মালকো টার্নোভো শহরের কাছে বুলগেরিয়া এবং তুরস্কের সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী টহল, ২০১৬ সালের ২২ মে তোলা ছবি। ছবিঃ এএফপি
মালকো টার্নোভো শহরের কাছে বুলগেরিয়া এবং তুরস্কের সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী টহল, ২০১৬ সালের ২২ মে তোলা ছবি। ছবিঃ এএফপি

"অভিবাসন চাপ" মোকাবেলায় গ্রিস এবং তুরস্কের সাথে সীমান্তে চারশ থেকে সাতশ সৈন্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুলগেরিয়া সরকার।

পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সীমান্তে চলছে ব্যাপক সামরিকীকরণ। পোল্যান্ডের পর এবার বুলগেরিয়াও ২৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার, গ্রিস ও তুরস্কের সীমান্তে ৪০০ থেকে ৭০০ সৈন্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জি পানায়োটভ দেশটির দক্ষিণে বুলগেরিয়ান-আমেরিকান বাহিনীর যৌথ মহড়া চলাকালীন একটি অনুষ্ঠানে বলেন, “সৈন্যরা সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণ কাজ তদারকির পাশাপাশি প্রয়োজনে বর্ডার পুলিশ এবং আধা সামারিক বাহিনীকে সহায়তার মাধ্যমে একটি সুরক্ষা মিশন নিশ্চিত করবে।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে গ্রেফতারকৃত অবৈধ আফগানদের সংখ্যা বৃদ্ধির পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি সংবাদ বিবৃতিতে মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "বুলগেরিয়া সীমান্তে চাপ বাড়ছে।"

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির অন্যান্য রাজনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সীমান্তে সামরিক বাহিনীকে ব্যাপক শক্তিশালী করা হয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে দেশটি ইতিমধ্যে দক্ষিণ-পূর্বে তুরস্কের সাথে থাকা সীমান্তে ২৫৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করেছে। এর মধ্যেও সীমান্তে নজরদারির অভাবের কারণে কিছু অভিবাসী বুলগেরিয়া প্রবেশ করে ট্রানজিট করতে সক্ষম হয়েছিল।

বুলগেরিয়ার দক্ষিণে তুরস্ক ও গ্রিসের সাথে থাকা সীমান্ত। ছবিঃ গুগল ম্যাপ
বুলগেরিয়ার দক্ষিণে তুরস্ক ও গ্রিসের সাথে থাকা সীমান্ত। ছবিঃ গুগল ম্যাপ

"অমানবিক অভিবাসী দমন"

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দরিদ্রতম সদস্য রাষ্ট্র বুলগেরিয়া নিজে কখনোই বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে গ্রহণ করেনি। সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রায় সকল অভিবাসীদের জন্য এটি একটি ট্রানজিট পয়েন্ট মাত্র। এক্ষেত্রে অভিবাসন সমস্যাটিকে দেশটি প্রাথমিকভাবে একটি নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৮ সালের মার্চে রাজধানী সোফিয়ায় ইউরোপীয় রাষ্ট্র প্রধানদের নিয়ে আয়োজিত একটি শীর্ষ সম্মেলনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ইয়ানা ডোডনিকোভা, "বুলগেরিয়ার সীমান্ত পুলিশের অমানবিক পুশব্যাককে ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে একটি অবৈধ অনুশীলন" বলে নিন্দা জানিয়েছিলেন।

ভয়েস অব বুলগেরিয়ার আইনজীবী রাডোস্টিনা পাভলোভার মতে, বিদেশিদের বিরুদ্ধে বুলগেরিয়ায় "ব্যাপক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য" রয়েছে। তিনি তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদালুকে বলেন, “সীমান্তে জাতীয়তাবাদী জঙ্গিদের নিয়ে গঠিত সশস্ত্র মিলিশিয়া পুলিশকে অভিবাসীদের আটকাতে সাহায্য করছে।"

তিনি আরও বলেন, “এই গোষ্ঠীগুলি গোপনে কাজ করে এবং তাদের সাথে বেশ কয়েকজন সেলিব্রেটির সমর্থনও রয়েছে। এই সশস্ত্র গ্রুপগুলো সামাজিক নেটওয়ার্কগুলিতে তাদের কার্যক্রমের ভিডিওগুলি, কখনও কখনও খুব নির্দয়ভাবে সম্প্রচার করে থাকে। এসব ভিডিওতে তাদের কর্মীদের মানুষকে আটক, মারধোর এবং বাধা দিতে দেখতে পাওয়া যায়।”

বুলগেরিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সের নৃবিজ্ঞানী এবং অভিবাসীদের সাহায্য সংস্থার সাথে জড়িত মিলাদিনা মনোভার গত বছর ফরাসি পত্রিকা লিবেরাসিওঁকে বলেছিলেন,"২০১৫ সাল থেকে শরণার্থীদের মধ্যে বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে যে সীমান্তে মারধর ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি থাকায় এই দেশ দিয়ে ট্রানজিট এড়িয়ে যাওয়া উত্তম।"

সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য নিয়ে, বুলগেরিয়া তার অনুপ্রবেশ-বিরোধী অস্ত্রাগারকে শক্তিশালী করে প্রামণ করতে চাচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশগুলোর মতো তারাও আফগানিস্তান থেকে সম্ভাব্য বিপুল অভিবাসী আগমন নিয়ে শঙ্কিত। 

অবশ্য ইইউ এই ইস্যুতে এখনো দ্বিধাবিভক্ত, আগামী মঙ্গলবার ইইউ দেশগুলোর ২৭ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আফগানিস্তানে তালেবানদের দখল এবং ৩১ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসবেন।



এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন