নিজের মেয়েদের নিয়ে প্যারিসে বসবাস করছেন পল | ছবি: প্রাইভেট
নিজের মেয়েদের নিয়ে প্যারিসে বসবাস করছেন পল | ছবি: প্রাইভেট

পলের সঙ্গে ইনফোমাইগ্রেন্টসের প্রথম কথা হয়েছিল ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে৷ সেসময় দুই জমজ কন্যাকে নিয়ে প্যারিসে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি৷ দেড় বছর পর তার সঙ্গে আবারো যোগাযোগ করে ইনফোমাইগ্রেন্টস৷ পল জানিয়েছেন পরিষ্কারভাবেই তার জীবনের উন্নতি হয়েছে৷ তার মেয়েদের আশ্রয়ের আবেদন গৃহীত হয়েছে৷ তবে তার আবেদন গৃহীত হয়নি৷

পলের সঙ্গে ২০২০ সালে যখন কথা হয়, তখন তিনি চরম অনিশ্চিত জীবনযাপন করছিলেন৷ তার থাকার কোনো স্থায়ী ঠিকানা ছিল না৷ ফরাসি সরকারের শরণার্থী বিষয়ক কার্যালয় ওফপ্রা-র কাছ থেকে আশ্রয়ের আবেদনের উত্তরের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি৷ 

চার বছরের দুই জমজ শিশুকে নিয়ে রাতের বেলা কখনো কখনো বাসে আশ্রয় নিতেন তিনি৷ মেয়ে দু’টো তখন স্কুলে যেতে পারতো না৷ এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে৷ 

সম্প্রতি তার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমার যমজ শিশুদের আশ্রয়ের আবেদন গৃহীত হয়েছে৷ গত গ্রীষ্মে ওফপ্রা আমাদের সেই তথ্য জানিয়েছে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আমার মেয়েরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী৷ আমি খুব খুশি৷’’

পল জানান, তার মেয়েদের মা এবং তিনি এখন তাদের শরণার্থী শিশুদের অভিভাবক৷ যদিও পল এবং তার সন্তানদের মায়ের আশ্রয়ের আবেদন গৃহীত হয়নি, তারপরও সন্তানদের কারণে তারা এখন প্যারিসে থাকতে পারছেন৷ শীঘ্রই নিজের মেয়েদের নিয়ে নিজস্ব পরিসরে থাকার অনুমতিও পেয়ে যেতে পারেন তিনি৷ 

ওফপ্রা অনেক সময় শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারলেও তাদের অভিভাবকদের আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করতে পারে না৷ প্রতিষ্ঠানটির এক সদস্য ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, ‘‘এমনটা হতে পারে যে একটি পরিবারের মধ্যে থাকলেও শিশুদের মধ্যে ভয় কাজ করতে পারে এবং সেই কারণে তাদের সুরক্ষা দেয়া হতে পারে৷ তবে এটা বড়দেরক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে৷’’

পল মনে করেন গত দেড় বছরে তার জীবনের উন্নতি হয়েছে৷ তার মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে৷ আশ্রয়ের আবদেন গৃহীত না হলেও তিনি ফ্রান্সে কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন৷ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পণ্য বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কাজ করছেন তিনি৷ ভবিষ্যত তিনি ট্রাক চালানোর বা নির্মাণ খাতসংশ্লিষ্ট কোনো যন্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে চান৷  

* শরণার্থীর প্রকৃত নাম ব্যবহার করা হয়নি

এআই/জেডএ

 

অন্যান্য প্রতিবেদন