আলিয়া ইসা, শরণার্থী প্যারা অলিম্পিক দলের প্রথম প্যারা অ্যাথলেট। ছবিঃ Joe Toth / OIS/IOC / AFP
আলিয়া ইসা, শরণার্থী প্যারা অলিম্পিক দলের প্রথম প্যারা অ্যাথলেট। ছবিঃ Joe Toth / OIS/IOC / AFP

প্যারা অলিম্পিকের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো রিফিউজি বা শরণার্থী ক্রীড়াবিদদের দল প্রতিনিধিত্ব করবে। সিরিয়ার বংশোদ্ভূত এই প্রতিযোগী প্যারা অলিম্পিকের ইতিহাসে প্রথম শরণার্থী নারী হিসেবে জ্যাভলিন থ্রো-তে অংশ নিতে যাচ্ছেন।

২০ বছর বয়সি আলিয়া ইসা প্যারালিম্পিক গেমসে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। টোকিওতে শরণার্থী দলের প্রথম নারী প্যারা-অ্যাথলেট প্রতিযোগী হিসেবে তিনি অংশ নিবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘তিনি টোকিওতে শরণার্থী দলের দুই পতাকা বহনকারীর একজন হতে পেরে আমি "খুব গর্বিত" এবং "খুব খুশি"। এবারের প্যারা অলিম্পিকে মোট ছয়জন শরণার্থী প্যারা-অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করবে ।


"প্রতিদিন খেলাধুলা করার চেষ্টা করুন"

আলিয়া ইসা ২০০১ সালে গ্রিসে এক সিরীয় শরণার্থী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রিক সংবাদমাধ্যম আমনা’র তথ্য অনুযায়ী, তার বাবা উন্নত জীবনের সন্ধানে গ্রিসে এসেছিলেন। ৪ বছর বয়সে আলিয়া দুর্ভাগ্যবশত গুটিবসন্তে আক্রান্ত হন, এটির সংক্রমণ তার স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে হুইল চেয়ারের সাহায্যে চলাফেরা তার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং কথা বলতেও অসুবিধা শুরু হয়।

আলিয়া গ্রিক সংবাদমাধ্যম আমনাকে বলেছিলেন, "আমার সামঞ্জস্য করা কঠিন ছিল কারণ আমার কোনও সঙ্গী বা বন্ধু ছিল না, বাচ্চারা আমাকে নিয়ে মজা করত।" মাত্র তিন বছর আগে তিনি কলেজের তিনি ক্রীড়া ক্লাবে জ্যাভলিন নিক্ষেপ সম্পর্কে জানতে পারেন। গত জুন মাসে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে চতুর্থ স্থান অর্জন করার আগ পর্যন্ত এই তরুণী অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আসছিলেন।

একই সময়ে তিনি কলেজে পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছেন এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নের স্বপ্ন দেখছেন। এটি তার বাবার স্বপ্ন, আলিয়ার ১৬ বছর বয়স তখন তা বাবা ক্যান্সারে মারা গিয়েছিলেন। আলিয়া বলেন, "আমার বাবা, যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে প্যারা অলিম্পিকে আমার অংশগ্রহণ দেখে গর্ববোধ করতেন।"


এই প্রতিযোগিতায় যোগদানের মাধ্যমে তিনি প্রতিবন্ধী জীবনযাপনকারী অন্যান্য শরণার্থী নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। শরণার্থী দলের সংবাদ সম্মেলনের সময় তিনি বলেছিলেন "সারাক্ষণ বাসায় বসে থাকবেন না, প্রতিদিন অল্প হলেও খেলাধুলা করার চেষ্টা করুন, বাইরের পৃথিবীতে থাকুন। আমি আশা করি একদিন আমি অনুসরণ করার মতো প্রথম উদাহরণ হব।" আলিয়া পরবর্তীতে গ্রিক জাতীয়তা পেয়ে দেশটির পতাকা গায়ে প্যারা অলিম্পিকে অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখছেন।


এমএইউ/এআই