শতাধিক পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী অঞ্চলকে পর্যবেক্ষণে রাখবে তুরস্ক।

মূলত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজটি শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে৷ তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এর নির্মাণকাজ উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত করা হয়েছে। এর সঠিক অগ্রগতি সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। যেমন, আঙ্কারা বলছে প্রাচীর নির্মাণের কাজ প্রায় ‘শেষ‘। অপরদিকে গণমাধ্যম এবং সংবাদ সংস্থাগুলো বলেছে, এখন পর্যন্ত ৫ থেকে ১১০ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 

আরও পড়ুন>>বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশের আশ্রয় প্রার্থীদের জন্য তুরস্ককে ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশ’ ঘোষণা করেছে গ্রিস


তালেবান কাবুল দখলের পর থেকেই তুর্কি কর্তৃপক্ষ দেয়াল নির্মাণের কাজকে আরও দ্রুত শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকর ১৪ এবং ১৫ আগস্ট সীমান্তে গিয়ে ‘দুর্গম‘ প্রাচীর তৈরীর কাজ পরিদর্শন করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, "আমরা থার্মাল ইমেজিং সহ অন্ধকারে কাজ করতে সক্ষম এরকম যন্ত্রপাতির সাহায্যে সজ্জিত এক হাজার নজরদারি যান দিয়ে কাজ করছি। ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল টাওয়ার ও অ্যাকোস্টিক সেন্সরের সাহায্যে সীমান্তে যেকোনো গতিবিধি আমরা খুব সহজে সনাক্ত করতে পারব।’’

ফিরে দেখা ইইউ-তুরস্ক চুক্তি

ইইউ-তুরস্ক চুক্তিকে কেন্দ্র করে এর্দোয়ানের সরকারও বিরোধীদের চাপে রয়েছে। ৬ বিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে সিরিয়া থেকে নির্বাসিতদের স্বাগত জানানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল তুরস্ক। এই চুক্তির ফলস্বরূপ, তুরস্কের ভূখণ্ডে বর্তমানে প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন সিরিয়ান শরণার্থী রয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছিলেন ‘‘তুরস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তরক্ষী কিংবা শরণার্থী শিবির হবে না।’’

১৬ আগস্ট ইস্তানবুলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভির সাথে সাক্ষাৎ পরবর্তী বক্তব্যে এর্দোয়ান বলেন, ‘‘আমরা আফগানিস্তান থেকে শুরু করে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব৷’’ তবে এ জন্য আমাদেরকে অবশ্যই পাকিস্তানের সাথে পারষ্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে এবং শক্তিশালী করতে হবে।’’

শরণার্থী ঠেকাতে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে ইউরোপীয় ইউনিয়নও পিছিয়ে নেই। চলতি বছরের শেষ দিকে গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে কৌশলগত ক্রসিংপয়েন্টে অবৈধ অভিবাসন রোধে ইস্পাতের প্রাচীর স্থাপন করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে একটি প্রযুক্তিগত অস্ত্রাগারও মোতায়েন করা হবে।

আরও পড়ুন>>ইটালিগামী আফগান অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আটক করলো তুরস্ক

ইউরোপিয়ান ডিজিটাল রাইটস (ইডিআরউ )-এর এর সদস্য এলা জাকুবসকা ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, ‘‘বারবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল এমন ব্যয়বহুল প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব প্রযুক্তি দ্বারা মানুষের চলাচলকে অত্যন্ত অমানবিকভাবে নজরদারি করা হয় যেন তারা অপরাধী।”



এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন