পোল্যান্ড সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে সীমান্ত রক্ষীরা| ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
পোল্যান্ড সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে সীমান্ত রক্ষীরা| ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে চাপে রাখতে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার দিকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঠেলে দিচ্ছে বেলারুশ, এমনটা অভিযোগ করছে ইইউ। এই চাপ ঠেকাতে বেলারুশের প্রতি ভিসা নীতি আরো কঠোর করার দিকে যাচ্ছে ইইউ।

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রস্তাব, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বেলারুশের সাথে চালু 'ভিসা ফেসিলিটেশন' চুক্তি, যা ২০২০ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হয়, তা বাতিল করুক। ইইউ'র এই বিভাগটি বুধবার এই প্রস্তাব রেখেছে যাতে করে বেলারুশের রাষ্ট্রপ্রধান আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো অভিবাসন সংকট সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকেন।

ইইউ সদস্য রাষ্ট্র পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার ওপর এই চাপের ফলে অস্বাভাবিক সংখ্যায় ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এসে জুটেছেন এই দুটি দেশের সাথে থাকা বেলারুশিয়ান সীমান্তে। সমস্যা সমাধানে পোল্যান্ড সম্প্রতি সীমান্তে কড়াকড়ি ও সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে। লিথুয়ানিয়াও শক্ত করছে সীমান্ত সুরক্ষা।

২০২০ সালের আগস্ট থেকে বাড়ছে এই অঞ্চলে অভিবাসনের চাপ। লুকাশেঙ্কোর সরকারের সাথে ইইউ এর সম্পর্ক খারাপ হবার পর থেকে শুরু হয় অস্বাভাবিক হারে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বেলারুশ থেকে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টার।

প্রস্তাবের প্রভাব

ইইউ এর সাথে বেলারুশের সম্পর্ক উন্নত করতে স্বাক্ষরিত ভিসা চুক্তিটি ফেরত নিতে প্রস্তাব করেছে ইউরোপিয়ান কমিশন। এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়ে এর প্রভাব পড়বে বেলারুশিয়ান সরকার, নেতা, কূটনীতিকসহ বহু উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ওপর। বাড়বে ইউরোপে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি নথির প্রয়োজনীয়তা ও ভিসার জটিলতা।

ইউরোপের অভিযোগ, বেলারুশ রীতিমত আয়োজন করে অভিবাসীদের সেখানে নিয়ে আসছে, তাদের আপ্যায়ন করছে ও তারপর সীমান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ২৭টি রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ব্যক্ত করতে।

এবিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার ইলভা ইয়োহানসন বলেন, "এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিই। কিন্তু আমাদের এটা মাথায় রাখতে হবে যে এটা ইউরোপিয়ান সীমান্ত, শুধু পোল্যান্ড বা লিথুয়ানিয়ার সীমান্ত নয়।"

এই প্রস্তাবিত হিস্যা কড়াকড়ির কথা ঘোষণা করতে গিয়ে ইয়োহানসন বলেন, "লুকাশেঙ্কো চাইছে ইউরোপে অভিবাসীদের জোর করে পাঠিয়ে আমাদের অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবার। এভাবে সে টাকাও আদায় করে নিতে চায়। অনেক মানুষকে অভিবাসনের টোপ দেখিয়ে ঠকাচ্ছে লুকাশেঙ্কো।"

এসএস/কেএম (এপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন