ডেনমার্কে বসবাসরত অভিবাসীরা (ফাইল ছবি)। ছবিঃ পিকচার এলায়েন্স
ডেনমার্কে বসবাসরত অভিবাসীরা (ফাইল ছবি)। ছবিঃ পিকচার এলায়েন্স

ডেনিশ সরকার মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে ডেনমার্কে এখন থেকে অভিবাসীদের সামাজিক সুবিধা পেতে সপ্তাহে ৩৭ ঘন্টা বাধ্যতামূলক কাজ করতে হবে। দেশটির বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপের নিন্দা জানালেও কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এটি সমাজে অভিবাসীদের অবস্থান সংহত করতে সাহায্য করবে।

ডেনিশ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার ৭ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করেছে, দেশটিতে বসবাসরত অভিবাসীদের এখন সামাজিক সুবিধার যোগ্যতা অর্জনের জন্য সপ্তাহে কমপক্ষে ৩৭ ঘন্টা কাজ করতে হবে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "আমরা কাজের জন্য একটি নতুন যুক্তি চালু করতে চাই। সমাজের উন্নয়নে সবার অবদান রাখা এবং উপযোগী হওয়ার দায়িত্ব আছে,। যদি তারা নিয়মিত চাকরি খুঁজে না পায় সেক্ষেত্রে সরকার থেকে ভাতা পেতে হলে তাদেরকে বাধ্যতামূলক কাজ করতে হবে।” 

 তিনি আরও বলেন, "অনেক বছর ধরে আমরা অনেক লোককে কোনো বিনিময় ছাড়াই অনেক অনুগ্রহ করেছি।"

প্রাথমিকভাবে সরকারের লক্ষ্য হল, ডেনমার্কের ৯৮টি অঞ্চলে থাকা ২০,০০০ লোককে চাকরি খোঁজার জন্য চাপ দিয়ে একীভূত করা।

"মানুষ যাতে ঘর ছেড়ে বের হয়"

কর্মসংস্থান মন্ত্রী পিটার হামারলগার্ড বলেন, "বাধ্যতামূলক কাজ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন, সৈকতে সিগারেটের বাট বা প্লাস্টিক সংগ্রহ করা অথবা কোন কোম্পানির বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করা ইত্যাদি। তিনি আরও বলেন, "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল লোকেরা যেন অন্তত বাসায় না থেকে বাইরে বের হয়।"

তার প্রস্তাবিত বিলে একটি পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে, মাগরেব অঞ্চল(আলজেরিয়া, টিউনিশিয়া,মরক্কো, সিরিয়া), তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্য আসা অভিবাসীদের দশজনের মধ্যে ছয় জনই ডেনিশ শ্রম বাজারের বাইরে।

বিলটি পাশ হওয়ার পরে প্রথমে, যেসব অভিবাসী ৩/৪ বছর ধরে সামাজিক সুবিধা পাচ্ছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত নূন্যতম শিক্ষা এবং ডেনিশ ভাষার একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত দক্ষতা অর্জন করতে পারেন নি তাদের ক্ষেত্রে আরোপ করা হবে।

দেশটির বামপন্থি দলের মুখপাত্র মাই ভিলাদসেনের বলেছেন, "এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সামাজিক নিষ্পেষণের হাতিয়ার হতে পারে। এটি দ্বারা মানুষকে কঠোর কায়িক পরিশ্রম ও বিবেকহীন কাজে পাঠানো হতের পারে" এই আশঙ্কায় বিরোধী দলটি এই পদক্ষেপের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছে।

উদ্দেশ্য: "শূণ্য শরণার্থী" 

ডেনিশ সরকার এই নতুন আইনের মাধ্যমে অভিবাসীদের সমাজে একীভূত হতে সাহায্য করবে বলে গর্ব করছে।

ডেনমার্ক বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে কঠিন অভিবাসন নীতি অনুসরণ করছে। জুন মাসে পাস করা একটি আইনে বলা হয়েছে , “ডেনমার্কের সমস্ত আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় আবেদন নিবন্ধিত হয়ে গেলে তাদেরকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে একটি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পাঠানো হবে।” 

এ ব্যাপারে অধিকার সংগঠন এবং এনজিওগুলি বলছে, “ যদি কোন তৃতীয় দেশ এই স্থানান্তর প্রকল্প গ্রহণ না করে, তাহলে এই আইনটি আশ্রয়ের অধিকারের নীতি লঙ্ঘন করবে।”

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্তৃপক্ষ অভিবাসী বিরোধী বহু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যেমন, সিরিয়ান শরণার্থীদের রেসিডেন্ট পারমিট প্রত্যাহার করা যেন তাদের আদি অঞ্চলগুলি নিরাপদ থাকে, "অ-পশ্চিমা" অভিবাসীদের সংখ্যা সীমাবদ্ধ করার লক্ষ্যে কঠোর ঘেটো-বিরোধী আইন পাস সহ এ ধরনের নানান আইনের মাধ্যম দেশটিতে "শূন্য শরণার্থী" লক্ষ্য অর্জনই সরকারের উদ্দেশ্য।



এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন