লিবিয়ার একটি আটক কেন্দ্রের ভেতরের দৃশ্য। ছবিঃ ইউরো মেড মনিটরের টুইটার থেকে সংগৃহীত।
লিবিয়ার একটি আটক কেন্দ্রের ভেতরের দৃশ্য। ছবিঃ ইউরো মেড মনিটরের টুইটার থেকে সংগৃহীত।

ইউরো-ভূমধ্যসাগরীয় মানবাধিকার মনিটর শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লিবিয়া কর্তৃপক্ষ একশরও বেশি মরোক্কান অভিবাসীকে কয়েক মাস ধরে কোন প্রকার আইনি যুক্তি ছাড়াই অমানবিক অবস্থায় আটকে রেখেছে।

লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি আটক কেন্দ্রে আটক শত মরোক্কান অভিবাসী, যার মধ্যে ঘাদেমস এলাকার কাছে আল-দারাজ আটক কেন্দ্র এবং ত্রিপোলির পশ্চিমাঞ্চলের আইন জারা এবং ঘৌত আল-শাল কারাগার। সবচেয়ে কঠিন অমানবিক পরিস্থিতির শিকার আল-দারাজ ডিটেনশন সেন্টারে আটক বন্দীরা যেখানে স্বাস্থ্যসেবার সংকটের মধ্যেই অনেকেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল।

কারাগার ও আটক কেন্দ্রের প্রশাসন বন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা (বিশেষত কোভিড -১৯ আক্রান্ত) পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার বা বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে বন্দীদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইউরো-মেড মনিটর বন্দী অভিবাসীদের মধ্যে ৮০টিরও বেশি পরিবারের কাছ থেকে সাক্ষ্য সংগ্রহ করে এ তথ্য জানিয়েছে।

আল-আওনি মুহম্মদ ইউরো-মেড মনিটরকে বলেন, তার ছেলে ২৩ বছর বয়সী মোস্তফা ২৬ মার্চ তারিখে মরক্কো ত্যাগ করে দেশটির ওজদা শহর হয়ে লিবিয়ায় চলে যান। ২২ এপ্রিল লিবিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত ঘাদেমস অঞ্চলে সীমান্ত রক্ষীদের চেকপোস্টে তাকে আটক করা হয়।

সে আমাদের ফোন জানায়, “ তাকে এবং আরো অনেক মরোক্কান অভিবাসী্দেরর সাথে আল-দারাজ ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। তাদেরকে পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি দেয়া হচ্ছে না। সে আরও জানায়, চলমান স্বাস্থ্যবিধি এবং বন্দীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে এই অবস্থাকে অত্যন্ত কঠিন।

আল-আওনি মুহম্মদ বলেন, “আমার ছেলের বিচার বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার হয়নি। আমরা এমন তথ্য পেয়েছি যে লিবিয়া কর্তৃপক্ষ তাদেরকে নির্বাসনে দিতে চায়, কিন্তু তারা মরক্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে লিবিয়া থেকে মরক্কোতে বন্দীদের স্থানান্তর করার জন্য আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষা করছে।”

আটককৃত বেশিরভাগ অভিবাসী মরক্কোর সীমান্ত অতিক্রম করে, স্থলপথে লিবিয়ায় পৌঁছায় এবং তারপরে লিবিয়ার অভ্যন্তরে পাচারকারীদের সমন্বয় ও সহায়তায় ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইটালীয় উপকূলের দিকে অভিবাসন যাত্রা শুরু করে।

ইটালীয় উপকূলে পৌঁছানোর পর আশ্রয় পেতে সুবিধা হবে এই ভেবে বেশিরভাগ অভিবাসীরা কোন প্রকার বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়াই মরক্কো ছেড়ে চলে যায়।


এরকম মরোক্কান অভিবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ আলজেরিয়া হয়ে প্রবেশের পর লিবিয়ার সীমান্ত রক্ষীদের দ্বারা আটক হয, এবং বাকিরা ইটালিতে অভিবাসনের চেষ্টা করার সময় লিবিয়ার কোস্টগার্ড বাহিনীর হাতে সমুদ্রে আটক হয়। তাদের সবাইকে গ্রেফতারের পরে সাধারনত লিবিয়ার পশ্চিমে উল্লেখিত ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।

ইউরো-মেড মনিটর লিবিয়ায় আটক মরক্কো অভিবাসীদের অবস্থার বিষয়ে লিবিয়ার বেশ কয়েকটি সরকারী কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

লিবিয়ায় আটক মরক্কোর অভিবাসীদের পরিবার তাদের সন্তানদের মুক্তির জন্য হস্তক্ষেপের দাবিতে রাজধানী রাবাতে অবস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরের বাইরে এ পর্যন্ত পাঁচটি সমাবেশ সংগঠিত করেছে। মরক্কোর সরকারি কর্মকর্তারা পরিবারগুলিকে এই সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু এই বিষয়ে উদ্যোগ এখনও সীমাবদ্ধ এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মরক্কো কর্র্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তেমন কোন আগ্রহ দেখা যায় নি। 

৬ সেপ্টেম্বর, মরক্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, "মরক্কোর কর্তৃপক্ষ লিবিয়ায় আটক ১৯৫ জন নাগরিককে ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের লিবিয়ান প্রতিপক্ষের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে। 

সূত্রটি আরও জানায়, আটককৃত নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্য লিবিয়ার সর্বোচ্চ স্তরের সাথে সমন্বয় রয়েছে।"



এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন