লিপা ক্যাম্পে এক অভিবাসনপ্রত্যাশী | ছবি: ইপিএ
লিপা ক্যাম্পে এক অভিবাসনপ্রত্যাশী | ছবি: ইপিএ

আফগানিস্তান থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বসনিয়ার লিপা ক্যাম্পে আটকে আছেন ২৩ বছর বয়সি ফাওয়াদ খান। দেশের পরিস্থিতি ভাবাচ্ছে তাকেও।

আফগানিস্তানের তালেবান দখল উদ্বিগ্ন করছে দেশের বাইরে থাকা সকল আফগানদের। এর ব্যতিক্রম নন সুদূর বসনিয়ার লিপা ক্যাম্পে থাকা আফগান অভিবাসনপ্রত্যাশীরাও। এমনই এক অভিবাসনপ্রত্যাশী ২৩ বছর বয়সি যুবক ফাওয়াদ খান।

কাবুল বিমানবন্দরের দৌড়ঝাঁপ ও মৃত্যুর দৃশ্য গোটা দুনিয়ার মতো সেও দেখেছে মোবাইলের স্ক্রিনেই। ফাওয়াদের আশা, একদিন পশ্চিম ইউরোপের কোনো দেশে সফলভাবে পৌঁছে তার ভাইকে আফগানিস্তান থেকে নিয়ে আসবে।

বৃহস্পতিবার বসনিয়ার বিহাচ শহরের লিপা ক্যাম্প থেকে ফাওয়াদ বলেন, "আফগানিস্তানের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। সবাই চাইছে দেশ ছেড়ে কোথাও গিয়ে নতুন, ভালো জীবন শুরু করতে।"

উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার আফগান ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ভিড় করেছেন বসনিয়াসহ বলকান রুটের দেশগুলিতে। বসনিয়া থেকে ক্রোয়েশিয়ায় ঢুকতে চেষ্টা করেন এই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।

তালেবান ক্ষমতায়, চিন্তিত অভিবাসনপ্রত্যাশীরা

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে প্রবেশের এই জায়গায় আফগানরা এসেছেন কয়েক মাস আগে। কেউ কেউ এসেছেন এক বছরেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নতুন করে চিন্তায় ফেলছে এইসব অভিবাসনপ্রত্যাশীদের। বিশেষ করে, দেশে থাকা প্রিয়জনদের কথা তাদের মাথায় ঘুরছে সব সময়।

যদিও সম্প্রতি ক্ষমতায় আসা তালেবান কথা দিয়েছে দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানোর পাশাপাশি নাগরিকদের মানবাধিকার সংরক্ষণের৷ কিন্তু ফাওয়াদ এবিষয়ে যথেষ্ট সন্দিহান।

ফাওয়াদের দাবি, দু'বছর আগে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় সে, কারণ তার পরিবারের কাছে টাকা ছিল না৷ আর সেও কোথাও কোনো কাজ পাচ্ছিল না। এর সাথে, দৈনন্দিন অনিশ্চয়তা ও তালেবানের সহিংস আচরণ জীবনকে আরো কঠিন করে তুলছিল।

তিনি বলেন, "মার্কিন বাহিনীকে সমর্থন করা মানে উল্টোদিকে তালেবান রয়েছে। তারা কাউকে পশ্চিমাদের সাথে কাজ করতে দিত না।"

বর্তমান পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে বলে মনে করেন ফাওয়াদ। তালেবানের ক্ষমতায় আসার ফলে ডাক্তার দেখানো বা বাজারে যাওয়ার মতো সাধারণ জিনিসও দুষ্কর হবে বলে তার মত। 

তিনি বলেন, "আমি ইউরোপে যেতে চাই কারণ তাহলে আমার ভাইকে এখানে আসতে সাহায্য করতে পারব আমি।"

ইউরোপে প্রবেশ সহজ নয়

গত চার মাসে ফাওয়াদ অন্তত দশবার চেষ্টা করেছে ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপে ঢোকার। প্রতিবারই সীমান্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে। ফাওয়াদ জানায়, ক্রোয়েশিয়া পুলিশ তাকে মারধর করেছে। তার জুতা নিয়ে বসনিয়া সীমান্তের ওপারে নদীতে ঠেলে ফেলে দিয়েছে ।

বসনিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে জামাকাপড় ও জুতা দেয়। তারপর লিপা ক্যাম্পে অন্যান্য অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সাথে এনে রাখে।

বৃহস্পতিবার লিপা ক্যাম্পে চলছিল করোনা টিকাদানের প্রক্রিয়া। অভিবাসনপ্রত্যাশীরা সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে নেন এই টিকা।

বলকান অঞ্চলে করোনা সংক্রমণ বাড়ার মাঝেও যে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা টিকা পাচ্ছেন তাতে খুশি ফাওয়াদ। কিন্তু তার মাথায় রয়েছে অন্য দুশ্চিন্তা। হোয়াটসাপে নিয়মিত কথা বলার পর, গত দুই সপ্তাহ থেকে নিজের ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছে না ফাওয়াদ।

আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফাওয়াদের একমাত্র গন্তব্য ইউরোপ। সে বলে, "এখানে ক্রোয়েশিয়া পুলিশই সবচেয়ে বড় বাধা। আমরা তাড়াতাড়ি পেরোতে চাই সীমান্ত, কারণ দেশে পরিস্থিতি ভালো নয়। আমরা তাড়াতাড়ি গিয়ে আমাদের পরিবারকে সাহায্য করতে চাই। আমাদের সবার জন্য এই সময়টা খুব কঠিন।"

এসএস/আরআর (এপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন