ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রঁ। (ফাইল ছবি)
ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রঁ। (ফাইল ছবি)

আলজেরিয়া, মরক্কো এবং তিউনিসিয়ার নাগরিকদের ভিসা প্রদানের শর্ত কঠিন করলো ফ্রান্স। টিভি চ্যানেল ‘ইউরোপ ১’ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, অনিয়মিত পরিস্থিতিতে থাকা নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করায় এই দেশগুলিকে দেওয়া ভিসার সংখ্যা দ্রুত ৫০% হ্রাস করা হবে।

মরক্কো, আলজেরিয়া এবং টিউনিসিয়ার নাগরিকদের ফ্রান্সের ভিসা আবেদনের শর্ত আরো কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্যারিস। 

ফরাসি সরকারের মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল আতাল মঙ্গলবার দেশটির ‘ইউরোপ ১’ টিভি চ্যানেলে একটি সাক্ষাৎকারে একথা বলেন। তিনি বলেন, "এই দেশগুলো এখানে অবস্থানরত অনিয়মিত নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রাজি নয় এবং আমরা তাদেরকে এভাবে রাখতে পারবো না।"

ফ্রান্সে বসবাসরত এই তিনটি দেশের অনিয়মিত অভিবাসীদের দেশগুলোতে ফেরত পাঠাতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ পাস জারি করতে এই তিনটি দেশ "অস্বীকৃতি" জানালে ফ্রান্স ভিসা পেতে আরও শর্তারোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷


গ্যাব্রিয়েল আতাল যোগ করেন, "এটি একটি কঠোর সিদ্ধান্ত যা বিগত দিনে কখনো নেয়া হয়নি। আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি কারণ এই দেশগুলি তাদের অনিয়মিত অভিবাসী নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নয় যাদেরকে ফ্রান্সে রাখা সম্ভব নয় এবং আমাদের দরকার নেই।" 

অবৈধ অভিবাসীদসের প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়ায় এই দেশগুলির কর্তৃপক্ষের জবাবে সরকার আলজেরিয়ান, মরক্কান এবং টিউনিশিয়ানদের ভিসার সংখ্যা হ্রাসের বিষয়টি নিশ্চিত করে গ্যাব্রিয়েল আতাল বলেন, "আমরা এই হুমকিকে কার্যকর করতে বাধ্য হয়েছি। এটি সত্যিই একটি কঠোর সিদ্ধান্ত।”

সরকারের এই মুখপাত্র দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “এই দেশগুলোর মনোভাব অভিবাসীদের স্বাভাবিক প্রত্যাবর্তনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। আমরা যৌথ সংলাপে আলোচনা করেছি, তারপর হুমকি ও সতর্কতা দিয়েছি। আজ আমরা এই হুমকি বাস্তবায়ন করছি।"

অর্ধেকে নিয়ে আসা হবে ভিসার সংখ্যা

আলজেরিয়ার ক্ষেত্রে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে, ফরাসি আদালত ৭৭৩১ জন অবৈধ অভিবাসীকে ফরাসি অঞ্চলত্যাগ করার আদেশ দেয় যার মধ্যে মাত্র ২২ জন বা ০.২% ফেরত গিয়েছে। আলজেরিয়া কনস্যুলার নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ পাস ইস্যু করতে অস্বীকার করায় তাদেরকে ফ্রান্স থেকে বহিষ্কার করা আইনত অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই বছর প্যারিসের করা ৮,০০০ অনুরোধের মধ্যে মাত্র ২০টি আবেদন কনস্যুলার গ্রহণ করে। 

বেশ কয়েকটি পন্থা, সংলাপ, উন্নয়ন সহায়তার শর্ত এবং অবশেষে হুমকির চেষ্টা করার পর অবশেষে নির্বাহী নিষেধাজ্ঞায় গেল ফরাসি কর্তৃপক্ষ। মাত্র এক মাস আগে অনেকটা নীরবেই ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধান আলজেরিয়া এবং মরক্কোর জন্য জারি করা ভিসার সংখ্যা অর্ধেক এবং টিউনিশিয়ার জন্য ৩০% কমিয়ে আনান সিদ্ধান্ত নেন। যেটি ২০২০ সালের ভিসা প্রদানের পরিসংখ্যানের উপর চোখ রাখলে সহজে বুঝা যায়। সরকারের মতে, এই তিনটি দেশ প্রকৃতপক্ষে কোনো প্রতিযোগিতায় ইচ্ছুক নয় তারা বাস্তবে প্যারিসকে ব্ল্যাকমেইল করছে।

২০২০ সালের প্রথম ৬ মাসে ৯৬,০০০ আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৬৩,০০০ ভিসা জারি করা হয়েছিল, অর্থাৎ ভিসা ইস্যু করার হার ৬৫% ।

অবশ্য এই চিত্রটি ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসে আরও কমে আসে, এ সময় আলজেরীয়দের তিনটি ভিসার আবেদনের মধ্যে দু’টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ফ্রান্স। 

এমানুয়েল ম্যাক্রঁ ‘ক্যায় দঅরসেই’ বা ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে আগামী ৬ মাসের জন্য সর্বোচ্চ ৩১,৫০০ ভিসা দিতে বলেছেন, অর্থাৎ দুই ভাগের এক ভাগ। ২০১৯ সালে ​আলজেরিয়ার নাকরিকদের রেকর্ড ২৭৫,০০০ ভিসা দেয়া হয়েছিল।

ফ্রান্স শেংগেন অঞ্চলের আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আর বেশি সময় বাকী নেই। অভিবাসনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মেয়াদকালের অভিবাসন রেকর্ড সংশোধন করতে মৌলিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই এমানুয়েল ম্যাক্রঁর হাতে।


এমএইউ/এআই (ফ্রান্স ইনফো/ইউরোপ১)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন