সুদানের দারফুর অঞ্চলের গৃহহীন নারীরা| ছবি: ইপিএ
সুদানের দারফুর অঞ্চলের গৃহহীন নারীরা| ছবি: ইপিএ

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, সাত শিশুসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি দল স্পেনে প্রবেশ করতে গিয়ে নৌকা ডুবে প্রাণ হারায়। তাদের বড় একটি অংশই আফ্রিকান নারী।

ওয়াকিং বর্ডার্স শরণার্থী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হেলেনা মালেনো জানান,অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে একটি নৌকা গত ১৫ আগস্ট আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন সাহারা অঞ্চলের দাখলা বন্দর থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়

বার্তা সংস্থা এপির খবর অনুযায়ী, নৌকাটিকে গত শুক্রবার, অর্থাৎ যাত্রা শুরুর দু সপ্তাহ পর ক্যানারি দ্বীপ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে এল হিয়েরো অঞ্চলে মৎস্যজীবীরা দেখতে পান।

ভাসমান নৌকা থেকে উদ্ধার করা হয় ২৭জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে। ছিল চারজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃতদেহও। বেঁচে ফেরা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জানান, নৌকায় তাদের সাথে যাত্রা শুরুর সময়ে আরো অন্তত ২৪জন ছিল।

তারা আরো জানান, এই যাত্রায় তাদের সাথে ছিল মোট আটজন শিশু, যদিও জীবিত উদ্ধার করা গেছে শুধু একটি শিশুকন্যাকে।

বাড়ছে নারী অভিবাসনপ্রত্যাশী

বার্তাসংস্থা এপি-কে মালেনো বলেন, "এই পথে নারীদের আগমন লক্ষণীয়ভাবে বাড়ছে। শুধু তাই নয়, যাত্রাসঙ্গী হিসাবে এই নারীরা বেছে নিচ্ছেন এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের, যাদের নিজেদেরই সাগরপথ সম্বন্ধে কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা বা ধারণা নেই। অথচ তারাই নৌকা চালানোর মূল দায়িত্বে থাকেন সাধারণত।"

আফ্রিকার বেশ কিছু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নারীর প্রতি সহিংস আচরণের অভিযোগ রয়েছে। ফলে, বহু নারী এই ধরনের পরিবেশ থেকে, বিশেষ করে যৌনাঙ্গচ্ছেদ, পাচার, ধর্ষণের মতো, অত্যাচার থেকে বাঁচতে এই পথ বেছে নেন।

"অনেকে তো গর্ভবতী অবস্থাতেই সাগরে নেমে পড়েন। কেউ কেউ সাথে অল্পবয়সি শিশুকে সাথে নিয়েও আসেন", জানান মালেনো।

আইওএম জানায়, এই যাত্রায় যে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রাণ হারান, তাদের মৃতদেহ সাগরে ফেলে দিয়েছে তাদের যাত্রাসঙ্গীরা।

ক্যানারি দ্বীপ কর্তৃপক্ষ মোট মৃতের সংখ্যা ২৯ বলে জানিয়েছে। এক নারীকে সাগরে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেলেও তীরে আনার পর তার মৃত্যু হয়।

এসএস/এসিবি (এপি, এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন