লিথুয়ানিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশী | ছবি: এপি
লিথুয়ানিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশী | ছবি: এপি

লিথুয়ানিয়া শেষমেষ পাঁচ আফগানকে দেশটিতে প্রবেশ করতে দিয়েছে, যদিও এর আগে কয়েকবার তাদের বাধা দেয়া হয়৷ একটি ইউরোপীয় আদালতের নির্দেশনা মেনে মানবিক কারণে আফগানদের সুযোগ দিলেও অবৈধ অভিবাসন বন্ধে নিজেদের প্রতিশ্রুতি অটুট রাখার কথা আবারো জানিয়েছে দেশটি৷

এমনকি গতসপ্তাহেও ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে পাঁচ আফগানকে বেলারুশে ফেরত পাঠিয়েছিল লিথুয়ানিয়া৷ মানবাধিকার আদালতের বক্তব্য ছিল তালেবান কাবুল দখল করে নেয়ার পর আফগানরা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে, ফলে তারা আন্তর্জাতিক সুরক্ষা চাচ্ছে৷  

আলোচিত আফগানরা মঙ্গলবার আবারো লিথুয়ানিয়া প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদেরকে আর ফেরত পাঠায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ৷ 

‘‘ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের সিদ্ধান্তের পরও অনেক বিষয় এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি৷ আমাদের তদন্ত করতে হবে,’’ বলেন লিথুয়ানিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধান রুথামাস লিওভাহেমাস৷ 

সীমান্তরক্ষীরা এই বিষয়টি নিয়ে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷ 

লিথুয়ানিয়া আগস্টের শুরু থেকেই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠাচ্ছে৷ গত কয়েকসপ্তাহে শুধুমাত্র অল্পকিছু এরকম মানুষ দেশটির সীমান্ত অতিক্রম করতে পেরেছে৷ 

ইউরোপীয় আদালতে দেশটির আইনজীবী ক্যারোলিনা ব্যুবনিটে অবশ্য আফগানদের সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টি প্রত্যাহারে দাবি জানিয়েছিলেন৷ তিনি মনে করেন, এটা করা না হলে মানবাধিকার রক্ষায় লিথুয়ানিয়ার প্রতিশ্রুতিকে ‘‘দেশটির ভেতর দিয়ে অবৈধ অভিবাসনের পথ তৈরিতে’’ ব্যবহার করা হতে পারে৷  

উল্লেখ্য, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে ৪,১০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী লিথুয়ানিয়ায় প্রবেশ করেছেন৷ বেলারুশের উপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দেশটি প্রতিশোধ হিসেবে অভিবাসীদের লিথুয়ানিয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ বেলারুশও জানিয়েছে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর অভিবাসীদের আর আটকাবে না দেশটি৷ 

এআই/এসএস (রয়টার্স)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন