জার্মানিতে কর্মক্ষম অভিবাসীদের প্রতীকী ছবি | ছবি: ইমাগো
জার্মানিতে কর্মক্ষম অভিবাসীদের প্রতীকী ছবি | ছবি: ইমাগো

বয়স্ক নাগরিক আর জন্মহারের নিম্নগতির কারণে কর্মী সংকটে পড়তে যাচ্ছে জার্মানি৷ এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম বিভাগ৷ প্রতি বছর অন্তত চার লাখ দক্ষ অভিবাসী এনে চাহিদা মেটানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান৷

জার্মানির জনসংখ্যার বড় একটি অংশই বয়স্ক নাগরিক৷ প্রতিবছর চাকরি থেকে যারা অবসর নিচ্ছেন তাদের শূন্য স্থান পূরণ করার মতোও দেশটিতে যথেষ্ট তরুণ জনগোষ্ঠী নেই৷ এমন অবস্থায় ফেডারেল শ্রম বিভাগের চেয়ারম্যান ডেটলেফ শিলে সতর্ক করে বলেছেন, চাহিদা পূরণে এখন থেকেই দক্ষ অভিবাসীদের নিয়োগ শুরু না করলে সামনের দিনে বড় ধরনের কর্মী সংকটে পড়বে জার্মানি৷  

 মঙ্গলবার দেশটির সংবাদমাধ্যম জ্যিউডডয়েচে সাইটুংকে শিলে জানান, শুধু চলতি বছরই কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দেড় লাখ কমবে৷ সামনের বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরো নাটকীয়ভাবে বাড়তে থাকবে৷ তিনি বলেন, ‘‘বাস্তবতা হলো জার্মানিতে কর্মী ফুরিয়ে যাচ্ছে৷ আমাদের প্রতি বছর চার লাখ অভিবাসী প্রয়োজন, যা বিগত বছরগুলোর হিসাবের চেয়েও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বেশি৷’’

 কোন কোন খাতে কর্মী প্রয়োজন সেটিও জানিয়েছেন শিলে৷ ‘‘নার্সিং সেবা ও জলবায়ু প্রযুক্তিবিদ থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপক ও গবেষক , সবখাতেই দক্ষ কর্মীর ঘাটতি তৈরি হবে,’’ বলেন তিনি৷

 আসছে সেপ্টেম্বরের নির্বাচনেও জার্মানিতে অভিবাসন ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে৷ বিশেষ করে সিরিয়া সংকটের পর ২০১৫ সাল থেকে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে চলছে রাজনৈতিক বিতর্ক৷ তবে সোশ্যাল ডেমোক্রেট দলের নেতা শিলে অভিবাসীদের দিয়ে কর্মী চাহিদা পূরণের বিষয়টিকে এই বিতর্কের চেয়ে আলাদা করেই দেখতে চান৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা আশ্রয় দেয়ার কোন বিষয় নয় বরং শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণে পরিকল্পিত অভিবাসন৷’’

কিভাবে কর্মী ঘাটতি মেটাতে পারে জার্মানি?

 করোনার বিধিনিষেধ ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির শ্রম বাজারে অভিবাসীদের প্রবেশের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে৷ আট কোটি ৩০ লাখ জনগোষ্ঠীর জার্মানিতে গত বছর অভিবাসীদের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র দুই লাখ চার হাজার, যা গত এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন৷

চাহিদা পূরণে অদক্ষ কর্মীদের প্রশিক্ষণ, পেশা হারানো মানুষদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া, কর্মঘণ্টা বাড়ানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ আছে৷ কিন্তু শিলে বলছেন এসব করেও আসলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না৷ তার মতে একমাত্র উপায় হচ্ছে অভিবাসন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো৷ 

 জার্মানির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাবে দেশটিতে গত বছর বিদেশি পেশাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের আবেদন তিন শতাংশ কমেছে৷ যদিও ২০২০ সালে মার্চে এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করেছিল সরকার৷ 

 সরকারের এসব উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন এফডিপি দলের শ্রমনীতি সংক্রান্ত সংসদীয় ককাশের মুখপাত্র ইয়োহানেস ফোগেল৷ বিদায়ী জোট সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল নতুন অভিবাসন আইন সেগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছে৷ ‘‘আমাদের অবশ্যই মেধাবীদের আকর্ষণের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরো ভালো করতে হবে৷ এজন্য প্রয়োজন একটি আধুনিক, যথাযথ অভিবাসন ব্যবস্থা যা ক্যানাডা, নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে,’’ বলেন ফোগেল৷

জার্মানির সরকারি শ্রম বিভাগ | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/ডিপিএ
জার্মানির সরকারি শ্রম বিভাগ | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/ডিপিএ

অভিবাসন বিরোধী মনোভাব কার্যকর নয়

কর্মী চাহিদা পূরণে জার্মানির শ্রমিকদের সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব জার্মান ট্রেইড ইউনিয়নস কিছু প্রস্তাব দিয়েছে৷ ডুলডুং বা ফেরত পাঠানোর তালিকায় রাখাদের এবং যারা মানবিক কারণে দেশটিতে অবস্থান করছেন তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদী কাজের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা৷  

 তবে অভিবাসনবিরোধীরা বরাবরই এ ধরনের সুযোগ বা অভিবাসীদের এনে কর্মী চাহিদা পূরণের বিরোধিতা করে৷ দেশটির কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দল এএফডি এমনকি শ্রম বিভাগের চেয়ারম্যানের বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছে৷ বিদেশ থেকে কর্মী আনার সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবকে তারা অকল্পনীয় দাবি হিসেবে অভিহিত করেছে৷ দলটি থেকে উল্টো অভিযোগ করে বলা হয়েছে, শিলে কোম্পানিগুলোর স্বার্থে জার্মানির কর্মীদের বেতন কমানোর জন্যই এমন প্রস্তাব করেছেন৷ 

 তবে তাদের বিরোধিতা নিয়ে চিন্তিত নন শিলে৷ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আপনি বলতেই পরেন যে, ‘আমরা বিদেশি চাই না’৷ কিন্তু এটা কার্যকর না৷’’ 

 এফএস/এসএস (এপি, ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন