পোলিশ সীমান্তে কাটাতারের বেড়া দেয়া হচ্ছে | ছবি: পিকচার এলায়েন্স
পোলিশ সীমান্তে কাটাতারের বেড়া দেয়া হচ্ছে | ছবি: পিকচার এলায়েন্স

অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম এবং শরণার্থী বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বেলারুশের সঙ্গে পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়ার সীমান্তে যেতে অনুমতি চেয়েছে৷ পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে চার অভিবাসীর মৃত্যুর পর এই অনুমতি চেয়েছে জাতিসংঘের সংস্থা দু’টি৷

আইওএম এবং ইউএনএইচসিআর এক যৌথ বিবৃতিতে মঙ্গলবার জানিয়েছে যে পোলিশ-বেলারুশীয় সীমান্তে চার অভিবাসীর মৃত্যুর খবর তাদের ‘‘শোকাচ্ছন্ন এবং হতাশ’’ করেছে৷  

বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রাণহানির কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থা দু’টি৷ 

যদিও সীমান্তের পোল্যান্ডের অংশ প্রাণহারানো চার নারী ও পুরুষের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে ধারনা করা হচ্ছে তারা ইরাক থেকে এসেছিলেন৷ ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্তত দু’জনের মৃত্যুর কারণ হাইপোথার্মিয়া৷ 

অভিবাসী মৃত্যুর ঘটনার পর সীমান্তে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দ্রুত সেখানে যাওয়ার আগ্রহ দেখেয়েছে আইওএম এবং ইউএনএইচসিআর৷ এজন্য পোলিশ এবং লিথুয়ানিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়েছে সংস্থা দু’টি৷ 

জেনেভাকেন্দ্রিক সংস্থা দু’টি জানিয়েছে অনেক অভিবাসীকে বিরুপ আবহাওয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে যারা হাইপোথার্মিয়ায় ভুগছেন৷ কয়েকজনকে জলাভূমি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে৷

সংস্থা দু’টি জানিয়েছে, মূলত সীমান্তে অবস্থানরত মানুষদের ‘‘চিকিৎসা, খাদ্য, পানি এবং আবাসন সাহায্য দিতে’’ সেখানে যেতে চায় তারা৷

প্রসঙ্গত, গ্রীষ্মের শুরুর দিকে বেলারুশ অভিবাসীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশে বাধা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে হাজার হাজার অভিবাসী দেশটি থেকে প্রথমে বাল্টিক রাষ্ট্র লিথুয়ানিয়া হয়ে এবং পরবর্তীতে পোল্যান্ড হয়ে ধনী ইইউর ধনী দেশগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করে৷ তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জার্মানি, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের মতো দেশে পৌঁছানো যেখানে তাদের কারো কারো বন্ধু বা পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন৷ 

তবে, সীমান্ত দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া এবং লাটভিয়া জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে৷ আর জরুরী অবস্থা ঘোষণা করায় দেশগুলোর কিছু সীমান্ত এলাকায় সীমান্তরক্ষী আর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ছাড়া আর কেউ যেতে পারছে না৷

এআই/এসএস

 

অন্যান্য প্রতিবেদন