তুরস্কে অপেক্ষারত আফগান শরণার্থীরা | ছবি: ইমাগো
তুরস্কে অপেক্ষারত আফগান শরণার্থীরা | ছবি: ইমাগো

আফগান সংকট ইউরোপগামী অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের পালে হাওয়া দিচ্ছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটা বড় অংশ আসছেন তুরস্ক থেকে সাগরপথে। তুরস্ক থেকে ইউরোপগামী অভিবাসনের ঢল গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে এসে ঠেকেছে বর্তমানে।

জার্মানির ভেল্ট আম জনটাগ পত্রিকার মতে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত জলপথে তুরস্ক থেকে গ্রিসে এসে পৌঁছেছেন চার হাজার ৫৭৭জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থী। একই সময়ে, জলপথে তুরস্ক থেকে ইটালিতে পৌঁছেছেন চার হাজার ৭৩৯জন। গত সপ্তাহেই এসেছেন ৬৭০জন।

তুরস্কে ইতিমধ্যেই বাস করে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সিরিয়ান শরণার্থী। সেই দেশটিতে এখন আফগান সংকটের পর আফগান অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ বিপুল হারে বাড়ছে।

ইউরোপের অবস্থান বদলের প্রয়োজনীয়তা

ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন রুটে এবছর ইটালিতে এসে পৌঁছেছেন ৩৯ হাজার ১৮৩ অভিবাসনপ্রত্যাশী, জানাচ্ছে ভেল্ট আম জনটাগ। এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৮৩ শতাংশ বেশি। এই পরিসংখ্যান পত্রিকাটি জানাচ্ছে ইউরোপিয়ান কমিশনের একটি রিপোর্তের বরাত দিয়ে।

স্পেনেও আগের বছরের তুলনায় সাগরপথে আগমনের সংখ্যা বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। বিশেষ করে, আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে আগমন ও সেই পথে মৃত্যুর খবর প্রতিনিয়ত থাকছে সংবাদ শিরোনামে।

এর মধ্যেও, ইইউ কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্গারিটিস শিনাস ইইউ-সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে আহ্বান জানান 'ড্যামেজ কন্ট্রোল' নীতির বদলে একটি যৌথ অভিবাসন নীতির কথা ভাবতে। শিনাস বলেন, "এখনই সময় ইউরোপিয়ান অভিবাসন নীতির জন্য একটি নির্ভরযোগ্য, সার্বিক কাঠামো গড়ার।"

নজরে আফগান শরণার্থীদের ঢল

জার্মান সংবাদপত্রটি জানাচ্ছে, সাম্প্রতিককালে ইউরোপগামী জনস্রোতের সবচেয়ে বড় অংশে রয়েছে আফগানরা, যারা তালেবানের নিয়ন্ত্রণ থেকে পালাতে চাইছে। গত বছর পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ধরে, জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদনকারী ছিলেন সিরিয়ান নাগরিকরা। এই বছর চলমান আফগান সংকট তা বদলে দিয়েছে। সিরিয়ানদের টপকে এই তালিকায় শীর্ষে আফগানিস্তানের নাগরিকরা।

বর্তমানে, জার্মানিতে রয়েছেন মোট দুই লাখ ৮০ হাজার আফগান, এবং এই সংখ্যা বাড়ছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম বলছে, ইতিমধ্যেই চলতি বছরে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন পাঁচ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি আফগান।

জার্মান পুলিশ ইউনিয়নের পক্ষে হাইকো টেগগাৎজ ভেল্ট আম জনতাগ পত্রিকাকে বলেন, "আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে জার্মান সীমান্তগুলিতে ব্যস্ততা ব্যাপকভাবে বাড়বে বলে আমাদের ধারণা।"

এসএস/কেএম (এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন